দিনাজপুরে কাঙ্ক্ষিত ধান পায়নি খাদ্য বিভাগ!

0
60
দিনাজপুরে কাঙ্ক্ষিত ধান পায়নি খাদ্য বিভাগ!

দিনাজপুরে এবার সদ্য সমাপ্ত বোরো সংগ্রহ অভিযানে চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করলেও কাঙ্ক্ষিত ধান সংগ্রহে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে।

দীর্ঘ চার মাসের অভিযানে জেলা খাদ্য বিভাগ নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার ১০৪ শতাংশ চাল সংগ্রহ করলেও ধান সংগ্রহ করেছে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার ৯৩ শতাংশ। ধানের জেলা দিনাজপুরে গত কয়েক মৌসুম থেকে সরকারি খাদ্য সংগ্রহ অভিযান ব্যর্থ হচ্ছে বলে জানা গেছে।

দিনাজপুর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক এসএম সাইফুল ইসলাম জানান, দিনাজপুর জেলায় সদ্য সমাপ্ত বোরো মৌসুমে কৃষকদের কাছ থেকে ২৭ টাকা কেজিদরে ২৪ হাজার ১৮২ টন ধান, মিলমালিকদের কাছ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে ৯১ হাজার ৮২ টন সিদ্ধ চাল এবং ৩৯ টাকা কেজিদরে ৭ হাজার ৭ টন আতপ চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এ জন্য প্রায় এক হাজার ৫০০ মিলমালিকের সঙ্গে চুক্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে জেলা খাদ্য বিভাগ। গত ২৮ এপ্রিল এই সংগ্রহ অভিযান শুরু হয় এবং শেষ হয় গত ৩১ আগস্ট।

দীর্ঘ চার মাসের এই সংগ্রহ অভিযানে জেলায় ধান সংগ্রহ করা হয় ২২ হাজার ৫০০ টন, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার ৯৩ শতাংশ। সিদ্ধ চাল সংগ্রহ করা হয় এক লাখ পাঁচ হাজার ৮০০ টন, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার ১১৬ শতাংশ এবং আতপ চাল সংগ্রহ করা হয় ছয় হাজার ৫০০ টন, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার ৯২ শতাংশ। সিদ্ধ ও আতপ চাল মিলিয়ে সংগ্রহ করা হয় নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার ১০৪ শতাংশ।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক জানান, মিলমালিকরা এবার চুক্তি অনুযায়ী চাল সরবরাহ করায় নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি চাল সংগ্রহ করা হয়েছে দিনাজপুর জেলায়।

এদিকে গত কয়েক মৌসুম থেকে দিনাজপুর জেলায় সরকারি খাদ্য সংগ্রহ অভিযান সফল হয়নি। সরকার নির্ধারিত দামের চেয়েও বাজারে বেশি দাম থাকায় মিলমালিকরা চুক্তি করেও চাল সরবরাহ করতে পারেননি, এমনকি কৃষকরাও ধান বিক্রি করতে আসেননি সরকারি খাদ্যগুদামে। কিন্তু এবার সরকার চালের দাম বৃদ্ধি করায় এবং প্রথম ও শেষের দিকে বাজারে কিছুটা ধানের দাম কমে আসায় মিলমালিকরা চুক্তির চেয়েও বেশি চাল সরবরাহ করেছে।

এ ব্যাপারে দিনাজপুর জেলা চালকল মালিক গ্রুপের সভাপতি মোসাদ্দেক হুসেন জানান, ইতিপূর্বে আমরা বারবার দাবি জানিয়ে আসছিলাম ধানের দামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চালের মূল্য নির্ধারণের। তা না করায় মিলমালিকরা ঠিকমতো চাল সরবরাহ করতে পারেনি। কিন্তু এবার বোরো সংগ্রহ অভিযানে কিছুটা হলেও ধানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চালের মূল্য নির্ধারণ করে সরকার। এ কারণেই এবার চুক্তি অনুযায়ী মিলমালিকরা খাদ্য বিভাগে চাল সরবরাহ করতে পেরেছে।

তিনি বলেন, এতে কৃষকরাও তাদের উৎপাদিত ধানের ভালো দাম পেয়েছে এবং লাভবান হয়েছে।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY