ইউপি ভবনে যুবকের লাশ: চেয়ারম্যানসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা

0
260
রাজশাহী মেডিকেলে করোনায় মৃত্যু আরও ১৩ জন

রাজশাহীর পবা উপজেলায় হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) ভবনের একটি কক্ষে মোফাজ্জাল হোসেনের রহস্যজনক (২৬) মৃত্যুর ঘটনায় চেয়ারম্যানসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা করা হয়েছে।

রোববার রাতে নিহতের ভাই উজ্জ্বল আলী বাদী হয়ে এ মামলা করেছেন বলে জানিয়েছেন দামকুড়া থানার ওসি মাজহারুল ইসলাম।

তিনি বলেন, এ মামলায় হরিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বজলে রেজবী আল হাসান মুঞ্জিলসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে মোট ১৯ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন- নিহত মোফাজ্জলের শ্বশুর রফিকুল ইসলাম, স্ত্রী রিয়া খাতুন ও শাশুড়ি সুদানা বেগম। মামলায় আরও ১৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।

নিহতের শ্বশুর রফিকুল ইসলামকে প্রধান ও ইউপি চেয়ারম্যান মুঞ্জিলকে দ্বিতীয় আসামি করে রোববার রাতে থানায় এজাহার দেন নিহতের ভাই উজ্জ্বল হোসেন। আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার করা হবে বলে জানান ওসি।

এদিকে এর আগে রোববার দুপুর ১২টার দিকে মোফাজ্জলের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায় পুলিশ।
নিহত মোফাজ্জল হোসেন রাজশাহীর তানোর উপজেলার চান্দুড়িয়া ইউনিয়নের জুড়ানপুর গ্রামের ইসরাফিল হোসেনের ছেলে।

এলাকাবাসী জানান, গত ২০ নভেম্বর ভ্যানচালক মোফাজ্জল হোসেন রাজশাহীর হরিপুর ইউনিয়নের খড়িয়ারধার গ্রামের রফিকুল ইসলামের মেয়ে রিয়া খাতুনকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর স্ত্রী বাবার বাড়ি চলে আসায় তাকে ফিরিয়ে নিতে দুদিন আগে শ্বশুরবাড়ি এসেছিলেন তিনি।

শ্বশুরবাড়িতে ঝামেলা হওয়ায় পরে তাকে ইউপি ভবনে আটকে রাখা হয়।

দামকুড়া থানার ওসি মাজহারুল ইসলাম আরও বলেন, লেপের ছেঁড়া অংশের কাপড় দিয়ে জানালার সঙ্গে গলায় ফাঁস দেয়া অবস্থায় মোফাজ্জলের মরদেহ পাওয়া গেছে। আগের রাত থেকে ওই কক্ষে তাকে আটকে রাখা হয়েছিল। এটি হত্যা না আত্মাহত্যা তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

তবে নিহতের শরীরে কিছু আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তিনি কীভাবে মারা গেছেন তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।

তিনি জানান, রোববার সকালে গ্রামপুলিশ গিয়ে মোফাজ্জলের মরদেহ দেখে চেয়ারম্যানকে খবর দেন। পরে তিনি বিষয়টি থানায় জানান।

পুলিশের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করার পর পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) খবর দেয়া হয়েছে। তারা গিয়ে সুরতহাল তৈরি করার পর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তের পর বিকালে মোফাজ্জলের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এদিকে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান বজলে রেজবী আল হাসান মুঞ্জিল জানান, দুই সপ্তাহ আগে বিয়ে হলেও রফিকুলের মেয়ে শ্বশুরবাড়ি থেকে চলে আসেন। তার স্ত্রী আর সংসার করতে চাচ্ছিলেন না। দুদিন আগে মোফাজ্জল স্ত্রীকে নিতে শ্বশুরবাড়ি গিয়েছিলেন।

শনিবার সন্ধ্যায় তিনি স্ত্রীকে মারধর করেন। এ সময় মোফাজ্জলকে ধরে মারধর করে আমার কাছে নিয়ে আসা হয়। রোববার দুপক্ষের লোকজনকে নিয়ে তাদের দাম্পত্য কলহের বিষয়ে মীমাংসায় বসার কথা ছিল। এ জন্য রাতে মোফাজ্জলকে ইউপি ভবনের একটি কক্ষে রাখা হয়।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY