করোনায় চাকরি নেই, হতাশায় আত্মহত্যা!

0
73

মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় কর্মরত এক ইমাম করোনাকালে চাকরি হারিয়ে হতাশা থেকে আত্মহত্যা করেছেন বলে জানা গেছে। স্থানীয়রা জানায়, চাকরি চলে যাওয়ার পর হতাশ হয়ে পড়েন তিনি তারপর থেকে কারো সাথে যোগাযোগ ছিল না তার।

ওই ইমামের নাম হাফেজ মাওলানা আব্দুর রহিম পাটোয়ারী (৪২)। তিনি চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার রুপসা গ্রামের বাসিন্দা বলে জানা গেছে। তিনি প্রায় দীর্ঘ ১৫ বছর যাবৎ গজারিয়া উপজেলার পুরান বাউশিয়া পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদের ইমামের দায়িত্ব পালন করছিলেন। অসুস্থতার অজুহাত দেখিয়ে রমজানের কয়েক দিন আগে তাকে চাকরিচ্যুত করে মসজিদ কমিটি।

মুসল্লিরা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে এ মসজিদের ইমামের দায়িত্ব পালন করেন হাফেজ মাওলানা আব্দুর রহিম পাটোয়ারী। একটা সময়ে এ মসজিদটি ভাঙাচুরা টিনশেড ঘরের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও বর্তমানে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সমৃদ্ধ একতলা দালান। মসজিদটির আধুনিকায়নের পেছনে অক্লান্ত পরিশ্রম ছিল ইমামের। তবে তিনি অ্যাজমা রোগী ছিলেন। শবেবরাতের কয়েক দিন আগে তার শ্বাসকষ্ট বাড়লে তাকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠায় মসজিদ কমিটি। চিকিৎসা নিতে বাড়িতে গেলে তাকে জানানো হয় তার চাকরি চলে গেছে তার বদলে অন্য ইমামকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

এ রকম অবস্থায় মসজিদে ফিরে আসার জন্য একাধিক ব্যক্তিকে অনুরোধ করেন হাফেজ মাওলানা আব্দুর রহিম পাটোয়ারী। তবে মসজিদে ফেরার সকল পথ বন্ধ জেনে নিজের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি বন্ধ করে সবার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন ওই ইমাম।

এদিকে গত কয়েক দিন ধরে হাফেজ মাওলানা আব্দুর রহিম পাটোয়ারী নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার চর কিশোরগঞ্জ এলাকায় পথচারী মুসল্লিরা নামাজ পড়েন এমন একটি জায়গায় থাকা শুরু করেন। এরই মধ্যে রবিবার (২৫ এপ্রিল) রাতে সেখানে ফাঁসিতে ঝুলতে থাকা অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করে স্থানীয়রা।

মসজিদ কমিটির সভাপতি রাজা মোল্লা বলেন, হুজুরের শ্বাসকষ্ট বাড়ায় শবেবরাতের আগে তাকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয়। মুসল্লিদের সঙ্গে কথা বলে নতুন ইমাম ঠিক করেন তারা এবং ওই ইমামকে আর ফেরার দরকার নেই বলে জানিয়ে দেওয়া হয়। তার যাবতীয় পাওনাদি বিকাশের মাধ্যমে তাকে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে জানান তিনি। তবে তিনি কী কারণে আত্মহত্যা করলেন এ বিষয়ে কোনো কিছু জানা নেই তার।

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থানার ওসি হাফিজুর রহমান জানান, ফাঁসিতে ঝুলানো অবস্থায় একটি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। লাশটি ময়নাতদন্ত শেষে দাফন করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসলে বিস্তারিত জানা যাবে। এ বিষয়ে থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY