ইসরায়েল প্রসঙ্গে বাংলাদেশের অবস্থান নিয়ে যা বললেন: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

0
83
ইসরায়েল প্রসঙ্গে বাংলাদেশের অবস্থান নিয়ে যা বললেন: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

সম্প্রতি বাংলাদেশি পাসপোর্ট থেকে- ‘দিস পাসপোর্ট ইজ ভ্যালিড ফর অল কান্ট্রিজ অব দ্য ওয়ার্ল্ড এক্সসেপ্ট ইসরায়েল’ বাক্যটি বাদ দেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে। এ প্রসঙ্গে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হচ্ছে। অন্যদিকে ইসরাইলও তার অবস্থান থেকে একই বিষয়ে ইতিবাচক মন্তব্য করেছে।

এদিকে বাংলাদেশ সরকারের ইস্যু করা নতুন পাসপোর্ট সংশোধনের বিষয়ে জানতে চাইলে আজ রোববার (২৩ মে) পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন গণমাধ্যমকে বলেন, “আধুনিক যুগে কোনো পাসপোর্টে লেখা থাকে না যে কোন দেশে ট্রাভেল করা যাবে, আর যাবে না। সেই স্ট্যান্ডার্ড মেইনটেইন করতে গিয়ে এটা করা হয়েছে। বাংলাদেশ ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেয়নি। ইসরায়েল নিয়ে বাংলাদেশ আগের অবস্থানেই আছে। বিষয়টি নিয়ে আমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ করেছি। তিনি জানিয়েছেন, নতুন পাসপোর্টে স্ট্যান্ডার্ড বজায় রাখতে গিয়ে ‘একসেপ্ট ইসরায়েল’ তুলে দেওয়া হয়েছে।”

সরকারের ইস্যু করা নতুন বাংলাদেশি পাসপোর্ট থেকে ‘একসেপ্ট ইসরায়েল’ শব্দ দুটি বাদ দেয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছে পৃথিবীর একমাত্র ইহুদি রাষ্ট্র ইসরায়েল। রোববার (২৩ মে) ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের উপ-মহাপরিচালক গিলাড কোহেন সন্তোষ প্রকাশ করে এক টুইটবার্তায় বলেন, ‘অনেক বড় খবর। বাংলাদেশ ইসরায়েলেয়ের সঙ্গে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নিয়েছে। এবার বাংলাদেশ ও ইসরায়েলেরে মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করলে উভয় দেশের জনগণ লাভবান হবে।’

ওই টুইটবার্তায় ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনে বাংলাদেশকে আহবানও জানান গিলাড কোহেন।

বাংলাদেশি পাসপোর্ট থেকে- ‘দিস পাসপোর্ট ইজ ভ্যালিড ফর অল কান্ট্রিজ অব দ্য ওয়ার্ল্ড এক্সসেপ্ট ইসরায়েল’ বাক্যটি বাদ দেওয়ার প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘আন্তর্জাতিক মানের পাসপোর্টের স্ট্যান্ডার্ড রাখতে গিয়ে এটা করা হয়েছে।’

জানা গেছে, পাসপোর্টের ওই স্থানে এখন লেখার প্রক্রিয়ায় রয়েছে- ‘দিস পাসপোর্ট ইজ ভ্যালিড ফর অল কান্ট্রিজ অব দ্য ওয়ার্ল্ড’। পরিস্থিতিতে বিষয়টি নিয়ে মানুষের মধ্যে কৌতুহল সৃষ্টি হচ্ছে। প্রশ্ন উঠছে- তাহলে কি পৃথিবীর একমাত্র ইহুদি রাষ্ট্র ইসরায়েলের সঙ্গে বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্কের পথে হাঁটছে? নাকি কেবলই পাসপোর্ট থেকে ‘ইসরায়েলের’ প্রসঙ্গটি বাদ যাচ্ছে?

পাসপোর্ট অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, সরকারের সিদ্ধান্তেই নতুন ই পাসপোর্ট থেকে ইসরায়েলের প্রসঙ্গটি বাদ দেওয়া হয়েছে। এখন লেখা থাকছে- এই পাসপোর্ট বিশ্বের সব দেশের ক্ষেত্রে বৈধ।

বাংলাদেশি নাগরিকদের পাসপোর্টে এক সময় লেখা থাকত- ‘দিস পাসপোর্ট ইজ ভ্যালিড ফর অল কান্ট্রিজ অব দ্য ওয়ার্ল্ড এক্সসেপ্ট ইসরায়েল, তাইওয়ান অ্যান্ড দ্য রিপাবলিক অব সাউথ আফ্রিকা’ কথাটি। পরে দক্ষিণ আফ্রিকা ও তাইওয়ানের নামটি ওই নিষেধাজ্ঞার তালিকা থেকে বাদ গেলেও ইসরায়েল থেকে যায়। দশককাল আগে হাতে লেখা পাসপোর্ট থেকে যন্ত্রে পাঠযোগ্য পাসপোর্ট (এমআরপি) চালুর পরও আগের মতো প্রথম পৃষ্ঠায়ই লেখাটি ছিল।

এখন ই পাসপোর্টে এসেছে পরিবর্তন। তাতে লেখা হচ্ছে শুধু- ‘দিস পাসপোর্ট ইজ ভ্যালিড ফর অল কান্ট্রিজ অব দ্য ওয়ার্ল্ড’। গাজায় সাম্প্রতিক ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধের মধ্যে এই পরিবর্তনটি আলোচনায় আসলো। আট দশক ধরে মধ্যপ্রাচ্যে জিইয়ে থাকা ফিলিস্তিন-ইসরায়েল দ্বন্দ্বে বাংলাদেশ শুরু থেকেই ফিলিস্তিনিদের পক্ষে। ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেয়নি বাংলাদেশ, ফলে দেশটির সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কও নেই। বিপরীতে ফিলিস্তিনকে দূতাবাস করতেও ঢাকায় জায়গা দেওয়া হয়েছে।

পাসপোর্টে পরিবর্তনের বিষয়ে জানতে চাইলে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আইয়ুব চৌধুরী বলেন, ‘আমি সরকারের নির্দেশনা বাস্তবায়নের দায়িত্ব আছি। আমি সেই নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের দু’ধরণের পাসপোর্ট রয়েছে। একটি হলো ‘এমআরপি’ এবং অন্যটি নতুন পাসপোর্ট ‘ই-পাসপোর্ট’। প্রথমত, এখানে পাসপোর্টের গায়ে কি লেখা রয়েছে সেগুলো কোনও ইস্যু না। পাসপোর্টের যে চিপ বা সেটির মেশিন রিডেবল জোনে কি লেখা রয়েছে, সেটিই মুখ্য বিষয়। দ্বিতীয়ত, একটা দেশের সাথে অন্য দেশের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক কি হবে না হবে সেটা পাসপোর্টের উপর নির্ভর করে না। তৃতীয়ত হলো- একটি দেশে ভ্রমণ বা যোগাযোগ ব্যবস্থা নির্ভর করে কূটনৈতিক সম্পর্ক ও ভিসা পাওয়া নিয়ে। এখানে পাসপোর্টে কি লেখা রয়েছে সেটা বড় কোন বিষয় নয়।’

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে যুক্তি উপস্থাপন করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান আরও বলেন, ‘বিশ্বের কোনো দেশ এ শব্দটি ব্যবহার করেনি। এমনকি আরব অঞ্চলের দেশগুলোও না।’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ই- পাসপোর্টে পরিবর্তন এলেও এমআরপিতে তা আগের মতোই রয়েছে। পাসপোর্টের লেখায় পরিবর্তন হলেও তা পররাষ্ট্র নীতির কোনো পরিবর্তন হয়নি।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY