চীনের টিকা পেতে দেরি যে কারণে

0
78
চীনের টিকা পেতে দেরি যে কারণে

শুধু ভাষা জটিলতায় পিছিয়ে গেছে চীন থেকে টিকা আমদানি। চীনের সঙ্গে চুক্তিতে ইংরেজির বদলে চীনা ভাষার স্থানে সই করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। আর তাতেই পিছিয়েছে পুরো কার্যক্রম। এ বিষয়কে মন্ত্রণালয়ের অদক্ষতা বলছেন বিশেষজ্ঞরা। এছাড়া একের পর এক দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, অধিদফতর ও চিকিৎসা সেবা প্রতিষ্ঠানগুলোকে ঢেলে সাজাতে একটি স্বাধীন কমিশন গঠনের পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিং প্রথম দাবি করেন, করোনা টিকার দৌড়ে সিদ্ধান্তহীনতার কারণে পিছিয়ে পড়েছে বাংলাদেশ।

গত বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেনের কণ্ঠেও উঠে আসে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তহীনতা ও কারিগরি অদক্ষতার বর্ণনা।

চীনের সঙ্গে চুক্তিতে ইংরেজির বদলে চীনা ভাষার স্থানে সই করা হয়। পরে সেই অর্থ উদ্ধারের জন্য চীনা ভাষার একজন অধ্যাপক নিয়োগ দেয়া হয়। নিয়োগের প্রক্রিয়া দেরি হওয়ায় হতাশা জানান চীনের রাষ্ট্রদূত। রাশিয়ার সঙ্গেও চুক্তির ক্ষেত্রে একেকবার একেক রকম চাহিদাপত্র দেয়ায় তৈরি হচ্ছে জটিলতা। বিশ্বজুড়ে ব্যাপক চাহিদা থাকায় এ ধরনের দীর্ঘসূত্রিতা বাংলাদেশকে আরও পিছিয়ে দিতে পারে।

এ বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন বলেন, এটা অদক্ষতা। আমরা শুধু যোগাযোগ করিয়ে দেই। টিকা কবে, কখন এবং কখন দেবে এটা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় করে দেয়।

এ ধরনের কারিগরি অদক্ষতার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের বিশেষায়িত জ্ঞানের অভাবকে দুষছেন বিশেষজ্ঞরা। নিয়োগ প্রক্রিয়াকে ঢেলে সাজানোর পরামর্শ তাদের।

স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইন্সিটিউটের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আব্দুল হামিদ বলেন, দায়িত্বে যারা আছেন, তাদেরকে ফাইনান্স এবং অ্যাকাউন্টিংয়ের কর্মপরিকল্পনাগুলো আরও বেশি ট্রেনিং দেয়া প্রয়োজন।

এদিকে সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী আ ফ ম রুহুল হক বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, অধিদফতর ও চিকিৎসা সেবার প্রতিষ্ঠানগুলোকে ঢেলে সাজাতে একটি স্বাধীন কমিশন গঠন করা প্রয়োজন।

দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করে সরকারের এ মন্ত্রণালয়কে আরও কার্যকর করতে আধুনিকীকরণের বিকল্প নেই বলেও মত তাদের।

 

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY