দুর্গাপুরে ছেয়েগেছে অনুমোদনহীন ডায়াগনস্টিক সেন্টার

0
55
দুর্গাপুরে ছেয়েগেছে অনুমোদনহীন ডায়াগনস্টিক সেন্টার

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে ও শহরের আনাচে-কানাচে গড়ে উঠেছে অনুমোদনবিহীন ডায়াগনস্টিক সেন্টার।

বিভিন্ন এলাকার একশ্রেণির অসাধু ক্লিনিক ব্যবসায়ীর ইশারায় প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই চালাচ্ছে এ ধরনের ব্যবস্থা।

এ নিয়ে সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, যেখানে-সেখানে গড়ে ওঠা ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো মলমূত্র পরীক্ষা থেকে শুরু করে এ ব্যবসা চলছে দেদারছে। সরকারি কোনো তদারকি না থাকায় একশ্রেণির অসাধু ক্লিনিক মালিক, ভুয়া ডাক্তার ও দালাল চক্রের মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা সহজ-সরল রোগীদের ঠকিয়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত।

পৌরশহরে সব মিলিয়ে ৩০-৩২টি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার থাকলেও অনুমোদন আছে হাতেগোনা কয়েকটির। কোনোটির লাইসেন্স থাকলেও নেই কোনো নিজস্ব ডাক্তার ও বিদ্যুতের ব্যবস্থা।

অনেক ক্লিনিকে বাহিরের ডাক্তার দিয়ে গাইনি অপারেশনও করাচ্ছেন প্রতিনিয়ত। কয়েকটি ক্লিনিকে সহযোগী ডাক্তারই অপারেশন চালিয়ে যাচ্ছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অনেক ক্লিনিকের পৌরসভার ট্রেডলাইসেন্স পর্যন্ত নেই। এদের বিরুদ্ধে সিভিল সার্জনের দেখভালসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে গেলেই রাজনৈতিক, প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপসহ বিভিন্ন তদবিরের কারণে অসহায় হয়ে পড়ে ঔষধ প্রশাসন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ক্লিনিকে দায়িত্বরত প্যাথলজিস্ট বলেন, আমাদের নিজস্ব কোনো ডাক্তার নেই। আমাদের এখানে রোগী আসার পর ময়মনসিংহ থেকে ডাক্তার আসতে বলি অপারেশন করানোর জন্য।

প্যাথলজি খোলা থাকে, রোগী এলেই টেস্ট করাই। লাইসেন্সের বিষয়ে তিনি বলেন, এখনও লাইসেন্স পাইনি। দুই-এক মাসের মধ্যেই পেয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে।

লাইসেন্সবিহীন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক চালানোর বিষয়টি তিনি এড়িয়ে যান। শুধু ওই ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারই নয়, শহরের অলিগলিতে গড়ে উঠেছে লাইসেন্সবিহীন অসংখ্য ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। কেউ ডাক্তার না, তার পরও ডাক্তারের সাইনবোর্ড লাগিয়ে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে সাধারণ রোগীদের জীবনমৃত্যু নিয়ে সেবার নামে চালাচ্ছেন এ ব্যবসা।

এক্স-রে করতে আসা এক রোগী জানান, দুর্গাপুর হাসপাতালের এক্স-রে মেশিন দীর্ঘদিন ধরে বিকল, তাই বাধ্য হয়েই বাহির থেকে দ্বিগুণ দামে এক্স-রে করিয়েছি। এ ছাড়া প্রশাসনের নজরদারি না থাকায় মলমূত্র, ইসিজি, আল্ট্রাসনোগ্রামসহ নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষায় আমাদের কাছ থেকে ইচ্ছামতো টাকা আদায় করে নিচ্ছে।

ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর লাইসেন্স নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মামুনুর রহমান বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ইতোমধ্যে অনুমোদন নেই এমন ক্লিনিকগুলোর তালিকা তৈরি করা হয়েছে।

এখানে নামে-বেনামে অনেক ক্লিনিক রয়েছে, কেউ কেউ লাইসেন্সের জন্য আবেদনও করেছে। আবার অনেকগুলো আবেদন করেনি। লাইসেন্স পাওয়ার জন্য যে দিকনির্দেশনা রয়েছে, তা অনেকগুলোরই নেই। অচিরেই এর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY