লক্ষাধিক কোটি টাকার বিটকয়েন কিনলেন এলন মাস্ক

0
69
লক্ষাধিক কোটি টাকার বিটকয়েন কিনলেন এলন মাস্ক
লক্ষাধিক কোটি টাকার বিটকয়েন কিনলেন এলন মাস্ক

জানুয়ারিতেই ১ হাজার ৫শ’ কোটি ডলার বা প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার বিটকয়েন কিনেছেন মার্কিন বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলা ও মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্পেস এক্স প্রতিষ্ঠাতা এলন মাস্ক। ভবিষ্যতেও বিনিয়োগ করবেন ক্রিপ্টোকারেন্সি বিটকয়েনে।

গণমাধ্যমে এ খবর প্রকাশের পরপরই প্রতি বিটকয়েনের দাম বেড়ে ৪৭ হাজার ডলারে পৌঁছেছে। টেসলা বিটকয়েনে দেড় হাজার ডলার বিনিয়োগের খবরে প্রতি বিটকয়েনের দাম ৪৮ হাজার ডলার ছুঁই ছুঁই। পেমেন্টের জন্য বিটকয়েন লেনদেনের পরিকল্পনা আছে এলন মাস্কের।

নিজের টুইটার অ্যাকাউন্টে বিটকয়েনের বিনিয়োগের ঘোষণা দেন এই কোটিপতি। বিটকয়েন, ডগকয়েনসহ অন্যান্য ক্রিপ্টোকারেন্সি নিয়ে নিজের অ্যাকাউন্টে ইতিবাচক অনেক মন্তব্য করেন তিনি। তিনি জানান, ডিজিটাল সম্পদ হিসেবে বিটকয়েনে বিনিয়োগ আরো বাড়াবেন তিনি।

এলন মাস্ক বলেন, বিটকয়েনকে ভবিষ্যতে নিয়মনীতি মেনে স্বল্প পরিসরে নিজেদের প্রতিষ্ঠানের পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে ব্যবহার করবেন তারা। তিনি হতাশা প্রকাশ করে এক বক্তব্যে এটাও বলেন, বিটকয়েন আরো ৮ বছর আগেই কেনা উচিত ছিল।

এই খবরের পর যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে টেসলার শেয়ারের দাম বেড়েছে। চাঙ্গা হয়েছে ভার্চুয়াল কারেন্সি বিটকয়েনের অবস্থানও। তবে বিটকয়েনের দাম ওঠানামা করায় এ কারেন্সিতে বিনিয়োগে সবসময় সতর্ক করেন পুঁজিবাজার বিশ্লেষকরা। তারা মনে করেন, টেসলা ঝুঁকি নিয়ে বিটকয়েনে বিনিয়োগ করেছে। তবে অনেকেই মনে করেন, বিটকয়েন পুরো আর্থিক ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে পারে। টেসলাকে দেখে অনেক কোম্পানি উৎসাহিত হবে বিটকয়েনে বিনিয়োগে।

গেল ১ দশকের মধ্যে গেলো কয়েকমাসে রেকর্ড পরিমাণে বেড়েছে বিটকয়েনের দাম। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নররা মনে করেন, বিটকয়েনে লেনদেন কিংবা বিনিয়োগ দুটোই ঝুঁকিপূর্ণ। এজন্য কোন দেশেই বৈধভাবে অবাধে শুরু হয়নি বিটকয়েনে লেনদেন।

চোখে দেখা যায় না, হাতে ধরাও যায় না। তৃতীয় পক্ষ ছাড়াই লেনদেন হয় সরাসরি গ্রাহক থেকে গ্রাহকের কাছে; শুধুমাত্র ইন্টারনেটের মাধ্যমে। এমনই ডিজিটাল ভার্চুয়াল মুদ্রার নাম বিটকয়েন। নতুন ইলেক্ট্রনিক ক্যাশ ব্যবস্থায় এ মুদ্রার লেনদেন হয় কম্পিউটার এবং স্মার্টফোনের মাধ্যমে। বিটকয়েন মুদ্রাব্যবস্থায় যুক্ত হতে হলে ক্যালিফোর্নিয়া ভিত্তিক ই-কারেন্সি লেনদেনের মাধ্যম কয়েন বেসে খুলতে হয় অ্যাকাউন্ট। অ্যাকাউন্ট খুলতে হলে সমাধান করতে হয় গাণিতিক কিছু সমস্যা। অ্যাকাউন্ট খোলার পর গ্রাহকের স্মার্টফোন বা কম্পিউটারে সফটওয়্যার ইনস্টল করে নিলেই পরিচালনা করা যায় বিটকয়েন অ্যাকাউন্ট। ডেবিট কিংবা ক্রেডিট কার্ডে কয়েনবেসের মাধ্যমে লেনদেন করে বিটকয়েন কেনা-বেচা করতে পারেন গ্রাহকরা।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম থেকে জানা গেছে, ২০০৯ সালে সাতাশি নাকামোতো নামের এক জাপানি নাগরিক এ মুদ্রাব্যবস্থা চালু করেন। জনপ্রিয় হলেও ভার্চুয়াল হওয়ায় এখনো বৈধ না এই মুদ্রার লেনদেন। কারণ কেন্দ্রীয় ব্যাংক বা আর্থিক সংস্থার কোন নিয়ন্ত্রণ না থাকায় এবং গ্রাহকের পরিচয় গোপন রাখার সুযোগ থাকায় রয়েছে দরপতন এবং হ্যাকিংয়ের আশঙ্কা। সারাবিশ্বে মোট ৪ হাজার ৩৪ টি ক্রিপ্টোকারেন্সি আছে। এরমধ্যে সবার শীর্ষে আছে বিটকয়েন। এরপরের অবস্থানে শীর্ষ ১০’এ আছে ইথেরিয়াম, টেথার, পোল্কাডট, এক্সআরপি, কারডানো, বিন্যান্স কয়েন, লাইটকয়েন, চেইনলিঙ্ক ও ডগকয়েন।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY