আজ ঐতিহাসিক ৭ মার্চ

0
95
আজ ঐতিহাসিক ৭ মার্চ

আজ রোববার ঐতিহাসিক ৭ মার্চ। ১৯৭১ সালের এই দিনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) বিশাল জনসমাবেশে যুগান্তকারী ভাষণে বাঙালিদের স্বাধীনতাযুদ্ধের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ আর আজ রোববার প্রথমবারের মতো ঐতিহাসিক ৭ মার্চ জাতীয় দিবস হিসেবে উদযাপন করা হবে। এ উপলক্ষে কেন্দ্রীয় এবং দেশব্যাপী জেলা-উপজেলায় বিস্তারিত কর্মসূচি পালন করবে আওয়ামী লীগ।

১৯৭১ সালে ৭ মার্চ বিকাল তিনটা ২০ মিনিটে বঙ্গবন্ধু রেসকোর্স ময়দানে উপস্থিত হন। লাখো মানুষের উপস্থিতিতে ময়দান ছিল কানায় কানায় পূর্ণ। ময়দানজুড়ে স্লোগান ছিল— ‘পদ্মা মেঘনা যমুনা, তোমার আমার ঠিকানা’। উপস্থিত জনতাকে বঙ্গবন্ধু যুদ্ধের প্রস্তুতির নির্দেশ দিয়েছিলেন। তিনি বলেন— ‘প্রত্যেক ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলো। তোমাদের যা কিছু আছে, তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবিলা করতে হবে।’ প্রকৃতপক্ষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া বঙ্গবন্ধুর ওই ভাষণই ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতার অনানুষ্ঠানিক ঘোষণা। এরপরই দেশের মুক্তিকামী মানুষ ঘরে ঘরে চূড়ান্ত লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। বঙ্গবন্ধুর এই ভাষণের আহ্বানেই জাতি মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে।

রাষ্ট্রীয়ভাবে আজকের দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করা হবে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন ৭ মার্চ উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।

দিনটি উপলক্ষে আওয়ামী লীগের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে— রোববার সূর্যোদয়ের সাথে সাথে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং ধানমন্ডির ৩২নং সড়কের বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর প্রাঙ্গণে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন। এ উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু আর্ন্তজাতিক সন্মেলন কেন্দ্রে বিকাল ৩টায় অনুষ্ঠিতব্য অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে ভার্চুয়ালি উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় ঐতিহাসিক ৭ মার্চ যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপন করা হবে। ঢাকাসহ সব জেলা ও উপজেলায় জেলা প্রশাসন ও জেলা শিল্পকলা একাডেমির মাধ্যমে নানা আয়োজন হবে। এ আয়োজনের ব্যয় নির্বাহের জন্য ২০২০-২১ অর্থবছরে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় থেকে জেলা পার্যায়ে এক লাখ টাকা ও উপজেলা পর্যায়ে ৫০ হাজার টাকা হারে সর্বমোট ৩ কোটি ১০ লাখ টাকা ইতোমধ্যে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। করোনা পরিস্থিতিতে জাতীয় কর্মসূচির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করে কর্মসূচি ও অনুষ্ঠান আয়োজন করবে।

জাতীয় অনুষ্ঠানের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে সব সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদসমূহে যথাযোগ্য মর্যাদায় ঐতিহাসিক ৭ মার্চ জাতীয় দিবস উদযাপন। দিনটি উপলক্ষে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় আলাদা আলাদা কর্মসূচি পালন হবে।

এছাড়া ঐতিহাসিক ৭ মার্চ এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনে বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কর্মসূচির বিস্তারিত জানিয়েছে সংস্থাটি।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ৭ মার্চ সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে ঐতিহ্যবাহী আহসান মঞ্জিল প্রাঙ্গণে এক আলোচনা সভা ও ৭টায় বর্ণিল আতশবাজির আয়োজন করছে ডিএসসিসি। এতে ডিএসসিসি মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু আহমেদ মন্নাফী ও সাধারণ সম্পাদক মো. হুমায়ুন কবির। আলোচনা শেষে অতিথিদের উপস্থিতিতে বুড়িগঙ্গার তীরে আতশবাজির বর্ণিল পরিবেশ উপভোগ করবেন।

এছাড়া সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, ধানমন্ডি-৩২ সহ প্রয়োজনীয় জায়গাগুলোতে পরিচালনা করা হচ্ছে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম। নগরীর শিক্ষা ভবন থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পর্যন্ত সড়ক দ্বীপ, মতিঝিলের শাপলা চত্বর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি), কার্জন হলের সামনের সড়ক দ্বীপ এবং চারুকলা অনুষদ, বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর থেকে বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্টের সামনের সড়ক দ্বীপ, ঢাকা শহরের প্রবেশ মুখে এবং ডিএসসিসির আওতাধীন এলাকার ফ্লাইওভার ও ফুট ওভার ব্রিজগুলো রঙিন ব্যানার-ফেস্টুন দিয়ে সাজানো হচ্ছে।

শহীদ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানসহ আশপাশের রাস্তা-ঘাটের ধুলোবালি রোধে পানি ছেটানো, উদ্যান এলাকাসহ আশপাশের এলাকায় ভ্রাম্যমাণ টয়লেট স্থাপন ও পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে নেয়া হয়েছে বিশেষ উদ্যোগ। ডিএসসিসির প্রধান কার্যালয় নগর ভবনকে আলোকসজ্জায় সাজানো হয়েছে। একই সঙ্গে নগর ভবনসহ ডিএসসিসির আঞ্চলিক কার্যালয়গুলো এবং হাসপাতাল ও অন্যান্য স্থাপনায় সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। পাশাপাশি সকাল সাড়ে ৯টায় ডিএসসিসি মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে নিয়ে ধানমন্ডি-৩২ নম্বরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাবেন।

এদিকে জন্মশতবার্ষিকীতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন উদযাপনে গ্রহণ করা হয়েছে নানাবিধ আয়োজন ও কার্যক্রম। এদিন দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী সকল নবজাতক শিশুকে জন্ম সনদসহ উপহার হিসেবে দেয়া হবে ডিএসসিসি মেয়রের শুভেচ্ছা স্মারক।

এছাড়া, ডিএসসিসির আওতাধীন ৭৫টি ওয়ার্ডে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনে আয়োজন করা হবে বিশেষ র‌্যালি। একই সঙ্গে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান। যা গত ১ মার্চ থেকে শুরু হয়ে চলবে আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত। আগামী ৮ মার্চ থেকে ডিএসসিসির প্রতিটি অঞ্চলে প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা পক্ষ শুরু হচ্ছে।

এদিকে ১৭ মার্চ ডিএসসিসি এলাকায় অবস্থিত একটি এতিমখানায় বসবাসরত এতিমদেরকে পরিবেশন করা হবে উন্নতমানের খাবার। আয়োজন করা হবে আলোচনা সভা ও সেমিনার, থাকছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও। আয়োজনকে মনোমুগ্ধকর ও বর্ণিল করতে থাকবে আতশবাজির বর্ণচ্ছটা। এ উপলক্ষে প্রকাশ করা হবে বিশেষ প্রকাশনা।

ঐতিহাসিক ৭ মার্চ ও ১৭ মার্চ উপলক্ষে ডিএসসিসির সার্বিক আয়োজন প্রসঙ্গে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এ বি এম আমিন উল্লাহ নুরী বলেন, ঐতিহাসিক ৭ মার্চ ও জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীতে তার জন্মদিন জাঁকজমকভাবে উদযাপনের উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। জাতীয় কর্মসূচির সঙ্গে সমন্বয় করে দিন আমরা বিশদ কর্মসূচি গ্রহণ করেছি। আয়োজনের অংশ হিসেবে এদিন সকালে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণের মাধ্যমে আমরা দিবসের কার্যক্রম শুরু করব। নগর ভবনসহ ঢাকা শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে আমরা মাসব্যাপী আলোকসজ্জার আয়োজন করছি। প্রতিটি ওয়ার্ডকে লক্ষ্য রেখে আমরা বিশেষ স্বাস্থ্যসেবা পক্ষ পরিচালনা করব। এছাড়াও এ উপলক্ষে আমাদের বিশেষ পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চলছে।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY