দায় নিচ্ছে না কেউ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তাণ্ডবের

0
82

তাণ্ডবের ক্ষত ব্রাহ্মণবাড়িয়া জুড়ে। ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। শুরু হয়েছে প্রতিবাদ। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় আরো ৬০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সদর থানায় মামলা হয়েছে দু’টি। এ নিয়ে মোট মামলার সংখ্যা ৫১। তবে ঘটনার দায় নিতে রাজি নয় কেউ।

গত ২৬ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত তিনদিন হেফাজতের কর্মসূচি চলাকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ব্যাপক তাণ্ডব চালানো হয়। হামলা ও অগ্নিসংযোগে ক্ষতিগ্রস্থ হয় শতাধিক সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, বাড়িঘর। সেবা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের।

তবে শুরু থেকেই নিজেদের দায় নেই বলে জানিয়ে দেয় হেফাজত ইসলাম। তাণ্ডব পরবর্তী সময়ে নিজেদের কর্মসূচি ও প্রেস ক্লাব পরিদর্শনে এসে নেতারা জানান, এ ঘটনার সঙ্গে হেফাজতের কেউ জড়িত নয়। ভিডিও ফুটেজ দেখে তাণ্ডবকারিদের গ্রেপ্তারও দাবি করেন তারা।

তাণ্ডবের দায় নিতে রাজি নয় জামায়াতে ইসলামও। তাণ্ডবের একটি খবরকে কেন্দ্র করে সংগঠনটির কেন্দ্র থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তান্ডবের ঘটনার সঙ্গে তাদের কারো কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই বলে জানানো হয়।

তবে ঘটনার পর থেকেই হেফাজত, বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামকে দায়ী করে আসছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। কেন্দ্র থেকে শুরু করে জেলা পর্যায়ে আওয়ামী লীগ নেতা, পরিদর্শনে আসা মন্ত্রী-এমপিরা তাঁদের বক্তব্যে তাণ্ডবের দায় হেফাজতকেই নিতে হবে বলে উল্লেখ করছে। পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে বিএনপি-জামায়াত জড়িত বলে দাবি করা হয়।

এদিকে পুলিশ হামলার উস্কানিদাতাদের ধরতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেয়া পোস্ট বিষয়ে খোঁজ নিচ্ছে। এ অবস্থায় অনেকে পোস্ট সরিয়েও ফেলছেন। তবে স্ক্রিনশট দেখে দেখে উস্কানিদাতাদেরকে শনাক্ত করার চেষ্টা করছে পুলিশ। ইতোমধ্যেই একাধিক উস্কানিদাতাকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে।

তাণ্ডবের ঘটনায় সর্বশেষ আরো ৬০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গ্রেপ্তারের সংখ্যা দাঁড়ালো ১৬৮ এ। তবে গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে হেফাজত ইসলামের উল্লেখযোগ্য কোনো নেতা না থাকলেও কয়েকজন কর্মী, বিএনপি-জামায়াত সংশ্লিষ্টরা রয়েছেন। সর্বশেষ হওয়া দু’টি মামলাসহ মামলার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫১ এ। তবে আখাউড়া রেলওয়ে থানায় দায়ের করা মামলায় কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। ৫১ টি মামলায় ২৮৮ জন এজহারনামীয়সহ ৩৫ হাজার অজ্ঞাতনামাকে আসামি করা হয়।

আওয়ামী লীগের প্রতিবাদ

হেফাজতের তাণ্ডবকালে শহরজুড়ে ব্যাপক হামলা-ভাঙচুর ও অগ্নিকান্ডের ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি র. আ. ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীর বিরুদ্ধে হেফাজত নেতাদের মিথ্যাচার ও কটুক্তির প্রতিবাদে মঙ্গলবার মানববন্ধন করেছে আওয়ামী লীগ। ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাবের সামনে পৌর ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ এ মানববন্ধনের আয়োজন করে।

পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজি মুসলিম মিয়ার সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মুজিবুর রহমান বাবুল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুল বারী চৌধুরী মন্টু, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাহবুবুল আলম খোকন, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম. এ. এইচ মাহবুব আলম, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম প্রমুখ। এ সময় বক্তারা হেফাজতে ইসলাম ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আমীর মাওলানা সাজিদুর রহমান ও সাধারন সম্পাদক মুফতি মোবারক উল্লাহকে দায়ি করে গ্রেপ্তারের দাবি জানান। পাশাপাশি বক্তারা হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় নেতা জুনায়েদ আল হাবিবকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অবাঞ্চিত ঘোষণা করেন।

প্রসঙ্গত, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গত ২৬ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত হেফাজত ইসলামের তাণ্ডবের ঘটনা ঘটে। ওই তিন দিনের তাণ্ডবে প্রায় একশ’র মতো সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সহযোগি নেতা-কর্মীদের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। এ সময় পুলিশের গুলিতে অন্তত ১৩ জন মারা যায়। নাগরিক সেবা বন্ধ হয়ে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে সাধারন মানুষ।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY