কাবুল বিমানবন্দরে আরও ৭ আফগান নিহত

0
39
কাবুল বিমানবন্দরে আরও ৭ আফগান নিহত

আফগানিস্তানে তালেবানের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পর দেশ ছাড়তে বেপরোয়া লোকজনের হুড়োহুড়িতে কাবুল বিমানবন্দরের কাছে সাত জন নিহত হয়েছেন। ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের (এমওডি) বরাতে স্কাইনিউজ এমন খবর দিয়েছে।

রোববার (২২ আগস্ট) এক বিবৃতিতে এমওডি জানিয়েছে, বিমানবন্দরের পরিস্থিতি খুবই চ্যালেঞ্জিং। পরিস্থিতি সামলাতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। নিরাপদে লোকজনকে সরিয়ে আনার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। কাবুলে ভিড়ে নিহত আফগান বেসামরিক নাগরিকদের পরিবারের প্রতি আমরা আন্তরিক সহানুভূতি প্রকাশ করছি।

এদিকে বিশৃঙ্খল কাবুল বিমানবন্দরে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে আফগানিস্তানের তালেবান যোদ্ধারা। বিমানবন্দরের প্রধান ফটকের বাইরে লোকজন যাতে সুশৃঙ্খলভাবে সারিবদ্ধ হতে পারে, তা নিশ্চিত করতে এমন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিমানবন্দরের চৌহদ্দির বাইরে লোকজনকে জড়ো হওয়ার অনুমোদন দিচ্ছে না তালেবান।

প্রত্যক্ষদর্শীর বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এমন খবর দিয়েছে। রোববার (২২ আগস্ট) ভোর হওয়ার সময় বিমানবন্দরে কোনো বিভ্রান্তি কিংবা সহিংসতা দেখা যায়নি। যদিও সেই ভোরেও সেখানে মানুষের দীর্ঘ সারি দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।

শনিবার রাতে কাবুলের চারটি ফ্লাইট পরিচালনা করেছে অস্ট্রেলিয়া। এতে অস্ট্রেলীয়, আফগান ভিসাধারী, নিউজিল্যান্ডের অধিবাসী, মার্কিন ও ব্রিটিশ নাগরিকসহ ৪০০ জনকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন এমন খবর দিয়েছেন।

নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা বলে এদিন কাবুল বিমানবন্দরে যেতে নাগরিকদের নিষেধ করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানি। যদিও আফগান ছাড়তে হাজার হাজার মানুষকে বিমানবন্দরটিতে জড়ো হতে দেখা গেছে।

গেল রোববার থেকে এখন পর্যন্ত একক রানওয়ের বিমানবন্দরটিতে ১৯ জন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন গুলিতে, বাকিরা পদদলিত হয়ে নিহত হয়েছেন। সপ্তাহখানেক ধরে তীব্র গরম ও ধুলাবালির মধ্যে সেখানে পলায়নরত মানুষের ভিড় বেড়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য যেসব দেশ বহু আফগান নাগরিকসহ, কূটনৈতিক ও বেসামরিক লোকজনকে সরিয়ে নেওয়ার যে চেষ্টা করছে, অতিরিক্ত ভিড় ও পাড়াপাড়িতে তাদের অভিযান ব্যাহত হচ্ছে।

বাবা-মা ও শিশুরা কংক্রিটের দেয়াল ঠেলে ফ্লাইটে ওঠার চেষ্টা করছেন। শনিবার কাবুলে একটি চার্টার ফ্লাইট স্থগিত করে দিয়েছে সুইজারল্যান্ড। মার্কিন সামরিক বাহিনীর মেজর জেনারেল উইলিয়াম টেইলর বলেন, এখনো পাঁচ হাজার ৮০০ সেনা বিমানবন্দরে রয়েছে। স্থাপনাটি এখনো নিরাপদ বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তবে বিমানবন্দরের ফটক অস্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়ার পর আবার খুলে দেওয়া হয়েছে। এক তালেবান কর্মকর্তা বলেন, নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়টি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তবে আমরা পরিস্থিতির উন্নতি চাচ্ছি। যারা দেশ ছাড়তে চাচ্ছেন, তারা যাতে নিরাপদে বেরিয়ে যেতে পারেন, সেই চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

গত সপ্তাহে ১৭ হাজার মানুষকে আফগানিস্তান থেকে সরিয়ে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। যাদের মধ্যে আড়াই হাজার মার্কিন সেনা রয়েছে। কাবুল থেকে সরিয়ে নেওয়া লোকজনদের তিন হাজার ৮০০ জনকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে।

আমেরিকান নাগরিক ও শরণার্থীদের সরিয়ে আনা নিয়ে রোববার প্রেস ব্রিফিং করবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। আফগানিস্তানের পরবর্তিত পরিস্থিতি নিয়ে গোয়েন্দা, কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা হালনাগাদ শোনার পর তিনি কথা বলবেন।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY