নিয়ন্ত্রণহীন রাঙামাটির বাজার

0
55

একদিকে লকডাউন, অন্যদিকে রমজান। সবমিলে ঊর্ধ্বমুখী রাঙামাটির নিত্যপণ্যের বাজার। যা নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে। প্রশাসনের নজরদারি না থাকায় একেবারেই নিয়ন্ত্রণহীন বাজার বলছেন ভুক্তভোগীরা। তবে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন বলছে অভিযোগ পেলে নেওয়া হচ্ছে ব্যবস্থা।

রাঙামাটির বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, করোনার মহামারিতেও জমজমাট রাঙামাটির হাট-বাজারগুলো। ক্রেতা-বিক্রেতার সাথে আনাগোনা আছে সাধারণ মানুষের। আছে পর্যাপ্ত নিত্যপণ্য মজুদও। কিন্তু পণ্যের চাহিদা থাকায় সুযোগ বুঝে দাম হাতিয়ে নিচ্ছেন বিক্রেতারা।

পণ্যের গায়ে দাম নির্ধারণ থাকলেও করোনা ও লকডাউনের দোহায় দিয়ে দ্বিগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে-চাল, ডাল, তেল, মরিচ, পিয়াজ, আদা-রসুন, সবজি, মাছ, মাংস ও ডিমসহ সব ধরনের পণ্য।
ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমানে মিনিকেট চাল কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৬৫, সিদ্ধ ৫০ থেকে ৫৫। ছোলা কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা। খেসারি ডাল কেজি প্রতি ৮০ থেকে ১১০ টাকা। তেল প্রতি লিটার ১৩৫ থেকে ১৪০। পিয়াজ ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। রসুন ১২০ থেকে ১৩০ টাকা। আদা ১২০ থেকে ১৪০ টাকা।

শুধু নিত্যপণ্য নয়, একই অবস্থা মাছ, মাংশ ও সবজির বাজারে। প্রতিটি পণ্যের ২০ থেকে ৪০ টাকা বেশি। তবে এ কথা স্বীকার করতে নারাজ ব্যবসায়ীরা। দায় এড়াতে দিচ্ছেন নানা অজুহাত।

রাঙামাটি বনরূপা বাজারের ব্যবসায়ী কাজল দে বলছেন, প্রশাসনের নির্ধারিত দামে বিক্রি হচ্ছে সব পণ্য। তাই দাম বাড়তি নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তবে লকডাউনের কারণে পণ্য সামগ্রী সংগ্রহ করতে কিছুটা হিমশিম খেতে হচ্ছে।

একই অজুহাত দিলেন আর এক ব্যবসায়ী ননা বড়ুয়া। তিনি বলেন, আমদানি ঠিক না থাকলে দাম তো বৃদ্ধি হবেই। বেশি দামে ক্রয় করার কারণে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। এতে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কোনো দোষ নেই।

তবে রাঙামাটি জেলা প্রশাসক মো. মিজানুর রহমান জানান, বাজারদর নিয়ন্ত্রণে রাখতে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। কোনো অসাধু ব্যবসায়ীকে ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। যারা নির্ধারিত দামের বেশি দাম নিচ্ছে তাদের অভিযোগের ভিত্তিতে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া সাধারণ মানুষের জন্য টিসিভির পণ্য সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে।

 

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY