টাকা তোলার হিড়িক ব্যাংকে

0
57

করোনার বিস্তার রোধে গত সপ্তাহ থেকে চলছে সরকারি বিধি-নিষেধ। এর মধ্যেই আজ বুধবার থেকে আট দিনের কঠোর ও সর্বাত্মক লকডাউনে যাচ্ছে দেশ। কঠোর লকডাউনে ব্যাংক বন্ধ থাকবে—এমন খবরে গতকাল মঙ্গলবার ব্যাংকগুলোতে টাকা তোলার হিড়িক পড়ে। যদিও পরে লকডাউনে ব্যাংক বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, লকডাউনের দিনগুলোতে (সরকারি ছুটির দিন ছাড়া) ব্যাংক খোলা থাকবে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত। তবে লেনদেন চলবে সকাল ১০টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ব্যাংকের শাখা ও উপশাখায় গ্রাহকদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা যায়। অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে স্বাস্থ্যবিধি মেনে গ্রাহকদের সেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হয়েছে দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের।

প্রখর রোদ ও গরম উপেক্ষা করেই গ্রাহকরা প্রয়োজনীয় লেনদেন করতে আসেন ব্যাংকে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এমন চিত্র পাওয়া গেছে। এ সময় কিছু শাখায় গ্রাহকরা চাহিদামতো টাকা না পাওয়ার অভিযোগও করেন। ব্যাংকের পাশাপাশি এটিএম বুথেও গ্রাহকদের টাকা তুলতে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে বাড়তি ভিড় দেখা গেছে। ব্যাংকাররা জানান, সর্বাত্মক লকডাউনে ব্যাংক ব?ন্ধের খবরে গ্রাহকরা নগদ টাকা তুলতেই বেশি ভিড় করেন। এমন ভিড় ঈদের আগে কার্যদিবসগুলোতে দেখা যায়। অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে স্বাস্থ্যবিধি মেনে তাঁদের সেবা দিতে হিমশিম খেতে হয়েছে।

করোনার সংক্রমণ রোধে চলমান বিধি-নিষেধে সীমিত পরিসরে ব্যাংক খোলা থাকায় কয়েক দিন ধরেই ব্যাংকপাড়ায় গ্রাহদের বাড়তি ভিড় লক্ষ করা যাচ্ছে। তবে সর্বাত্মক লকডাউনে ব্যাংক বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তে মঙ্গলবার লেনদেনের সময় বাড়িয়ে ৩টা করা হলেও নগদ টাকা তোলাসহ প্রয়োজনীয় লেনদেন সারতে হুমড়ি খেয়ে পড়তে দেখা গেছে গ্রাহকদের। সরেজমিনে মতিঝিল, দিলকুশা, দৈনিক বাংলা ও কারওয়ান বাজারে বিভিন্ন ব্যাংকের শাখা ঘুরে দেখা যায়, সকাল ১০টার আগেই ব্যাংকের বাইরে গ্রাহকদের দীর্ঘ লাইন। বেলা বাড়ার সঙ্গে এই ভিড় আরো বাড়তে থাকে। বেশির ভাগ ব্যাংকেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে গ্রাহককে ব্যাংকের ভেতরে ঢোকানো হচ্ছে। গ্রাহকের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ আলাদা করা হয়েছে।

সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সোনালী ব্যাংকে টাকা তুলতে আসেন গ্রাহক জাকির শেখ। তিনি বলেন, ‘কঠোর লকডাউনে ব্যাংক বন্ধ থাকবে। তাই নগদ টাকা তোলার জন্য এসেছি। কিন্তু প্রচুর ভিড় দেখতে পাচ্ছি। জানি না টাকা তুলতে আর কত সময় অপেক্ষা করতে হবে।’

রাজধানীর মতিঝিলে অবস্থিত সোনালী ব্যাংকের স্থানীয় কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক মো. মনিরুজ্জামান  বলেন, ‘স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে গ্রাহকদের ভিড় বেশি ছিল। ফলে লেনদেনের নির্ধারিত সময়ের অতিরিক্ত সময় গ্রাহকদের সেবা দিতে হয়েছে। অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে স্বাস্থ্যবিধি মেনে গ্রাহকদের সেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হয়েছে।’ তিনি জানান, নগদ টাকা তোলা ও সঞ্চয়পত্র ভাঙানো এবং এর মুনাফা তুলতেই বেশির ভাগ গ্রাহক ভিড় করেন। এ রকম ভিড় ঈদের আগে দেখা যায়।

এক্সিম ব্যাংকের মতিঝিল শাখার সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আজহার উদ্দিন বলেন, ‘ব্যাংক বন্ধ থাকবে—এমন খবরে সবাই ব্যাংকে টাকা তুলতে ভিড় করেন। ফলে অন্যান্য দিনের তুলনায় গ্রাহকের চাপ বেশি মনে হয়েছে। টাকা জমার চেয়ে উত্তোলন বেশি হচ্ছে। তাঁদের সেবা দিতে আমরা হিমশিম খাচ্ছি।’

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY