‘বিমানে দুর্নীতির জন্মদাতা বিএনপি’

0
138

সরকারের অনুমোদন নিয়ে ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর মালিকানা হস্তান্তর এবং দেশ-বিদেশে শাখা খোলার সুযোগ দিয়ে জাতীয় সংসদে বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) বিল-২০২০’ বিল পাস হয়েছে। পাওয়া হওয়া বিলে আইন লংঘনের অপরাধে ট্রাভেল এজেন্সিকে জরিমানার সুযোগ রয়েছে।

সোমবার দুপুরে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশনে বিলটি পাসের প্রস্তাব করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী। বিলটির উপর জনমত যাচাই ও বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব করেন বিরোধী দলীয় সদস্যরা। সেই প্রস্তাব কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়। পরে বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়।

বিলটি পাসের আলোচনায় অংশ নিয়ে বিএনপির সংসদ সদস্য মো. হারুনুর রশিদ বলেন, ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর কাছে বিমানের পাওনা অনাদায়ী থাকে। তারা বিমানকে টাকা দেয় না। জরিমানার ব্যবস্থা আছে, কিন্তু কার্যকর নেই। সংস্থাগুলোর কাছ থেকে টাকা আদায়ের ব্যবস্থা করতে হবে।
একই দলের ব্যারিষ্টার রুমিন ফারহানা বিমানের দুনীতির অভিযোগ করে বলেন, এজেন্সিগুলো অনিয়ম করলে তাদের সনদ বাতিলের ব্যবস্থা ছিল। কিন্তু সেটা করা হয় না। বিভিন্ন সময় বিমানের অনিয়ম দুনীতির মাধ্যমে ১২শ’ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেই। এসব দুর্নীতির সঙ্গে সরকারি দলের লোক ও বিমানের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তারা জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

জাতীয় পার্টির মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, বিমানের ইতিহাস সুখকর নয়। ১৯৭২ সালে বিমান প্রতিষ্ঠার পর লাভ করেছে অল্প সময়, অধিকাংশ সময়ই লোকসান দিয়েছে। বিমানের উন্নয়নের প্রধানমন্ত্রী নতুন বিমান আনছেন। এগুলো সংরক্ষণের ব্যবস্থা নিতে হবে। এজেন্সিগুলো টিকিট বিক্রি করে বিমানকে টাকা দেয় না। বিমানের টিকিট পাওয়া যায় না কিন্তু বিমানে উঠলে দেখা যায় সিট ফাঁকা। এসব এজেন্সিগুলোর কারসাজি। এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।

ওই সকল বক্তব্যের জবাবে বিএনপি বিমানের দুর্নীতির জন্মদাতা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী বলেন, বিমানের অব্যবস্থাপনা বিএনপির আমলে তৈরি হয়েছিল। বিএনপির আমলে তারা বিমানকে লুটপাটের আখড়া বানিয়েছিল। হাওয়া ভবন তৈরি করে সর্বত্র দুর্নীতির লুটপাট চালানো হয়েছে। এখন বিমানে দুর্নীতি হয় না বলবো না, সামান্য হয়। আমরা তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিচ্ছি। তিনি আরো বলেন, বিমানের টিকিট পাওয়া যায় না- এ অবস্থা ছিল। আমরা তার বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি। টিকিটের ব্যবস্থা করেছি। এখন কেউ বলতে পারবে না, বিমানে সিট আছে টিকিট নেই। বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে বসতে না পারার যে অভিযোগ এসেছে সেটা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন তিনি।
বিদ্যমান আইনে অপরাধের জন্য ট্রাভেল এজেন্সিকে জরিমানার সুযোগ নেই। কর্তৃপক্ষ তাদের নিবন্ধন স্থগিত বা বাতিল করে। পাস হওয়া বিলে জরিমানার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। ট্রাভেল এজেন্সিগুলো যৌক্তিক কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিবন্ধনের আবেদন করতে না পারলে পরবর্তী ছয় মাসের মধ্যে জরিমানা দিয়ে আবেদন করতে পারবে। বর্তমান আইন অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিবন্ধনের আবেদন না করলে ট্রাভেল এজেন্সির নিবন্ধন বাতিল হয়ে যেত।

পাস হওয়া বিলে আইনের কোনো বিধান লঙ্ঘন করলে ছয় মাস জেল ও পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দন্ডের বিধান রাখা হয়েছে। এ সংক্রান্ত মামলা নিষ্পত্তিতে ফৌজদারি কার্যবিধি প্রযোজ্য হবে উল্লেখ করা হয়েছে। অনুমোদন ছাড়া কোনো ট্রাভেল এজেন্সি ঠিকানা পাল্টাতে পারবে না-এমন বিধানও সেখানে যুক্ত করা হয়েছে।

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্পর্কে বলা হয়েছে, আইনটি অনুমোদিত হলে নবায়ন আবেদন দাখিলে বিলম্ব ও অপরাধের জন্য লাইসেন্স বাতিলের পরিবর্তে বিধি নির্ধারিত জরিমানা আদায় করে সনদ নবায়ন এবং নির্ধারিত শর্তসাপেক্ষে মালিকানা হস্তান্তর দেশে-বিদেশে শাখা অফিস খোলার সুযোগ সৃষ্টি হবে। ফলে ট্রাভেল এজেন্সি থেকে কাঙ্খিত সেবা প্রাপ্তি সহজ হবে। এতে সরকারের রাজস্ব আয়ও বাড়বে।

গত ৭ সেপ্টেম্বর বিলটি সংসদে উত্থাপন করা হয়। পরে সেটি অধিকতর পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY