ফখর জামানের রেকর্ড অথপর পাকিস্তানের হার

0
91
ফখর জামানের রেকর্ড অথপর পাকিস্তানের হার

জিতলেই এক ম্যাচ হাতে রেখে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ নিশ্চিত। এমন সহজ সমীকরণের ম্যাচে ৩৪২ রানের বিশাল টার্গেট তাড়া করতে নেমে এক উইকেটে ৭০ রান করা পাকিস্তান এরপর ৪৯ রানের ব্যবধানে ৪ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে কার্যত ছিটকে যায়।

দলের এমন ব্যাটিং বিপর্যয়ের দিনে একাই লড়াই করেন ওপেনার ফখর জামান। তার একার লড়াইয়ে একটা সময়ে জয়ের স্বপ্ন দেখেছিল পাকিস্তান। কিন্তু শেষ দিকে রান রেট বেড়ে যাওয়ায় জয়ের আশা জাগিয়েও শেষ পর্যন্ত ১৭ রানে হেরে যায় পাকিস্তান।

দলের হয়ে একাই লড়াই করেন ফখর জামান। ইনিংস ওপেন করতে নেমে শেষ ওভারের প্রথম বলে দুর্ভাগ্যবশত রান আউট হন তিনি। তার আগে ১৫৫ বল মোকাবেলায় ১৮টি চার ও ১০টি দৃষ্টিনন্দন ছক্কার সাহায্যে করেন ১৯৩ রান।

এই রান করার মধ্য দিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক তারকা ক্রিকেটার হার্সেল গিভসকে ছাড়িয়ে যান ফখর জামান। দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গের দ্য ওয়ান্ডারার্স স্টেডিয়ামে এর আগে সর্বোচ্চ ১৭৫ রানের ইনিংস খেলেন হার্সেল গিভস।

৩৪১ রানের বিশাল টার্গেট তাড়া করতে নেমে মাত্র ৭ রানে ওপেনার ইমাম-উল-হকের উইকেট হারায় পাকিস্তান। প্রাথমিক সেই ধকল সামাল দেন অধিনায়ক বাবর আজম।

এক উইকেটে ৭০ রান করা পাকিস্তান এরপর ৪৯ রানের ব্যবধানে ৪ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে যায়। দলের এই ব্যাটিং বিপর্যয়ের দিনে একাই লড়াই করে যান ওপেনার ফখর জামান। দ্বিতীয় উইকেটে ৬৩ রানের জুটি গড়ে ফেরেন অধিনায়ক বাবর (৩১)। ষষ্ঠ উইকেটে আসিফ আলীকে সঙ্গে নিয়ে ৬৬ রানের জুটি গড়েন ফখর।

দলীয় ১৮৬ রানে ফেরেন আসিফ (১৯)। সপ্তম ব্যাটসম্যান হিসেবে ফাহিম আশরাফ যখন সাজঘরে ফেরেন তখন পাকিস্তানের সংগ্রহ ৩৭.৪ ওভারে ২০৭ রান। জয়ের জন্য ৭৪ বলে প্রয়োজন ছিল ১৩৫ রান। ৭৪ বলে ১১৮ রান করতে পারে পাকিস্তান।

রোববার টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকেই রানের জন্য মরিয়া হয়ে খেলে দক্ষিণ আফ্রিকা। উদ্বোধনীতে ৯.৩ ওভারে ৫৫ রান করে ফেরেন এইডেন মার্কওরাম। সাজঘরে ফেরার আগে ৩৪ বলে ৪টি চার ও দুই ছক্কায় ৩৯ রান করেন তিনি।

তিনে ব্যাটিংয়ে নামা অধিনায়ক টিম্বা বাভুমার সঙ্গে ফের ১২৬ বলে ১১৪ রানের জুটি গড়েন ওপেনার কুইন্টন ডি কক। এই জুটিতেই ফিফটি তুলে নিয়ে সেঞ্চুরির পথে ছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক অধিনায়ক। কিন্তু হারিস রউফের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন ডি কক। সাজঘরে ফেরার আগে ৮৬ বলে ১০টি চার ও এক ছক্কায় ৮০ রান করেন কক। ৩০.১ ওভারে দলীয় ১৬৯ রানে ফেরেন ডি কক।

চারে ব্যাটিংয়ে নামা রিসি ভেন দার ডুসেনকে সঙ্গে নিয়ে ১০১ রানের জুটি গড়েন অধিনায়ক বাভুমা। রীতিমতো ব্যাটিং তাণ্ডব চালিয়ে মাত্র ৩৭ বলে ৬টি চার ও চার ছক্কায় ৬০ রান করে ফেরেন ডুসেন।

ওপেনার কুইন্টন ডি ককের মতো সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জানিয়েও ব্যর্থ বাভুমা। ১০২ বলে ৯টি চারের সাহায্যে দলীয় সর্বোচ্চ ৯২ রান করে ডি ককের মতো হারিস রউফের শিকার হন বাভুমা। ৪৬.২ ওভারে দলীয় ৩০৬ রানে চতুর্থ ব্যাটসম্যান হিসেবে ফেরেন তিনি।

ইনিংসের শেষ ২২ বলে ২ উইকেট হারিয়ে ৩৫ রান সংগ্রহ করে দক্ষিণ আফ্রিকা। মাত্র ২৭ বলে তিন চার ও তিন ছক্কায় অপরাজিত ৫০ রান করেন ডেভিড মিলার।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:-
দক্ষিণ আফ্রিকা: ৫০ ওভারে ৩৪১/৬ (বাভুমা ৯২, ডি কক ৮০, ডুসেন ৬০, মিলার ৫০*, মার্কওরাম ৩৯; হারিস রউফ ৩/৫৪)।

পাকিস্তান: ৫০ ওভারে ৩২৪/৯ (ফখর জামান ১৯৩, বাবর আজম ৩১)।

ফল: দক্ষিণ আফ্রিকা ১৭ রানে জয়ী।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY