রানা প্লাজা ধসের ৮ বছর : ‘আমরা তোমাদের ভুলবো না’

0
70

জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে বহুল আলোচিত সাভারের রানা প্লাজা ট্রাজেডির আট বছর উপলক্ষে নানা কর্মসূচি পালন করেছে রানা প্লাজার আহত ও নিহত শ্রমিকদের পরিবারের সদস্যসহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন ও শ্রেণীপেশার লোকজন।
ধসে পড়া রানা প্লাজার সামনে নিহত শ্রমিকদের পরিবারের সদস্য, আহত শ্রমিকরা, বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতাকর্মী ও সর্বস্তরের জনসাধারণ নিহত শ্রমিকদের স্মরণে নির্মিত অস্থায়ী শহীদ বেদীতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে এক মিনিট নিরবতা পালন ও দোয়া করা হয়। অনেকেই কালো ব্যাজ বিতরণ ও ধারণ করে। পরে সেখানে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করে বিভিন্ন সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।

গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির উদ্যোগে সকাল ১০টায় অস্থায়ী বেদীতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ‘আমরা তোমাদের ভুলবো না; দোষীদের ছাড়বো না’ শ্লোগান নিয়ে সংগঠনটির সভাপ্রধান তাসলিমা আখতার বলেন, সরকার ও মালিকরা রানা প্লাজার ঘটনাকে ইতিহাস থেকে মুছে ফেলতে চাইছে। বাংলাদেশের ইতিহাস পোশাক শ্রমিকদের আত্মদানকে অস্বীকার করে সম্পূর্ণ হতে পারে না। রানা প্লাজা, তাজরিন, স্পেকট্রাম, সারাকা, কেটিএস, গরিব অ্যন্ড গরিবসহ অসংখ্য কারখানায় আগুনে পুড়ে, ভবন ধসে শ্রমিকরা জীবন দিয়েছেন। তাঁদের অবদানকে স্বীকার করতে হবে। আজ করোনাকালে সবাই যখন ঘরে থাকছে শ্রমিকরা অর্থনৈতিক যোদ্ধা হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন। কিন্তু তাদের কাজের স্বীকৃতি নাই। তারা না পাচ্ছেন করোনা টেস্ট করতে না পাচ্ছেন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকা নিতে।

২৪ এপ্রিলের সেই ঘটনায় ১৭ ঘণ্টা ধ্বংসস্তুপে আটকে থাকা রূপালী আক্তার বলেন, আগেরদিন শুনেছিলাম তৃতীয় তলায় ফাটল ধরেছে। কিন্তু তেমন গুরুত্ব দেননি। পররদিন ভেবেছিলাম হয়তো কারখানা বন্ধ থাকবে। ফলে নতুন জামা পরে গিয়েছিলাম। কারাখানা বন্ধ থাকলে কায়েকজন মিলে নবীনগর ঘুরতে যাবো ভেবে। কিন্তু কারখানায় ঢুকে সবকিছুই উল্টেপাল্টে গেলো। তিনি ১৭ ঘণ্টা এক সহকর্মীর লাশের ওপর শুয়েছিলাম। তারপর ছিলো আরো একজন। দিন রাত বোঝার কোনো ক্ষমতা ছিলো না। অনেকেই পানির চেষ্টায় চিৎকার করেছিল। দৃশ্যগুলো মনে পড়লে এখনো শিউরে উঠি।

শ্রদ্ধা নিবেদন করতে এসে গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক জলি তালুকদার বলেন, ৭ বছর পার হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত রানা প্লাজার বিচারকাজ শেষ হয়নি। প্রতিশ্রুতি মতো দেওয়া হয়নি শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ। রানা প্লাজা দুর্ঘটনায় অনেক শ্রমিকের জীবন অন্ধকারে চলে গেছে। সরকার তাদের নামমাত্র ক্ষতিপূরণ দিলেও অনেক পরিবার এখনও মানবেতর জীবনযাপন করছে। তারা ভবন মালিক সোহেল রানার ফাঁসিসহ ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকের পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণের দাবি জানান।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY