পাঞ্জশিরে কেন আটকে আছে তালেবান!

0
52
পাঞ্জশিরে কেন আটকে আছে তালেবান!

আফগানিস্তানের বেশিরভাগ এলাকা তালেবানদের হাতে চলে আসে কয়েক সপ্তাহ আগেই। সবাইকে অবাক করে দিয়ে গত ১৫ আগস্ট বিনা রক্তপাতে কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিশ্বকে চমকে দিয়েছে তালেবান।

কিন্তু শত শত যোদ্ধা পাঠিয়েও রাজধানীর অদূরেই পাঞ্জশির এখনও দখল করতে পারছে না তালেবান।

আফগানিস্তানের প্রায় ৯৮ শতাংশ দখল করে ফেললেও পাঞ্জশিরে ফের আটকে গেল তালেবান। এমনকি গত সপ্তাহে পাঞ্জশিরে নর্দার্ন অ্যালায়েন্সের পতাকাও উড়িয়েছে সালেহ-মাসুদ বাহিনী।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের দাবি, মাসুদের ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট অব আফগানিস্তানের সঙ্গে লড়াইয়ে ইতোমধ্যেই শতাধিক তালেবান যোদ্ধা নিহত হয়েছে।

কাবুল দখলের পর টার্গেট করে পাঞ্জশির। দখল নিতে চলতি সপ্তাহেই শত শত যোদ্ধা পাঠানো হয়। কয়েকদিন ধরেই উপত্যকা ঘিরে রেখেছে তালেবান যোদ্ধারা। চেষ্টা করছে শহরে ঢোকার। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো সফলতা পাচ্ছে না তালেবানরা।

১৯৮০’র দশকে সোভিয়েত ইউনিয়নের আফগানিস্তান আগ্রাসনকালে উপত্যকাটি আরও বিখ্যাত হয়ে ওঠে। প্রায় দশ বছর দখলকারি কায়েম রাখলেও সব রকম চেষ্টা-তদবির করেও পাঞ্জশির দখলে নিতে পারেনি সোভিয়েত সেনারা। তাদের সব কৌশলই ব্যর্থ করে দেন বর্তমান ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট (এনআরএফ) নেতা আহমদ মাসুদের বাবা গেরিলা কমান্ডার আহমেদ শাহ মাসুদ। যিনি শুধু এই পাঞ্জশির উপত্যকা নয়, পুরো আফগানিস্তানেই পরিচিত। সে সময় হাজার হাজার সেনা পাঠিয়ে, হেলিকপ্টার ও ট্যাংকযোগে হামলা চালিয়েও তাকে পরাজিত করতে পারেনি সোভিয়েত ইউনিয়ন।

এরপর আসে তালেবান। ১৯৯৬-এ যখন গোটা আফগানিস্তান প্রায় তাদের দখলে, তখনও পাঞ্জশিরে নিজেদের ভূমির নিয়ন্ত্রণ রেখেছিলেন স্থানীয় নেতা আহমেদ শাহ মাসুদের বাহিনী। তালেবান ও আলকায়দার বিরুদ্ধে বারবার গলা তোলায় ২০০১ সালে ওসামা বিন লাদেনের নির্দেশে আলকায়দার হাতে খুন হতে হয় তাকে। কিন্তু তার পরেও পাঞ্জশির দখল করতে পারেনি তালেবান।

পাঞ্জশির কেন দখল করতে পারছে না তালেবান

তালেবানকে তাদের শহরের বাইরে রাখতে সক্ষম হয়েছে প্রতিরোধ বাহিনী ন্যাশনাল রেসিস্ট্যান্স ফ্রন্ট অব আফগানিস্তান (এনআরএফ)। যার নেতৃত্বে রয়েছে তালেবানবিরোধী নেতা আহমেদ মাসুদ।

‘পাঞ্জশিরের সিংহ’ বলে পরিচিত প্রয়াত তালেবানবিরোধী নেতা আহমেদ শাহ মাসুদের ছেলে তিনি।

এক সাক্ষাত্কারে মাসুদ বলেন, ‘আমি আহমেদ শাহ মাসুদের ছেলে। আত্মসমর্পণ শব্দটা আমার অভিধানে নেই।’ সম্প্রতি বিবিসিকে এক সাক্ষাৎকারে এনআরএফের পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রধান আলি নাজারি বলেন, ‘লাল ফৌজও (সোভিয়েত সেনা) তাদের সর্বশক্তি দিয়েও আমাদের হারাতে সক্ষম হয়নি। এরপর এখন থেকে ২৫ বছর আগে তালেবানও এই উপত্যকা দখলের চেষ্টা করেছিল। তারা ব্যর্থ হয়েছিল। চরম পরাজয় বরণ করেছিল।’

আফগানিস্তানের ইতিহাসে প্রাচীনকাল থেকেই বারবারই আলোচনায় উঠে এসেছে পাঞ্জশির। কারণ আর কিছুই নয়, ভৌগোলিক আর কৌশলগত অবস্থানের কারণেই এ যাবৎ কোনো বিদেশি শক্তিই এর নিয়ন্ত্রণ নিতে পারেনি। এখন থেকে ২৫০০ বছর আগে পারস্য সাম্রাজ্য জয় করেন মহাবীর আলেকজান্ডার। ওই সময় তারই নেতৃত্বে পাঞ্জশির উপত্যকাও দখলের চেষ্টা করেছিল গ্রিক সেনারা। কিন্তু জয় করতে পারেনি। অবশেষে নিজে থেকে স্থানীয় গোত্রগুলোর সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করতে বাধ্য হন আলেকজান্ডার।

এর প্রায় দুই হাজার বছর পর শিখ মহারাজা রনজিত্ সিংয়ের খালসা শাসনামলেও উপত্যকাটি সম্পূর্ণই সুরক্ষিত ছিল। রনজিত্ সিংয়ের নেতৃত্বে পাঞ্জাবকে কেন্দ্র করে ১৭৯৯ সালে গড়ে উঠেছিল খালসা তথা শিখ সাম্রাজ্য।

১৮৪৯ সাল পর্যন্ত স্থায়ী এই সাম্রাজ্যে পশ্চিমে খাইবার পাস থেকে পূর্বে তিব্বত ও দক্ষিণে মিথানকোট থেকে উত্তরে কাশ্মীর পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। এরপর একাধিক আফগানিস্তান আক্রমণ করলেও ব্রিটিশ সেনারা ভুলেও পাঞ্জশিরে প্রবেশের সাহস করেনি।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY