কোরবানীর পশুর হাটে পর্যাপ্ত পশু, দাম বেশির অভিযোগ

0
19

ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে রাজধানীর বিভিন্ন পশুর হাটে শুরু হয়েছে গরু বেচাকেনা। এদিকে ক্রেতারা দাম বেশির অভিযোগ করলেও বিক্রেতারা তা মানছেন না। এখনো দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ট্রাক এবং পশুবাহী ট্রেনে আসছে গরু-ছাগল।

আজ রবিবার সরেজমিনে রাজধানীতে ঘুরে দেখা গেছে, হাটে বিভিন্ন সাইজের পর্যাপ্ত পশু রয়েছে। রাজধানীর বেশ কয়েকটি হাটে দেখা গেছে সকাল থেকেই ক্রেতারা বাজারে প্রবেশ করছেন। পছন্দের গরু দেখছেন ও দরদাম করছেন। তবে পাইকাররা গরুর সাইজ অনুযায়ী দাম অনেক বেশী চেয়েছেন বলে অভিযোগ করেন কয়েকজন ক্রেতা।

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে গত বুধবার থেকে রাজধানীতে ২৩টি অস্থায়ী হাট বসেছে। গতকাল শনিবার (১৭ জুলাই) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বেচাকেনা শুরু হলেও এখনো পুরোপুরি জমে ওঠেনি পশুহাটের কেনাবেচা। তবে বেচাবিক্রি কিছু হলেও বিক্রেতারা অপেক্ষায় আছেন ক্রেতার। তাদের ধারণা আজ রবিবার ও কাল সোমবার থেকেই কোরবানির পশু ব্যাপকভাবে বিক্রি শুরু হবে। তবে পশুর হাটে ভিড় ক্রমেই বাড়ছে। অনেকে অবশ্য হাটে আসছেন তারা দাম-দর যাচাই-বাছাই করতে। বিক্রেতারাও বাজার যাচাই করতে চাইছেন কেমন দামে পশু ছাড়া যাবে।

সকাল ১১টার দিকে রাজধানীর আফতাব নগর পশুর হাটে দেখা গেছে ক্রেতাদের কিছুটা ভীর রয়েছে। দাম বেশী হওয়ায় বেশীরভাগ ক্রেতার চাহিদা মাঝারি ও ছোট আকৃতির গরুর দিকে। গরু কিনতে আসা বাড্ডার আলি হোসেন জানান, অধিকাংশ বিক্রেতাই গরুর দাম অনেক বেশী চাচ্ছেন। গত বছর যে সাইজের গরু কিনেছি ৬০ হাজার টাকায় এবছর এই সে সাইজের গরুর দাম চাওয়া হচ্ছে ৮০ থেকে ৯০হাজার টাকা।

পশুর দাম নিয়ে কয়েকজন বিক্রেতার সাথে কথা হলে তারা জানান, গত বছরের তুলনায় এবছর দাম কিছুটা বেশি। কারণ গোখাদ্যের দাম বেশি। যাতায়েত খরচ বেশি পরেছে আমাদের। তবে অধিকাংশ ক্রেতাই দাম অনেক কম বলছেন।

এদিকে রাজধানীর ৩০০ ফিট অস্থায়ী হাটে সকাল থেকেই ট্রাকে ট্রাকে গরু ছাগল আসতে দেখা গেছে। সেখানে গরু কিনতে আসা ইয়াকুব হোসেন জানান, হাঁটে এসেছিলাম গরু কিনতে কিন্তু বিক্রেতরা অতিরিক্ত দাম চাচ্ছেন।

৭০ হাজার টাকায় ছোট সাইজের একটি গরু কিনেন খিলগাঁওয়ের বাসিন্দা আসাদ আলি। তিনি বলেন, গেল বছর এরচেয়ে বড় সাইজের গরু কিনেছি ৬০ হাজার টাকায়।এবছর বাজেটের সাথে গরু মিলাতে অনেক কষ্ট হয়ে গেছে।

বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, তারাও পশুর ন্যায্যমূল্য পেতে হাটের শেষ দিনের অপেক্ষায় থাকবেন। তারা তাদের অভিজ্ঞতায় দেখেছেন যে রাজধানীর বাড়িগুলোতে সবার পশু রাখার জায়গা নেই। এ জন্য ঈদের এক দু’দিন আগে বেশি বেচাকেনা হয়। আর হাটও তখন পুরোদমে জমে উঠে। অন্য দিকে কিছু ব্যাপারী শঙ্কা জানিয়ে বলেন, করোনার কারণে এ বছর ক্রেতা উপস্থিতি তুলনামূলক কম। এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে দাম নেমে যেতে পারে।

হাট ইজারাদাররা জানান, বাজারে এখনো ক্রেতা তেমন একটা আসতে শুরু করেনি। যারা আসছে অনেকেই দাম জিজ্ঞেস করে চলে যাচ্ছেন।

প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের হিসাব মতে, বাংলাদেশে এবার প্রায় এক কোটি ১৯ লাখ গবাদিপশু জবাইয়ের জন্য রয়েছে। গৃহস্থালিতে গরু-ছাগল পালন ছাড়াও প্রায় সাত হাজার খামার রয়েছে যেগুলো ঈদুল আজহার জন্য পশু লালন-পালন করে।

প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের উপপরিচালক (খামার) জিনাত হুদা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, প্রতি বছর কোরবানির পশু থেকে গড়ে ৫০ থেকে ৫৫ হাজার কোটি টাকার মতো বেচা-বিক্রি হয়।

এদিকে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুসারে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রনালয়, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ডিজিটাল কোরবানির হাটের ওয়েবসাইটে তথ্যানুসারে গত ১৭ জুলাই পর্যন্ত ডিজিটাল হাটে সরাসরি গত ১৭ জুলাই পর্যন্ত ডিজিটাল হাটে মোট ১০৫৯টি পশু বিক্রি হয়েছে। যার মধ্যে ৭২৭টি গরু, ৯৬ টি ছাগল ও ভেড়া বিক্রি হয়েছে। যার মধ্যে ২৬৪টি পশু স্লটার বুকিং দিয়েছে এবং ২৩ টি পশু এস্ক্রো সার্ভিস এর মাধ্যমে বিক্রি হয়েছে।

সারাদেশের হাট থেকে মোট ২২শ’ ৬ কোটি ৬২ লাখ ৮৩ হাজার ৫৬৮ টাকার ৩ লাখ ১৮ হাজার ৫০৭ টি পশু বিক্রি হয়েছে। এরমধ্যে ২ লাখ ৪৪ হাজার ৯০০ টি গরু ও মহিষ এবং ৭৩ হাজার ৫৯৭ টি ছাগল ও ভেড়া রয়েছে।

 

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY