ডিএনএ ব্যাংকের কার্যক্রম শুরু সিআইডি’র

0
262
ডিএনএ ব্যাংকের কার্যক্রম শুরু সিআইডি’র
ডিএনএ ব্যাংকের কার্যক্রম শুরু সিআইডি’র
বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-এর ডিএনএ ল্যাবরেটরি নাম পরিবর্তন করে ‘ডিএনএ ব্যাংক’ নামে কার্যক্রম শুরু করেছে। ডিএনএ ব্যাংক হলো দীর্ঘস্থায়ীভাবে সংরক্ষিত প্রতিটি ব্যক্তির ডিএনএ প্রোফাইল করা।
বুধবার সকালে সিআইডির গণমাধ্যম শাখার পুলিশ সুপার শারমিন জাহান এক বিজ্ঞপ্তিতে এতথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ধর্ষণ, অজ্ঞাত মৃতদেহ শনাক্তকরণ, পিতৃত্ব বিরোধ/নিষ্পত্তি, ডাকাতি, হত্যাসহ প্রায় ৬ হাজার মামলার বিপরীতে ১ হাজার ৬শ’ এর অধিক আলামত থেকে ২০ হাজার ডিএনএ প্রোফাইলিং করা হয়েছে। যা LIMS(Laboratory Information Management System) এর সার্ভারে সংরক্ষিত আছে। এগুলো সম্ভব হয়েছে ডিএনএ ল্যাবরেটরির কারণে।
এছাড়াও বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, আদালতের আদেশক্রমে জানুয়ারি ২০১৪ থেকে ডিএনএ প্রোফাইলিং এর কার্যক্রম শুরু হয়। ফরেনসিক ডিএনএ ল্যাবরেটরি অব বাংলাদেশ পুলিশ এর প্রথম আলামত গ্রহণ করা হয় ১৫ জানুয়ারি ২০১৪। ডিএনএ ব্যাংক বলতে বোঝায় দীর্ঘস্থায়ীভাবে সংরক্ষিত প্রতিটি ব্যক্তির ডিএনএ প্রোফাইল করা। ২০১৪ থেকে ২০২০ পর্যন্ত মোট সংগৃহীত মামলার সংখ্যা প্রায় ৬ হাজার। ডিএনএ ব্যাংক এ সংরক্ষিত অপরাধীদের প্রোফাইল পরবর্তীতে ওই একই ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই পর্যন্ত বিভিন্ন মামলার সঙ্গে সম্পর্কিত প্রায় ১৫ হাজার প্রোফাইল ডিএনএ ব্যাংকে সংরক্ষিত আছে।
সেখানে আরো বলা হয়, ফরেনসিক ডিএনএ ল্যাবরেটরিতে সংরক্ষিত অপরাধীদের ডিএনএ প্রোফাইল তদন্ত কার্যক্রমে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফৌজদারি ও দেওয়ানি মামলা সংক্রান্ত সব আলামতের বিশ্লেষণ ফরেনসিক ডিএনএ ল্যাবে হয়ে থাকে। এখন পর্যন্ত ডিএনএ ল্যাব সিআইডি এর সহায়তায় বাংলাদেশ পুলিশ অসংখ্য ফৌজদারি ও দেওয়ানি মামলা সমাধান করতে সফল হয়েছে। বর্তমানে ফরেনসিক ডিএনএ ল্যাব দেশের বিভিন্ন কোর্ট, থানা থেকে আসা শতাধিক মামলা গ্রহণ করে থাকে। এছাড়া নিদিষ্ট সময়ের মধ্যে রিপোর্ট দিয়ে থাকে। DNA Database এ সংরক্ষিত  DNA Profile সমূহ বিশ্লেষণ করে নিখোঁজ বা অজ্ঞাত কোন ব্যক্তিকে শনাক্তকরণ করা সম্ভব হয়, যদি অজ্ঞাত বা নিখোঁজ ব্যক্তির দাবিদার কিংবা আত্মীয়-স্বজন পাওয়া যায়।
বাংলাদেশ পুলিশ জাপান সরকারের জেডিসিএফ এর অর্থায়নে ফরেনসিক ডিএনএ ল্যাবরেটরি অব বাংলাদেশ পুলিশ শীর্ষক প্রকল্পের কার্যক্রম আগস্ট ২০১১ শুরু হয়, যা জুন ২০১৫ সমাপ্ত হয়।
এক নজরে উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম:
(১) ‘দেশের শীর্ষ জঙ্গি মুসাকে শনাক্ত করণ সম্ভব হয় ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে’ মৌলভীবাজার মডেল থানার মামলা ২০১৭। ঘটনার তিন জন জঙ্গির ক্ষতবিক্ষত লাশ পাওয়া যায়। এর মধ্যে ২ টি শনাক্ত ও ১ টি শনাক্ত সম্ভব হয়নি। কাউন্টার টেররিজম ইউনিট পরিচালিত জঙ্গি দমনের ঘটনাটি অপারেশন ম্যাক্সিমাস নামে পরিচিত। এই অপারেশনে জঙ্গি মুসার লাশ শনাক্তকরণের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য ডিএনএ টেস্টের প্রয়োজন হয়। মামলাটি পরবর্তীতে সিআইডিতে হস্তান্তর করা হলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিএনএ ল্যাবের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাকে মৌলভীবাজার মডেল থানার মামলা নং-৩ মামলার অশনাক্তকৃত বাকি ১ টি লাশের আলামত নিয়ে আসতে বলা হয়।
আলামত সিলেট মেডিকেল কলেজ থেকে নিয়ে এলে সেই আলামতের ডিএনএ প্রোফাইল বাংলাদেশ পুলিশ, সিআইডির ডিএনএ ল্যাবে পরীক্ষা করা হয়। জঙ্গি মুসার মা সুফিয়া বেগম এর কাছ থেকে সংগৃহীত নমুনা (রক্ত) পরীক্ষা করে মৌলভীবাজার মডেল থানার মামলায় অশনাক্তকৃত বাকি ১ টি লাশের আলামতের সঙ্গে সাদৃশ্য পাওয়া যায়। ডিএনএ ক্রস-ম্যাচের মাধ্যমে জানা যায় অশনাক্তকৃত ব্যক্তিই মুসা।
(২)  সীতাকুন্ড মডেল থানার মামলা নং-৩০ তারিখ-১৬/০৩/২০১৭ ইং জঙ্গি ঘটনা সংক্রান্ত মামলায় ঘটনাস্থল থেকে ক্রাইমসিন ইউনিট কর্তৃক বিভিন্ন ধরনের জৈবিক আলামত সংগ্রহ করা হয়। এসব আলামতগুলো সত্যিকার অর্থে কোন ব্যক্তির তা শনাক্ত করার জন্য ডিএনএ টেস্টের প্রয়োজন হয়। এই মামলায় ডিএনএ পরীক্ষায় ৪ জন ব্যক্তির মৃতদেহের প্রোফাইলিং করা হয়। এই মামলার মৃতদেহের দাবিদার মো. ছায়েদুর রহমান যিনি একজন মৃত ব্যক্তির পিতা হিসেবে দাবি করেছিলেন। পরবর্তীতে মো. ছায়েদুর রহমানের নমুনা ডিএনএ প্রোফাইল করার পরে ৪ জন ব্যক্তির প্রোফাইলের সঙ্গে সাদৃশ্য পাওয়া যায় নি। কিন্তু ডিএনএ ব্যাংকে অনুসন্ধান করে অন্য একটি প্রোফাইলের সঙ্গে সাদৃশ্য পাওয়া যায়।
এই মামলার অপর একজন দাবিদার মুনমুন আহম্মেদ যিনি ওই ৪ জন মৃত ব্যক্তির মধ্যে একজনের মাতা হিসেবে দাবি করেছিলেন। পরবর্তীতে মুনমুন আহম্মেদের নমুনা ডিএনএ প্রোফাইল করার পরে ওই  ৪ জন ব্যক্তির প্রোফাইলের সঙ্গে সাদৃশ্য পাওয়া যায়নি। কিন্তু ডিএনএ ব্যাংকে অনুসন্ধান করে অপর একটি মামলায় নিহত জঙ্গির জৈবিক মাতা হিসেবে প্রমাণিত হয়।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY