নতুন প্রণোদনা পাচ্ছে না পোশাক খাত

0
33

তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের বেতন-ভাতা প্রদানের লক্ষ্যে তিন মাসের জন্য গতবারের মতো প্রণোদনার আওতায় নামমাত্র সুদে ঋণ চাইলেও আপাতত ঐ ঋণ পাচ্ছে না এ খাত। এরই মধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে সরকারের অপারগতার কথা পোশাক খাতের নেতাদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে ঈদের আগে নিজেদের তহবিল কিংবা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েই শ্রমিকের বেতন-ভাতা পরিশোধ করতে হবে।

গত প্রায় দুই সপ্তাহ আগে পোশাক ও বস্ত্র খাতের তিন সংগঠন বিজিএমইএ, বিকেএমইএ ও বিটিএমএ অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের কাছে চিঠি দিয়ে তিন মাসের জন্য প্রণোদনার আকারে ঋণ দেওয়ার অনুরোধ জানান। এতে টাকার পরিমাণ উল্লেখ না থাকলেও এ খাতের নেতারা জানিয়েছেন, এজন্য প্রয়োজন হতো প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা। ঐ চিঠিতে তারা জানান, করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ের কারণে অনেক ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তা আর্থিক সংকটে রয়েছে। অনেক জায়গায় ক্রয়াদেশ বাতিল, স্থগিত কিংবা ডিসকাউন্ট দিতে হয়েছে। রপ্তানির অর্থ দেরিতে আসছে। ফলে ঐসব উদ্যোক্তার পক্ষে শ্রমিকের বেতন-ভাতা দেওয়া কঠিন হয়ে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে গতবারের মতো ঋণ দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়।

সূত্র জানিয়েছে, ইস্যুটি নিয়ে অর্থসচিব প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত্ করেছেন। বর্তমানে লকডাউন পরিস্থিতিসহ অর্থনৈতিক গতি কমে যাওয়ায় দেশের অতি দরিদ্রদের সহায়তা দেওয়ার জন্য সরকারকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। অন্যদিকে রাজস্ব আদায়ও কমে গেছে। সার্বিকভাবে এ পরিস্থিতিতে এ খাতকে সরকার নতুন করে কোনো সহায়তা দিতে পারছে না বলে সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে নির্দেশনা পেয়েছে মন্ত্রণালয়।

গত সপ্তাহে পোশাক খাতের শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে ইস্যুটি নিয়ে বৈঠক করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও অর্থসচিব। সভায় তারা সরকারের অবস্থান পোশাক শিল্প মালিকদের জানিয়ে দেন। বিজিএমইএর সহসভাপতি শহীদুল্লাহ আজিম ইত্তেফাককে বলেন, আপাতত সরকার আমাদের প্রণোদনার সহায়তা দিতে পারছে না। তবে অন্তত ঈদের আগে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধের জন্য ব্যাংকগুলো যাতে উদ্যোক্তাদের সহায়তা করে, সে বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছি। তা হলে এই সময়ে কোনো ধরনের শ্রম অসন্তোষ হবে না।

তিনি বলেন, বর্তমানে বহু ছোট ও মাঝারি কারখানা রয়েছে, যাদের পক্ষে ঈদের আগে শ্রমিকের বেতন ও ঈদ বোনাস দেওয়া কঠিন হবে। এক্ষেত্রে ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো এগিয়ে এলে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা কিছুটা সহজ হবে।

এদিকে ঈদের আগে বেতন-বোনাস নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে, এ ধরনের প্রায় ৩০০ পোশাক কারখানার তালিকা করেছে সরকারের বিভিন্ন সংস্থা। এসব কারখানা শেষ পর্যন্ত বেতন-বোনাস নিয়ে কোনো ধরনের সংকট থেকে তা শ্রম অসন্তোষে রূপ নেওয়া কিনা, তাতে তীক্ষ নজর রাখছে মালিকপক্ষ ও শিল্পাঞ্চল পুলিশ।

বিজিএমইএর সিনিয়র সহ-সভাপতি এস এম মান্নান কচি ইত্তেফাককে বলেন, যে কোনো উপায়ে শ্রমিকের বেতন-ভাতা পরিশোধ করতে হবে। এ লক্ষ্যে আমাদের পক্ষ থেকে এরই মধ্যে কারখানা মালিকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি আমরা তদারক করছি।

 

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY