মায়ের সেবাসহ ৩ শর্তে বাড়িতে থাকার অনুমতি পেল দণ্ডিত আসামি!

0
265
মায়ের সেবাসহ ৩ শর্তে বাড়িতে থাকার অনুমতি পেল দণ্ডিত আসামি!
মায়ের সেবাসহ ৩ শর্তে বাড়িতে থাকার অনুমতি পেল দণ্ডিত আসামি!

ইয়াবার মামলায় পাঁচ বছরের দণ্ডিত আসামি মতি মাতবর জেলে নয়, থাকবেন পরিবারের সঙ্গে। তবে মানতে হবে কয়েকটি শর্ত। দেড় বছর ধরে তিনি থাকবেন প্রবেশন অফিসারের অধীনে।

পাঁচ বছরের দণ্ডের বিরুদ্ধে আসামির করা রিভিশনের শুনানি নিয়ে রোববার বিচারপতি জাফর আহমেদের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ এমন একটি রায় দিয়েছেন।

রায়ে প্রবেশনের সুযোগ চেয়ে করা আবেদন গ্রহণ করে আসামির রিভিশন খারিজ করে দিয়েছেন। ১৯৬০ সালের প্রবেশন অধ্যাদেশ অনুযায়ী, বাংলাদেশে এটি দ্বিতীয় রায় বলে আইনজীবীরা জানিয়েছেন।

যে শর্তগুলো মানতে হবে সেগুলো হল- ৭৫ বছরের বৃদ্ধ মায়ের যত্ন নিতে হবে। দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়ে ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়া ছেলের লেখাপড়া চালিয়ে নিতে হবে। আইন অনুসারে নির্ধারিত বয়সের আগে মেয়েকে বিয়ে দিতে পারবেন না। এসব শর্ত না মানলে তাকে আবার জেলে যেতে হবে।

আদালতে আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মো. রুহুল আমীন এবং মো. আসাদ উদ্দিন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. এনামুল হক মোল্লা। এ সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলা প্রবেশন অফিসার মো. আজিজুর রহমান মাসুদ। আসামিকে তাৎক্ষণিকভাবে তার তত্ত্বাবধানে দিয়ে দেয়া হয়।

প্রবেশন হল একটি অপ্রাতিষ্ঠানিক ও সামাজিক সংশোধনী কার্যক্রম। দণ্ডিত ব্যক্তির শাস্তি স্থগিত করে তাকে কারাগারে অন্তরীণ না রেখে সমাজে খাপ খাইয়ে চলার সুযোগ দেয়া হয় প্রবেশনে। এর মাধ্যমে পুনঃঅপরাধ রোধ এবং একজন আইনমান্যকারী নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার জন্য তাকে সহায়তা করা হয়।

রায়ের পর আইনজীবী শিশির মনির বলেন, আসামি মতি মাতবরকে প্রবেশনের অনুমতি দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে সমাজ সেবা অধিদফতরের ঢাকা জেলার প্রবেশন কর্মকর্তা মো. আজিজুর রহমান মাসুদের তত্ত্বাবধানে দিয়ে দেয়া হয়েছে। প্রবেশনের শর্ত না মানলে মতি মাতবরকে আবার কারাগারে যেতে হবে।

বাংলাদেশের বিচার বিভাগের ইতিহাসে প্রবেশন আইনে হাইকোর্ট দেয়া দ্বিতীয় রায় এটি। তবে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ক্ষেত্রে এটি প্রথম রায়। আসামির ৫ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থনৈতিক দণ্ড স্থগিত করে এ রায় দেয়া হয়েছে।

এক হাজারের বেশি ইয়াবা উদ্ধারের অভিযোগে মতি মাতবরসহ দুইজনের বিরুদ্ধে ২০১৫ সালের ২৩ নভেম্বর মামলা করে ঢাকার কোতোয়ালি থানা পুলিশ। সেই মামলার বিচার শেষে ২০১৭ সালের ৮ জানুয়ারি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দুই আসামিকে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন হাকিম আদালত। আসামিরা ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলে ওই বছরই তা খারিজ করে দেন মহানগর দায়রা জজ আদালত। পরে আসামি মতি মাতবর ২০১৭ সালের ১ জুলাই হাইকোর্টে রিভিশন আবেদন করেন। হাইকোর্ট রিভিশন আবেদনটি শুনানির জন্য গ্রহণ করে ওই বছরের ৯ জুলাই মতি মাতবরকে জামিন দেন। ২০১৫ সালের ২৩ নভেম্বর গ্রেফতারের পর দণ্ডিত এই ব্যক্তি ২০ মাস কারাভোগ করেন।

আইনজীবী শিশির মনির আরও বলেন, যেহেতু মতি মাতবরের এটিই প্রথম অপরাধ এবং আর কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার কোনো রেকর্ড নেই। সে কারণে তিনি রিভিশনের শুনানিতে প্রবেশন অধ্যাদেশ, ১৯৬০ এর ধারা ৫ অনুযায়ী প্রবেশন চেয়ে আবেদন করেন। আদালত চলতি বছরের ৭ অক্টোবর ১০ দিনের মধ্যে আসামির নামে ব্যাংক হিসাব এবং টিন নম্বর খুলে দিতে ঢাকার অপরাধী সংশোধন ও পুনর্বাসন সমিতিকে নির্দেশ দেন। সেই সঙ্গে ২১ অক্টোবর ঢাকা জেলার প্রবেশন কর্মকর্তাকে দণ্ডিত মতি মাতবরের বিষয়ে খোঁজ-খবর নিয়ে হাইকোর্টে প্রতিবেদন দিতে বলেন। সে অনুযায়ী প্রবেশন কর্মকর্তা মতি মাতবরের বিষয়ে খোঁজ-খবর নিয়ে গত ২ নভেম্বর আসামি সম্পর্কে ইতিবাচক প্রতিবেদন দেন। সে প্রতিবেদন দেখেই রোববার হাইকোর্ট মতি মাতবরকে দেড় বছর প্রবেশনে থাকার অনুমতি দিল।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY