এলএসডি কাণ্ডের মধ্যেই পপিবীজ কনটেইনারে এলো ৪২ টন

0
73

দেশে ধরা পড়া নতুন মাদক ‘এলএসডি’ নিয়ে হৈচৈ চলছে। এর মধ্যে গতকাল মঙ্গলবার আমদানি নিষিদ্ধ মাদক তৈরির কাঁচামাল পপিবীজের একটি চালান আটক করল চট্টগ্রাম কাস্টমস গোয়েন্দা দল (এআইআর)। সরিষাবীজ আমদানির ঘোষণা দিয়ে এই চালান মালয়েশিয়া থেকে এনেছিলেন আমদানিকারক; শুল্কও পরিশোধ করা হয়েছিল। কিন্তু গোপন তথ্যের ভিত্তিতে খালাসের আগমুহূর্তে সেটি ধরা পড়ে; যেখানে ৪২ হাজার কেজি পপিবীজ ছিল।

কাস্টমস কর্তৃপক্ষ বলছে, কনটেইনারের সামনের দিকে বস্তায় আমদানির ঘোষণা অনুযায়ী সরিষাবীজ ছিল। কিন্তু কনটেইনারের পেছনের দিকে একই ধরনের বস্তায় রাখা হয়েছিল আমদানি নিষিদ্ধ পপিবীজ। ঘোষণা অনুযায়ী ৫৪ টন পণ্যই রাখা হয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ১২ টন সরিষাবীজ, বাকি ৪২ টন পপিবীজ। আর এই ৪২ টনের বাজারমূল্য ১৫ কোটি টাকার মতো।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম কাস্টমসে সহকারী কমিশনার রেজাউল করিম বলেন, ‘কৌশল করে সরিষার বস্তাগুলো সামনে রাখা হয়েছিল, যাতে আমরা প্রথম দিকে নমুনা পরীক্ষার পর সেটি ধরা না পড়ে। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে শুরুতেই আমরা পেছনের সারিতে গিয়ে নমুনা পরীক্ষা করি। কিন্তু সরিষাবীজ ও পপিবীজ খালি চোখে অনেকটা একই রকম হওয়ায় আমরা একটু দ্বিধায় পড়ি। পরে নমুনা নিয়ে ঢাকায় মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ল্যাবে পরীক্ষার জন্য পাঠাই। পরীক্ষায় পপিবীজের বিষয়টি গত রবিবার নিশ্চিত হই।’

রেজাউল করিম আরো বলেন, ‘অতীতে এই আমদানিকারক এ ধরনের পণ্য কী পরিমাণ এনেছেন, সেটি ধরে আমরা একটি তদন্ত চালাব। একই সঙ্গে বিষয়টি কাস্টম এন্টি মানি লন্ডারিং ইউনিট তদন্ত করবে। তদন্তে নিশ্চিত হলে তারাও মুদ্রাপাচার আইনে একটি মামলা করবে। এরই মধ্যে কাস্টম আইনে আমরা একটি মামলা করেছি। আর নিষিদ্ধ মাদক আনায় একটি ফৌজদারি মামলা দু-এক দিনের মধ্যেই করা হবে।’

কাস্টম বলছে, সরিষাবীজ আমদানির ঘোষণায় মালয়েশিয়া থেকে দুই কনটেইনারে এই পপিবীজ এনেছে পুরান ঢাকার আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান আজমিন ট্রেড সেন্টার। গত ১৮ এপ্রিল সরিষাবীজ হিসেবেই চালানটি শুল্কায়ন করা হয় এবং আমদানিকারক এক লাখ ৪২ হাজার টাকা শুল্ককর কাস্টমে পরিশোধ করেন। এরপর আমদানিকারকের নিয়োজিত সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ‘হটলাইন কার্গো ইন্টারন্যাশনাল’ চালানটি তড়িঘড়ি করে খালাসের উদ্যোগ নেন। এর আগেই কাস্টমে খবর আসে চালানটিতে আমদানি নিষিদ্ধ মাদক পপিবীজ রয়েছে। এর পরই চালানটি খালাস পর্যায়ে আটকে দেয় কাস্টম। খবর না এলে হয়তো নিরাপদেই বন্দর থেকে খালাস হয়ে যেত চালানটি। চালানটি জব্দ করার পর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে রাসায়নিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। পপিবীজ হিসেবে শনাক্ত করে তারা প্রতিবেদন দেওয়ার পর চালানটি জব্দ করা হয়েছে।

কাস্টমস কর্মকর্তারা জানান, চালানটি আমদানিতে ঋণপত্রের মাধ্যমে ব্যাংকিং চ্যানেলে আমদানিকারক ২৬ হাজার ৩০০ ডলার পাঠান। তবে জব্দ হওয়া পপিবীজের মূল্যই ১৫ কোটি টাকা বা সাড়ে ১৭ লাখ ডলার। বাড়তি আমদানি ব্যয় অবৈধভাবে বিদেশে পাঠিয়ে মুদ্রাপাচার করেছে বলে সন্দেহ কাস্টমস কর্মকর্তাদের।

আমদানি নীতি আদেশ অনুযায়ী, পপিবীজ আমদানি নিষিদ্ধ। পপিগাছ থেকে আফিমসহ বিভিন্ন মাদক তৈরি হওয়ায় বাংলাদেশসহ অনেক দেশেই তা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY