নিজের পকেটের টাকায় জনগণের ট্যাক্স পরিশোধ করেন তিনি!

0
34

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় জনসেবায় অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ইউপি সদস্য সিদ্ধার্থ বাড়ৈ। তিনি উপজেলার কান্দি ইউনিয়ন পরিষদের ৫নং ওয়ার্ডের সদস্য। তাঁর ওয়ার্ডের প্রায় ৪০০ পরিবারের ট্যাক্স ফ্রি করে দিয়েছেন তিনি। এই ইউপি সদস্য প্রতি বছর তার ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ৭০হাজার করে টাকা দিয়ে তার ওয়ার্ডের জনগণের ট্যাক্স পরিশোধ করছেন। বিগত ৫বছর ধরে তিনি এই কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছেন।

এ ছাড়াও তিনি জনগণের চলাচলের জন্য এলাকায় ৪০০ ফুট দৈঘ্য ও ১০ফুট প্রস্থ একটি বিধ্বস্ত রাস্তা নিজ অর্থায়ণে সংস্কার করে দিয়েছেন। তার এ ধরণের জনসেবামূলক কর্মকাণ্ড পুরো ইউনিয়নে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে।

শুধু ট্যাক্স ফ্রি বা রাস্তা সংস্কারই নয়, সিদ্ধার্থ বাড়ৈ এলাকার মাদক নির্মূলে গ্রহণ করেছেন নানা উদ্যোগ। যুব সমাজকে মাদকের নীলছোবল থেকে ফেরাতে নিজ অর্থে ক্লাব ঘর নির্মাণ করে এলাকার যুবকদের কিনে দিয়েছেন ক্রীড়া সামগ্রী। এলাকায় শিক্ষার প্রসার ঘটাতে দরিদ্র শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ ও নগদ অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করছেন। দুস্থ ও বিধবা নারীদের সাবলম্বী করতে তিনি এলাকায় বিভিন্ন ধরণের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছেন।

কান্দি ইউয়িনের ৫নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা খালেক সরদার ও সিদ্দিক সরদার বলেন, ইউপি সদস্য সিদ্ধার্থ বাড়ৈ ৫বছর আগে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাচিত হওয়ার পরই তিনি এলাকার জনগণের ট্যাক্স ফ্রি করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। সে মোতাবেক তিনি তার কথা রেখেছেন। তিনি ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ৫বছর ধরে আমাদের ট্যাক্স পরিশোধ করে আসছেন। নিজ অর্থায়ণে আমাদের যাতায়াতের জন্য একটি বিধ্বস্ত রাস্তা সংস্কার করে দিয়েছেন। শিক্ষা ও খেলাধুলার বিকাশ এবং মাদক নির্মূলে কাজ করছেন। দেশের প্রতিটি ইউনিয়নের ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে এ ধরণের সদস্য নির্বাচিত হলে দেশের উন্নয়ন হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।

৫নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মিনা অধিকারী বলেন, ইউপি সদস্য সিদ্ধার্থ বাড়ৈ একজন ভালো মানুষ। তিনি আমার প্রতিবন্ধী সন্তানের ভাতা করে দিয়েছেন। এ জন্য তিনি আমার কাছ থেকে একটি টাকাও নেননি।

রুহিদাস অধিকারী ও গুরুদাস অধিকারী বলেন, সিদ্ধার্থ বাড়ৈ না থাকলে আমরা আমাদের ছেলে মেয়েদের লেখাপড়া করাতে পারতাম না। তিনি বিভিন্ন সময়ে ছেলে মেয়ের লেখাপড়ার জন্য আমাদেরকে অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করেছেন।

ইউপি সদস্য সিদ্ধার্থ বাড়ৈ বলেন, মানবসেবাই পরম ধর্ম। আমি জাতপাতের উর্ধে উঠে মানুষের সেবা করতে চাই। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আমি এই মানবসেবা চালিয়ে যেতে চাই। যতদিন বেঁচে থাকবো এ ভাবেই মানুষের সেবা করে যাবো। সেবার জন্য বেশী অর্থের প্রয়োজন হয় না। সেবা করার জন্য একটি ভালো মনই যথেষ্ঠ।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস এম মাহফুজুর রহমান বলেন, ইউপি সদস্য সিদ্ধার্থ বাড়ৈর কর্মকাণ্ড সত্যিই প্রশাংসার দাবি রাখে। প্রতিটি ইউনিয়নে সদস্যরা যদি সিদ্ধার্থ বাড়ৈর মতো কাজ করতো তা হলে আমাদের দেশ দ্রুতই সামনের দিকে এগিয়ে যেত। তাঁর কর্মকাণ্ড কান্দি ইউনিয়নে অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY