রংপুরে বালুচরে সবুজে ছাউনি

0
83
রংপুরে বালুচরে সবুজে ছাউনি
রংপুরে বালুচরে সবুজে ছাউনি

রুপালি বালুচরে ‘সবুজের বিপ্লব’ ঘটে গেছে রংপুর অঞ্চলে। নিজেদের বুদ্ধি ও অর্থ খরচ করে আলু, পেঁয়াজ, ভুট্টা, মিষ্টি কুমড়া, কাঁচা মরিচসহ প্রায় সব ফসলই আবাদ করছেন কৃষকরা। তবে, একদিকে সরকারের কোনও নীতি-সহায়তা না পাওয়া, আরেক দিকে উৎপাদিত ফসলের দাম না পাওয়ায় মাথা তুলে দাঁড়াতে পারছে না ‘হিডেন ডায়মন্ড’ হিসেবে বিবেচিত এই চরের কৃষি।

তপ্ত বালুচরে এখন সবুজের ছাউনি। মাইলের পর মাইল আলু, মিষ্টি কুমড়া, পেঁয়াজ-রসুন, ভুট্টাসহ নানা ফল-ফসলের সমাহার। চরের নারী-পুরুষ জড়িয়ে পড়েছে চাষবাসে। অমানবিক শ্রম আর নিজেদের বুদ্ধি-কৌশল খাটিয়ে বালুচরের ফসল তুলছেন তারা। কিন্তু সেই দাম না পাওয়ার দুর্ভাগ্য মাথা তুলে দাঁড়াতে দিচ্ছে না।

কৃষকরা জানান, কিস্তির টাকা দিয়ে জমির আবাদ করেছি। কিন্তু এখন ফসলের দাম না পেলে আমরা মাঠে মারা যাব।

সেচ-সার-বীজ, ভর্তুকি, কৃষিঋণ দূরের কথা, কৃষি বিভাগের পরমর্শটুকুও না পাওয়ার আক্ষেপ তাদের।কৃষকরা জানান, আমরা কৃষি অফিসে সাহায্য বা পরামর্শের জন্য গেলে সেভাবে পাই না। সার বা বীজ পেলে আমাদের জন্য ভালো হতো।

এই মুহূর্তে চরের কৃষিকে ‘হিডেন ডায়মন্ড’ আখ্যায়িত করে খাদ্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কাজে লাগানোর তাগিদ এই কৃষক নেতার।

রংপুর জেলা জাতীয় কৃষক সমিতির সভাপতি নজরুল ইসলাম হক্কানি বলেন, চরের কৃষকরা দ্রুত বাজারের নিয়ে আসতে পারে, সে জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা প্রয়োজন। এতে কৃষকরা লাভবান হবেন।

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক কৃষিবিদ ড. সরওয়ারুল ইসলাম বলেন, চরের কৃষির উন্নয়নে উদ্যোগে নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়াও অনাবাদি জমিগুলোকে চাষের আওতায় নিয়ে আসার জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য রংপুর, লালমনিরহাট ও নীলফামারী জেলার তিস্তা নদীবেষ্টিত চরে ১৫৪টি চরে জমির পরিমাণ সাড়ে ১৯ হাজার হেক্টর। এর মধ্যে আবাদযোগ্য প্রায় ১৮ হাজার হেক্টর জমিতে হচ্ছে ৩৩ প্রকার ফসলের চাষ।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY