আজ মুক্তি পেতে পারেন ইরফান সেলিম

0
37

নৌবাহিনীর কর্মকর্তাকে মারধর করার মামলায় সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ থেকে জামিনে মুক্তি পেতে যাচ্ছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের সাময়িক বরখাস্ত হওয়া কমিশনার ইরফান সেলিম।

ইরফান সেলিমের আইনজীবী শ্রী প্রাণ নাথ আজ বুধবার (২৮ এপ্রিল) এ তথ্য জানিয়েছেন।

প্রাণ নাথ বলেন, গত ২৫ এপ্রিল আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ ইরফান সেলিমের জামিন বহাল রাখেন। সর্বোচ্চ আদালতের সেই আদেশ আজ বুধবার বিচারিক আদালতে আসে। আসামি পক্ষে সকালেই জামিননামা জমা দেওয়া হচ্ছে। আজ বিকেলেই কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে জামিননামা পৌঁছালে তিনি মুক্তি পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

ইরফান সেলিমের বিরুদ্ধে করা মোট ৫টি মামলার মধ্য চকবাজার থানায় করা একটি মাদক ও একটি অস্ত্র মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা চকবাজার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) তাকে অব্যাহতি দিয়ে সুপারিশ করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।

বাসায় মাদক রাখার দায়ে একটি মামলায় এক বছর ও অবৈধ ওয়াকিটকি রাখার দায়ে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। তবে এ দুই মামলায় নির্বাহী আদালতে আপিল করে জামিনে রয়েছেন তিনি। আর নৌবাহিনীর কর্মকর্তাকে মারধর ও হত্যার হুমকির অভিযোগের মামলায় সর্বোচ্চ আদালতে তাঁর জামিনের আদেশ বহাল রাখায় এখন মুক্তি পেতে যাচ্ছেন তিনি।

নৌবাহিনীর কর্মকর্তাকে মারধর করার মামলায় গত ২৫ এপ্রিল ইরফান সেলিমকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন খারিজ করে দেন আপিল বিভাগ। ফলে ইরফান সেলিমকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল থাকে।

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগ এই আদেশ দেন।

নৌবাহিনীর কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট ওয়াসিফ আহমদ খানকে মারধরের ঘটনায় করা মামলায় হাইকোর্ট গত ১৮ মার্চ ইরফান সেলিমের জামিন মঞ্জুর করে রায় দেন। ওই জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনের ওপর শুনানি শেষে গত ২৮ মার্চ ইরফান সেলিমের জামিন চার সপ্তাহের জন্য স্থগিত করে দেন আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপক্ষের আবেনের ওপর শুনানির জন্য আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠানো হয়। এ ছাড়া চেম্বার জজ আদালতের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের জন্য ইরফান সেলিম আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতির আদালতে আবেদন করেন।

গতবছর ২৫ অক্টোবর সন্ধ্যার পর ধানমণ্ডির কলাবাগান ক্রসিংয়ে নৌবাহিনীর কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট ওয়াসিফের মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দিয়েছিল ‘সংসদ সদস্য’ স্টিকার লাগানো হাজী সেলিমের গাড়ি। ঘটনার সময় সংসদ সদস্য হাজী সেলিম গাড়িতে ছিলেন না। তার ছেলে ইরফান ও নিরাপত্তারক্ষী ছিলেন। এরপর নৌবাহিনীর ওই কর্মকর্তা মোটরসাইকেল থামান এবং নিজের পরিচয় দেন। এ সময় হাজী সেলিমের গাড়ুি থেকে দুজন ব্যক্তি নেমে লেফটেন্যান্ট ওয়াসিফকে মারধর করে।

একপর্যায়ে ওই কর্মকর্তা আত্মরক্ষার চেষ্টা করেন। এ সময় ওয়াসিফের স্ত্রীকেও লাঞ্ছিত করা হয়। ঘটনাস্থলে লোকজন জড়ো হয়ে গেলে সংসদ সদস্যের গাড়ি ফেলে মারধরকারীরা পালিয়ে যান। পরে পুলিশ এসে গাড়ি ও মোটরসাইকেলটি জব্দ করে থানায় নিয়ে যায়। এ ঘটনায় ঘটনায় হাজী সেলিমের ছেলে ইরফান সেলিমসহ চারজনের বিরুদ্ধে গত বছর ২৬ অক্টোবর ধানমণ্ডি থানায় ‘মারধর ও হত্যাচেষ্টা’ মামলা করেন নৌবাহিনীর কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট ওয়াসিফ।

ওই দিনই ইরফান সেলিমকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ মামলায় ইরফান সেলিম ঢাকার আদালতে জামিনের আবেদন করলে ওই আদালত গত বছর ২৭ ডিসেম্বর তা খারিজ করে দেন। এরপর হাইকোর্টে জামিন আবেদন করেন ইরফান সেলিম। হাইকোর্ট জামিন প্রশ্নে রুল জারি করেন। এ রুলের ওপর শুনানি শেষে জামিন মঞ্জুর করে রায় দেন হাইকোর্ট।

 

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY