আর কত বসতভিটা-স্কুল যমুনার পেটে গেলে বাঁধ পাবো?

0
67
আর কত বসতভিটা-স্কুল যমুনার পেটে গেলে বাঁধ পাবো?

যমুনায় পানিবৃদ্ধি পাওয়ায় তীব্র স্রোতে সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানার দক্ষিণে চলছে নদী ভাঙন। একের পর এক বিলীন হচ্ছে ফসলি জমি ও বসত ভিটা। তবে নদী তীর সংরক্ষণে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণে প্রায় পাঁচ বছর আগে প্রকল্প জমা দিলেও হয়নি অনুমোদন।

ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসীর আক্ষেপ- আর কত বসত-ভিটা, ফসলি জমি ও শিক্ষা-ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নদীর পেটে গেলে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ হবে।

শনিবার সকালে আড়কান্দি ও পাকুরতলা গিয়ে দেখা যায়, একের পর এক বিলীন হচ্ছে ফসলি জমি ও বসত ভিটা। তবে নদী তীর সংরক্ষণে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণে প্রায় পাঁচ বছর আগে প্রকল্প জমা দিলেও হয়নি অনুমোদন।

গত ৭ মার্চ পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করে মতবিনিময় সভায় বলেন, এক সপ্তাহের মধ্যে স্থায়ী তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের কাজ অনুমোদন হবে। প্রায় তিন মাস পেরিয়ে গেলেও এ আশ্বাসের কোনো সুফল পায়নি ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তরা।

এদিকে সিরাজগঞ্জের সন্তান কবির বিন আনোয়ার পানিসম্পদ মন্ত্রণালনের সিনিয়র সচিব হওয়ায় দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের স্বপ্ন দেখেন এলাকাবাসী। স্থানীয় এমপি-মন্ত্রী ও সচিবসহ সংশ্লিষ্টরা বারবার ঘুরে গেলেও পাঁচ বছরে প্রকল্প অনুমোদন না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে চাপা ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।

ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসীর আক্ষেপ করে বলেন, মন্ত্রী-এমপি ও পাউবো কর্মকর্তারা ভাঙন এলাকায় আর কতবার আসলে পরিদর্শন শেষ হবে। তারা কেন আমাদের শুধুই আশ্বাস দিচ্ছেন। প্রায় ৫ বছর পেরিয়ে গেল, কখন শুরু হবে স্থায়ী তীর সংরক্ষণ বাঁধ নির্মাণ কাজ। একে একে আমাদের ছয়টি গ্রামের কত আপনজনের বাড়ি ঘর নদীর পেটে গেল। এরপরও টনক নড়ছে না কেন?

সরেজমিন দেখা যায়, জোয়ারে যমুনা নদীতে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে প্রচণ্ড স্রোতের কারণে নদীপাড়ে ভাঙন শুরু হয়েছে। একে একে নদীর পেটে যাচ্ছে ফসলি জমি ও বসতভিটা। ৫০ একরের মধ্যে ২০ একর জমি নদীতে বিলীন হওয়ায় রূপসী গ্রামের কৃষক শাখাওয়াত হোসেন তার ক্ষেতের অপরিপক্ক ফসল কেটে নিয়ে যাচ্ছে।

ভাঙন ঠেকাতে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণে প্রায় ৫ বছর আগে সাড়ে ৬০০ কোটি টাকার সরকারি প্রকল্প সংশ্লিষ্ট দফতরে জমা দিলেও অনুমোদন না হওয়ায় যমুনা পাড়ে সবার মুখে এখন হতাশার ছাপ।

এদিকে এক সপ্তাহ ধরে আড়কান্দি, পাকুরতলা, বাঐখোলা ও পাঁচিল এলাকাসহ বেশ কয়েকটি স্থানে ভাঙন শুরু হয়েছে। এতে নদীর অদূরে থাকা এনায়েতপুর-সিরাজগঞ্জ আঞ্চলিক সড়ক, খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ এন্ড হাসপাতাল বিশ্ববিদ্যালয়, নাসিং ইন্সটিটিউড ও দেশের সর্ববৃহৎ এনায়েতপুর কাপড়ের হাটসহ বিভিন্ন স্থাপনা হুমকিতে রয়েছে।

এজন্য পাকুরতলা গ্রামবাসীর নিজস্ব উদ্যোগে ভাঙন প্রতিরোধে বাঁশের বেড়া স্থাপন করা হয়েছে। এতেও কাজ হচ্ছে না। তাই দ্রুত স্থায়ী তীর সংরক্ষণ প্রকল্প অনুমোদন ও কাজ শুরুর দাবি করেছেন এলাকাবাসী।

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী নাসির উদ্দিন জানান, সাড়ে ৬০০ কোটি টাকার প্রকল্পটি অনুমোদনের অপেক্ষাধীন রয়েছে। কবে নাগাদ প্রকল্পটি অনুমোদন হবে এ বিষয়ে কিছু বলতে পারেনি তিনি। তবে পাউবোর পক্ষ থেকে জরুরি কিছু জিও ব্যাগ ফেলার জন্য চিঠি দেয়া হয়েছে বলে জানান।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY