মালিক-শ্রমিকদের দূরপাল্লার গণপরিবহণ চালুসহ ৫ দফা দাবি

0
46

স্বাস্থ্যবিধি মেনে দূরপাল্লার বাস চালুর অনুমতি না দিলে ঈদের দিন অবস্থান ধর্মঘট করার ঘোষণা দিয়েছে পরিবহণ মালিক-শ্রমিকদের সংগঠনগুলো।

জাতীয় প্রেস ক্লাবে আজ শনিবার বেলা ১১টায় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ মালিক সমিতি, বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ শ্রমিক ফেডারেশন এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে পাঁচ দফা দাবি জানিয়ে এ ঘোষণা দেয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাংসদ শাজাহান খান।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শাজাহান খান। তিনি বলেন, ‘গত ৬ মে থেকে লকডাউন শিথিল রেখে মহানগর ও জেলার অভ্যন্তরে গণপরিবহণ পরিচালনার সিদ্ধান্ত দিয়েছে সরকার। কিন্তু, দূরপাল্লার গণপরিবহণ বন্ধ রয়েছে। এতে মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। অথচ বাস-মিনিবাস, সিএনজি চালিত অটোরিকশায় গাদাগাদি করে মানুষ যাতায়াত করছে। এতে করোনা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে দূরপাল্লার গণপরিবহণ এবং স্বাভাবিকভাবে পণ্য পরিবহণ চালু করে দিতে হবে।’

লিখিত বক্তব্যে পাঁচ দফা দাবি জানিয়ে শাজাহান খান আরও বলেন,  ‘স্বাস্থ্যবিধি মেনে মোট আসনের অর্ধেক যাত্রী নিয়ে দূরপাল্লার পরিবহণসহ সব ধরনের গণপরিবহণ এবং স্বাভাবিক মালামাল নিয়ে পণ্য পরিবহণ চলাচলের সুযোগ দিতে হবে। লকডাউনের কারণে কর্মহীন সড়ক পরিবহণ শ্রমিকদের আসন্ন ঈদের আগে আর্থিক অনুদান ও খাদ্য সহায়তা প্রদান করতে হবে। লকডাউনে গণপরিবহণ বন্ধ থাকায় মালিকদের যানবাহন মেরামত, কর্মচারী ও শ্রমিকের বেতন, ভাতা ও ঈদ বোনাস ইত্যাদি দেওয়ার জন্য নামমাত্র সুদ ও সহজ শর্তে পাঁচ হাজার কোটি টাকা প্রণোদনা দিতে হবে।’

এ ছাড়া শাজাহান খান আরও বলেন, সারা দেশে বাস ও ট্রাক টার্মিনালগুলোতে পরিবহণ শ্রমিকদের জন্য আসন্ন ঈদের আগে ও পরে ১০ টাকায় ওএমএস-এর চাল বিক্রির ব্যবস্থা করতে হবে। কোভিড-১৯-এর কারণে গণপরিবহণ ব্যবসায় অর্থ বিনিয়োগের বিপরীতে সব ব্যাংক ঋণ, আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণ এবং ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের ঋণের সুদ মওকুফসহ কিস্তি আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত স্থগিত করতে হবে এবং দুই শতাংশ ডাউন পেমেন্ট নিয়ে ক্লাসিফায়েড ঋণগুলো আনক্লাসিফায়েড করতে হবে।

এ ছাড়া লকডাউনে বন্ধ থাকার সময় গাড়ির ট্যাক্স-টোকেন, রুট পারমিট ফি, আয়কর, ড্রাইভিং লাইসেন্স ফিসহ সব ধরনের ফি, কর ও জরিমানা মওকুফ করে ৩১ ডিসেম্বর ২০২১ পর্যন্ত কাগজপত্র হালনাগাদ করার সুযোগ দিতে হবে।

শাজাহান খান বলেন, এই পাঁচ দফা দাবি বাস্তবায়ন করা না হলে ঈদের নামাজ শেষে সারা দেশের মালিক ও শ্রমিকেরা নিজ নিজ এলাকায় বাস ও ট্রাক টার্মিনালে সকাল ১০টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি পালন করবেন। এ ছাড়া ঈদের পর পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ মালিক সমিতির সভাপতি মশিউর রহমান রাঙ্গা, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্ল্যাহসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY