‘পাঁচ দশকে বাংলাদেশের অগ্রগতি বিস্ময়কর’

0
93

‘বিগত পাঁচ দশকে বাংলাদেশ অভূতপূর্ব অগ্রগতি অর্জন করেছে। উন্নয়নের ক্ষেত্রে দেশটির অর্জন বিস্ময়কর’। এক ভিডিও বার্তায় এমন মন্তব্যই করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস। জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন আয়োজিত মহান স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উৎসব উদযাপন অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন। একই অনুষ্ঠানে দেয়া বক্তব্যে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরাও এমন মন্তব্য করেন।

নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৬ মার্চ) আন্তর্জাতিক আবহে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে জাতিসংঘের প্রতিনিধিসহ অন্যান্য মিশনের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। জাতিসংঘ সদরদপ্তরের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি, সদস্য রাষ্ট্রসমূহের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত, জাতিসংঘের সংস্থাসমূহ ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং বিপুল সংখ্যক বিদেশী কূটনীতিকের অংশগ্রহণে ভার্চুয়ালি এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানটির মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক পর্ব ও র‌্যাফেল ড্র গোটা আয়োজনে একটি ভিন্ন মাত্রা যোগ করে।

স্বাগত ভাষণে বাঙালি জাতির মুক্তি সংগ্রামের মহানায়ক, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা। তিনি বলেন, “জাতির পিতার উদাত্ত আহবানে সাড়া দিয়ে বাঙালি জাতি মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। মুক্তিযুদ্ধের ত্রিশ লাখ শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি আরো বলেন, “তাঁদের সর্বোচ্চ ত্যাগের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি বহু কাঙ্খিত স্বাধীনতা। ১৯৭৪ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বঙ্গবন্ধুর দেয়া কালজয়ী ভাষণের কথা স্মরণ করে রাষ্ট্রদূত ফাতিমা বলেন,” এই ভাষণই পরবর্তীকালে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির গতিপথ নির্ধারণ করেছিল”। ভাষণটিতে জাতিসংঘকে মানুষের সকল ভবিষ্যত আশা-আকাঙ্খা, নির্ভরতা ও বিশ্বাসের কেন্দ্রস্থল হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্ব, অগ্রমূখী উন্নয়ন কৌশলের কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত ফাতিমা বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ দারিদ্রপীড়িত একটি দেশ থেকে বিশ্বের দ্রুত বর্ধমান অর্থনীতির একটি দেশে উন্নীত হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে সিডিপি বাংলাদেশকে চুড়ান্তভাবে এলডিসি ক্যাটাগরি থেকে উত্তরণের অনুমোদন দিয়েছে। স্বাধীনতার ৫০ বছরে এই অর্জনের মাধ্যমে সমগ্র জাতির বহুদিনের কাঙ্খিত স্বপ্ন পূর্ণ হলো।”

গত পাঁচ দশকে বাংলাদেশ যে বিস্ময়কর অগ্রগতি সাধন করেছে তা এক ভিডিও বার্তায় উল্লেখ করেন জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস। বিশেষকরে সামাজিক উন্নয়ন, দূর্যোগ প্রস্তুতি ও মোকাবিলার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সাফল্যের কথা উল্লেখ করেন মহাসচিব। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সর্বোচ্চ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অমূল্য অবদানের কথা তুলে ধরেন গুতেরেস। বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের মানবিক আশ্রয় দেয়া এবং ক্লাইমেট ভারণারেবল ফোরামের সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশের ভূমিকার প্রশংসা করেন জাতিসংঘ মহাসচিব। তিনি বলেন, “আমরা জলবায়ু সঙ্কট মোকাবিলা এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে সবসময়ই বাংলাদেশের পাশে আছি।”

বহুপাক্ষিকতাবাদ, আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা, শান্তির সংস্কৃতি এজেন্ডা, এবং মানবিকতার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অসামান্য অবদানের কথা প্রদত্ত বক্তব্যে তুলে ধরেন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি ভলকান বজকির। বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ার জন্য তিনিও বাংলাদেশের উদারতার প্রশংসা করেন। এছাড়া এসডিজি অর্জনে বাংলাদেশের সাফল্যের কথাও উল্লেখ করেন সাধারণ পরিষদ সভাপতি।

অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জাতিসংঘে নিযুক্ত মরক্কো, আয়ারল্যান্ড, বারবাডোস, ব্রুনেই দারুসসালাম, ওমান, সিয়েরা লিওন, জাপান, ভারত ও সৌদি আরবের স্থায়ী প্রতিনিধিরা। বক্তব্য রাখেন জাতিসংঘের ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল, ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক এবং ইউএনডিপির প্রশাসক। বক্তাগণ বিগত পাঁচ দশকে বাংলাদেশের অভূতপূর্ব আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য এর জনগণ এবং নেতৃত্বকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। নারীর ক্ষমতায়ন, শান্তিরক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তন, মানবিকতা প্রদর্শনসহ সমসাময়িক আন্তর্জাতিক ইস্যুগুলোতে বাংলাদেশের নেতৃত্ব ও অবদানের প্রশংসা করেন তারা।

এর আগে সকালে, জাতিসংঘ বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। সকালের পর্বে মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের পবিত্র আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজান করা হয়। এরপর দিবসটি উপলক্ষ্যে দেয়া রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পড়ে শোনানো হয়।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY