বোরকা নিষিদ্ধের প্রতিবাদ মাস্ক পরে

0
61

নেদারল্যান্ডে বোরকা নিষিদ্ধের বিরুদ্ধে অভিনব পন্থায় প্রতিবাদ জানিয়ে সবার নজরে আসেন তুর্কি বংশোদ্ভূত একজন শিল্পী। করোনা মহামারিকালে মাস্ক সবার জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুসঙ্গ হয়ে দাঁড়ায়। আর তাই পুরো মুখে মাস্ক পরে প্রতিবাদে অংশ নেন নেদারল্যান্ডের বাসিন্দা এরসেম এরিল।

নেদারল্যান্ডের রাজধানী আমস্টারডামে চারুকলা শিল্পের পরিচালক হিসেবে কাজ করেন এরিল। বোরকা নিষিদ্ধের প্রতিবাদ হিসেবে তিনি এক সঙ্গে অনেক মাস্ক পরেন এবং এটাকে তিনি ‘বৈধ বোরকা’ বলে আখ্যায়িত করেন।

তুরস্ক ভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম আনাদোলু এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে এরিল জানান, তিনি বাধ্যতামূলক মাস্ক পরিধান করে নিষিদ্ধ বোরকার চিত্র তৈরি করেছেন। এখন মানুষের কাছে মাস্ক পরার বাধ্যবাধকতার মধ্যেও নিষিদ্ধের অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলতে চাই।

kalerkanthoমাস্ক পরে বোরকা নিষিদ্ধের প্রতিবাদ জানান এরসেম এরিল।

বোরকার নিষিদ্ধের এমন কাজকে নিষিদ্ধ সিলুয়েটে প্রয়োজনীয় সামগ্রির সংমিশ্রণে প্রতিরোধমূলক কাজ বলে আখ্যায়িত করেন এরিল। এছাড়া অন্যায় ও বৈষম্যের প্রতি আঙুল ‍দিয়ে দেখিয়ে দিতে মাস্কের তৈরি বোরকাতে ন্যায়ের প্রতীক থেমিস মূর্তির আকৃতি রাখেন। প্রতিবাদের অংশ হিসেবে তুর্কি শিল্পী এরিল মাস্ক দিয়ে বোরাক ও নিকাব তৈরির একটি গাইডবুক তৈরি করেন।

এরিল বলেন, ‘আইন অনুসারে মুখ ঢেকে রাখে এমন কিছু পরিধান নিষিদ্ধ হলে মাস্ক পরিধানের বাধ্য-বাধকতা দেওয়া অত্যন্ত জটিল বিষয়।’ বোরকার নিষেধাজ্ঞাকে ‘আইনের বর্ণবাদী দৃষ্টিভঙ্গি’ উল্লেখ করে তিনি জানান, ‘অথচ বৈশ্বিক পর্যায়ে বর্ণবাদ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।’

২০১৯ সালে আগস্ট থেকে নেদারল্যান্ডে বোরকা নিষিদ্ধ হয়। আইনটি লঙ্ঘন করে যারা গণসম্মুখে মুখ ঢেকে রাখবে তাদেরকে ১৫০ ইউরো (প্রায় ১৭৬ ডলার) জরিমানা আদায় করতে হবে। এদিকে গত ৭ মার্চ গণভোটের মাধ্যমে সুইজারল্যান্ডে বোরকা নিষিদ্ধ করা হয়।

সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY