নিহত বেড়ে ১২ বাস-ট্রেন সংঘর্ষে , ঘুমিয়ে ছিলেন গেটম্যান

0
164

জয়পুরহাটে বাস-ট্রেন সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১২ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো ৩ জন। নিহতদের সবাই বাসের যাত্রী। দুর্ঘটনার পর থেকে উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। দুর্ঘটনার সময় রেল ক্রসিংটির গেট খোলা ছিল ও সংশ্লিষ্ট গেটম্যান ঘুমিয়ে ছিলেন বলে জানা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী,পুলিশ ও জয়পুরহাট ফায়ার সার্ভিস সুত্রে জানা গেছে, পুরানাপৈল রেলগেটে আজ সকাল ৬টা ৫৫ মিনিটে পার্বতীপুর থেকে ছেড়ে আসা রাজশাহীগামী উত্তরা এক্সপ্রেস ট্রেনের সাথে যাত্রীবাহী বাসের সংঘর্ষ হয়। এতে জয়পুরহাটগামী বাসটিকে দুমড়ে-মুচড়ে ট্রেনটি প্রায় ৫’শ মিটার দুরে রেললাইনের উপরে নিয়ে যায়। এ সময় ঘটনাস্থলেই ১০ জন নিহত ও ৫জন আহত হয়। আহতদের জয়পুরহাট জেলা আধুনিক হাসপাতালে নেয়ার পর সেখান থেকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে (শজিমেক) স্থানান্তর করা হলে আরো দু’জন নিহত হয়। বর্তমানে গুরুতর আহত ৩জন বগুড়ার শজিমেক হাসপাতালে ভর্তি আছে।

নিহতদের মধ্যে দু’জনের পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন,পাঁচবিবি উপজেলার আটুল গ্রামের আলতাফ হোসেনে ছেলে সরোয়ার হোসেন (৩৫) ও তার ছোট ভাই আরিফুজ্জামান রাব্বি (২৫)।

জেলা প্রশাসক মো. শরীফুল ইসলাম জানান,পুরানাপৈল রেলগেটে গেটম্যান তার দায়িত্ব পালন না করায় মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। তিনি বলেন, নিহতদের মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের দাফন কাজ সহ সার্বিক খরচ বহন করা হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।

দুর্ঘটনার পর থেকে রেলের পশ্চিমাঞ্চলের সাথে সারাদেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক করার জন্য উদ্ধারকারী ট্রেন ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। চেষ্টা চলছে দুর্ঘটনা কবলিত বাস ও ট্রেন অপসারণের। জেলা প্রশাসক ছাড়াও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সালাম কবীর,সদরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিল্টন চন্দ্র রায় ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আরিফুর রহমান রকেট ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

জয়পুরহাট ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারি পরিচালক খন্দকার ছানাউল হক বলেন, ট্রেনের সাথে সংঘর্ষে ঘটনাস্থল থেকে ১০ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। আর ৫ জনকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এদের মধ্যে আরো দু’জন বগুড়া হাসপাতালে মারা গেছেন।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY