টাঙ্গাইলে বিদ্যালয়ে পানি, পাশের বাড়িতে পাঠদান

0
49
টাঙ্গাইলে বিদ্যালয়ে পানি, পাশের বাড়িতে পাঠদান

বন্যার পানিতে থৈ থৈ করছে টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার রাশড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। পানিতে তলিয়ে গেছে আশেপাশের রাস্তাঘাট। বিকল্প উপায়ে বিদ্যালয়ের পাশের বাড়ির উঠানে ও ঘরে চলছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান।

জানা গেছে, বাসাইল উপজেলা টাঙ্গাইল জেলার নিম্নাঞ্চলে অবস্থিত। ফলে বর্ষা মৌসুমে অল্প পানিতেই তলিয়ে গেছে বিভিন্ন এলাকার রাস্তা-ঘাট, ঘরবাড়ি সহ বিভিন্ন স্থাপনা। বর্তমানে উপজেলার ৭৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে পানিবন্দী ৫২টি বিদ্যালয়। এছাড়া ৪০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাদরাসা ও কলেজের মাঠ ও শ্রেণিকক্ষেও ঢুকেছে পানি। এরমধ্যে তিনটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পানি থাকায় দুইটিতে দ্বিতীয় তলায় ও বিকল্প হিসেবে অপরটির পাঠদান চলছে পাশের বাড়ির উঠান ও ঘরে।

রাশড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হোসনে আরা আক্তার বলেন, বিদ্যালয়ের শ্রেণি কক্ষে এখনও দুই থেকে আড়াই ফিট পানি রয়েছে। সেখানে পাঠদান করানোর মতো অবস্থা নেই। তাই বিকল্প হিসেবে বিদ্যালয়ের পাশে আব্দুল কাদেরের বাড়িতে নেয়া হচ্ছে ক্লাস। বন্যার পানি নেমে গেলে শ্রেণি কক্ষেই পাঠদান করানো হবে।

প্রধান শিক্ষক আরও বলেন, দীর্ঘ দেড় বছর পর স্কুল খোলার প্রথম ও দ্বিতীয় দিনে বিদ্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন ৩৫জন শিক্ষার্থী। সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে তাদের ক্লাস নেয়া হয়েছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সদানন্দ পাল জানিয়েছেন, উপজেলায় ৭৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একসঙ্গে শুরু হয়েছে পাঠদান। তবে তিনটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পানি থাকায় দুইটিতে দ্বিতীয় তলায় ও বিকল্প হিসেবে অপরটির পাঠদান সম্পন্ন হয়েছে পাশের বাড়ির উঠান ও ঘরে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বাবুল হাছান বলেন, উপজেলায় মোট ৪০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাদরাসা ও কলেজে শুরু হয়েছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান। তবে এরমধ্যে প্রায় ১৫টি বিদ্যালয়ের মাঠ ও ক্লাসরুমে পানি থাকার কারণে কয়েকটিতে আংশিকভাবে পাঠদান করানো হয়েছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আলী আহসান জানিয়েছেন, জেলার সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েই প্রথম ও দ্বিতীয় দিনের পাঠদান সম্পন্ন হয়েছে। তবে বাসাইল উপজেলার একটি বিদ্যালয়ে এখনও পানি থাকার কারণে বিদ্যালয় সংলগ্ন পাশের বাড়িতে পাঠদান করানো হয়।

জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা লায়লা খানম বলেন, জেলার সবগুলো মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাদরাসা ও কলেজে প্রথম ও দ্বিতীয় দিনের পাঠদান সম্পন্ন হয়েছে। আমি নিজেই একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেছি। কোথাও কোনও সমস্যা নেই।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY