এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৬৫ টাকা বৃদ্ধির সুপারিশ

0
30
এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৬৫ টাকা বৃদ্ধির সুপারিশ

দেশে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৬৫ টাকা বৃদ্ধির সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন। সোমবার (১৩ সেপ্টেম্বর) এলপিজির মূল্য সমন্বয়ের শুনানিতে কমিশন গঠিত কারিগরি কমিটি এই সুপারিশ করে। আজ গণশুনানির সমাপ্তি ঘোষণা করেন কমিশনের চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল।

কমিশনের কারিগরি কমিটি এলপিজি অপারেটরদের অন্য দাবিগুলো নাকচ করলেও ডিস্ট্রিবিউটর (পরিবেশক) এবং রিটেইলার (খুরা বিক্রেতা) কমিশন বাড়ানোর সুপারিশ করেছে।

শুনানিতে কনজিউমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) বলেছে, আইনগত দিক বিবেচনা করলে এলপিজি অপারেটরদের এই আবেদন আমলে নেওয়ার যৌক্তিকতা নেই।

কমিশনের চেয়ারম্যান আব্দুল জলিলের সভাপতিত্বে শুনানিতে কমিশনের সদস্য, অপারেটর প্রতিনিধি, ভোক্তা অধিকার প্রতিনিধি ছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিকে এবং সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

কমিশন গঠিত কারিগরি কমিটির সুপারিশে বলা হয়, সৌদি সিপি অনুযায়ী সেপ্টেম্বর মাসের এলপিজির সরবরাহ ব্যয় ৯১ দশমিক ৪৮ পয়সা প্রতি কেজি হিসেবে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম এক হাজার ৯৭ টাকা ৭৬ পয়সা করার সুপারিশ করা হয়েছে।

কমিশনের কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি বলছে, এলপিজি বোতলজাত এবং মজুতে চার্জ অপরিবর্তিত রাখতে চায়। তবে পরিবেশক এবং খুচরা বিক্রেতার কমিশন বৃদ্ধির পক্ষে মত দিয়েছে কারিগরি কমিটি।

কমিশনের শুনানিতে ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক শামসুল আলম বলেন, বাজারে একটি ১২ কোজি এলপিজির সিলিন্ডারের দাম এক হাজার ১০০ টাকা। সেখানে সমপরিমাণ এলপিজির দাম ১৩৮০ টাকা নির্ধারণ করতে হবে। এর জবাবে অপারেটররা বলছে, এই দামে এলপিজি বিক্রি করা লোকসান। তাই দাম বৃদ্ধির আবেদন করেছেন।

বসুন্ধরা এলপি গ্যাসের নির্বাহী জাকারিয়া জালাল বলেন, সরকারি এলপিজি বিক্রিতে অপারেটরদের ৫০ টাকা সেখানে বেসরকারি অপারেটরদের ২৪ টাকা কমিশন দেওয়া হয়। অন্যদিকে সরকারি এলপিজির রিটেইলারদের ৫০ টাকা কমিশন বেসরকারি এলপিজির রিটেইলারদের ২৭ টাকা কমিশন দেওয়া হয়। মাত্র ২৪ টাকা কিংবা ২৭ টাকা কমিশন দিয়ে একজন ব্যবসায়ীর পক্ষে ব্যবসা করা সম্ভব কি-না জানতে চান তিনি।

কমিশন চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল শুনানিতে বলেন, আমরা দিনভর অপারেটর ভোক্তা প্রতিনিধিদের কথা শুনেছি। এখন কমিশন সকল বিষয় বিশ্লেষণ করে একটি সিদ্ধান্ত জানাবে। আশা করি ভোক্তা এবং উদ্যোক্তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে কমিশন একটি যৌক্তিক সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। শুনানি আজ শেষ হলেও ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উদ্যোক্তারা তাদের মতামত জমা দিতে পারবেন।

এর আগে ৩১ আগস্ট শুনানির বিষয়ে এক গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ১৩ সেপ্টেম্বর এই গণশুনানি শুরু হবে। একদিনে যদি আলোচনা শেষ করা না যায়, তাহলে ১৪ সেপ্টেম্বরও শুনানির সুযোগ রাখা হয়েছে।

আদালতের নির্দেশে গত ১২ জানুয়ারি প্রথমবারের মতো এলপিজি দাম নির্ধারণে গণশুনানি করে কমিশন। এরপর ১২ এপ্রিল প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক বাজারের সংগে সমন্বয় করে এলপিজির দাম নির্ধারণ করে দেয় বিইআরসি। এরপর প্রতি মাসেই আমদানি মূল্য বিবেচনায় নিয়ে এলপিজির দাম সমন্বয় করে আসছে বিইআরসি। কিন্তু এলপিজির মজুতকরণ ও বোতলজাতকরণ চার্জ, ডিস্ট্রিবিউশন চার্জ এবং রিটেইলার চার্জ ইত্যাদির দর বিষয়ে একমত না হওয়ার কারণে ব্যবসায়ীরা এই দাম মানছিলেন না। তাই বাজারেও কমিশন বেঁধে দেওয়া দামে এলপিজি বিক্রি হচ্ছিলো না।

প্রসংগত, লকডাউন ও হাইকোর্টের আদেশের কারণে ইতিপূর্বে দু’বার গণশুনানির তারিখ স্থগিত হয়।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY