স্থায়ী আমানতের টাকা আত্মসাৎ করলেন কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের সেক্রেটারি লায়ন মুজিব

0
262
স্থায়ী আমানতের টাকা আত্মসাৎ করলেন কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের সেক্রেটারি লায়ন মুজিব
স্থায়ী আমানতের টাকা আত্মসাৎ করলেন কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের সেক্রেটারি লায়ন মুজিব
ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে জাল জালিয়াতির মাধ্যমে কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের সেক্রেটারি লায়ন মুজিববুর রহমানের বিরুদ্ধে প্রায় তিন কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় একটি মামলা রুজু করা হয়। গত ০১/০৬/২০২০ইং তারিখে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক আবদুল হামিদ মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় আসামি করা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সেক্রেটারি মুজিবুর রহমান ও তার তিন ভাই সহ ৪ জনকে।
বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এবং গণমাধ্যমের লক্ষ হতে মুজিবুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি মামলার অভিযোগের সাথে কোন ভাবেই জড়িত নন বলে দাবি করেন। তার বিরুদ্ধে এসব মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে বলে তিনি গণমাধ্যমকে জানান। নিজেকে নির্দোষ দাবী করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ও বিভিন্ন গণ মাধ্যমে পাল্টা নিউজের মাধ্যমে তার বক্তব্য দেয়ার চেষ্টা করেন।
এদিকে, মুজিবুর রহমান নিজেকে নির্দোষ দাবী করলেও তথ্য প্রমাণ বলছে অন্য কথা। একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রমাণ বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে। সম্প্রতি ভোরের পাতার হাতে আসে রূপালী ব্যাংকের একটি আবেদনপত্র। তাতে দেখা যায়, কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির এফডিআর এর ১,৯৪,৮৫০০০/= (এক কোটি চুরানব্বই লক্ষ পঁচাশি হাজার) টাকা উত্তোলনের জন্য রূপালী ব্যাংক, নিউ মার্কেট শাখা চট্টগ্রামের ব্যবস্থাপক বরাবরে আবেদন করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের সেক্রেটারি লায়ন মোহাম্মদ মুজিবুর রহমান। বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে দেড় কোটি টাকার স্থায়ী আমানত ছিলো জনতা ব্যাংক, নিজাম রোড, চট্টগ্রাম  মহিলা শাখায়। উক্ত আমানত লভ্যাংশসহ দুইকোটি ষোল লাখ টাকায় গিয়ে দাঁড়ায়।  ট্রাস্টি বোর্ডের সভাপতিকে না জানিয়ে গোপনে পরিবারের বাকি  নয় সদস্যকে নিয়ে ট্রাস্টি বোর্ডের ভুয়া রেজুলেশন প্রস্তুত করে জনতা ব্যাংক থেকে এফডিআর রূপালী ব্যাংক চট্টগ্রাম নিউ মার্কেট শাখায় স্থানান্তর করে ৯০ শতাংশ ঋণ উত্তোলন করে এক কোটি চুরানব্বই লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেন ট্রাস্টি বোর্ডের সেক্রেটারিসহ তার পরিবারের অপর নয় সদস্য।
ব্যাংক ম্যানেজারের বরাত দিয়ে জানা যায়, যেদিন লায়ন মুজিব এফডিআর স্থানান্তর করেন সেদিনই এফডিআরের ৯০ শতাংশ টাকা ঋণ হিসেবে উত্তোলন করেন লায়ন মুজিব। তিনি ট্রাস্টি বোর্ডের যে রেজুলেশন দাখিল করেছেন সেখানে বোর্ডের চেয়ারম্যানের বিষয়টি কৌশলে গোপন রাখা হয়। কাগজপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায় যে গত ০২ আগস্ট ২০১৯ সালে রূপালি ব্যাংকে এফডিআর স্থানান্তর করা হয় এবং ওইদিনই মোহাম্মদ মুজিবুর রহমানের স্বাক্ষরে ঋণ হিসেবে এক কোটি চুরানব্বই লক্ষ পঁচাশি হাজার টাকা উত্তোলন করা হয়। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০১০ অনুযায়ী বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে দেড় কোটি টাকার এফডিআর রাখা বাধ্যতামূলক। সরকারের অনুমতি ছাড়া এই অর্থ উত্তোলন করার বিধান নেই।
এক্ষেত্রে মুজিবুর রহমান ঋণ উত্তোলনের জন্য ইউজিসি হতে কোন অনুমতি নেয়নি। এমনকি ট্রাস্টি বোর্ডের সভাপতিকেও জানানো হয়নি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপরন্তু উত্তোলিত অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাগারে জমা না দিয়ে বোর্ডের সেক্রেটারি তার অপর আট আত্মীয় যথাক্রমে মাহবুবা সুলতানা (স্ত্রী), আব্দুস সবুর (বড় ভাই) এস এম সাইফুর রহমান (শ্যালক), মোহাম্মদ মহসীন (ভায়রা ভাই), সালেহা সুলতানা (স্ত্রীর বড়ো ভাই) হামিদুল্লা মেহেদী ( ভাতিজা), অলিদ মাহমুদ (ভাই) আব্দুল মাবুদ (ভাই) মিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী আমানতের এই টাকা আত্মসাৎ করেছে বলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করেছেন। কতৃপক্ষ হতে এ বিষয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলেও জানা গেছে।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY