শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ শেষ করল প্রগতিশীল ছাত্রজোট

0
57
শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ শেষ করল প্রগতিশীল ছাত্রজোট

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলসহ তিন দফা দাবিতে প্রগতিশীল ছাত্রজোটের ডাকা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাও কর্মসূচি শেষ হয়েছে। ‘পুলিশের অনুরোধে শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ শেষ করায়’ পুলিশ তাদের ধন্যবাদ জানিয়েছে।

সোমবার (১ মার্চ) দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্য থেকে মিছিল নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাও করতে গিয়েছিলেন জোটের নেতা-কর্মীরা। পরে বেলা সোয়া একটার দিকে তাদের কর্মসূচি শেষ হয়।

লেখক মুশতাক আহমেদের কারাগারে মৃত্যুর তদন্ত ও বিচার, মৃত্যুর ঘটনার প্রতিবাদ করতে গিয়ে গ্রেপ্তার ৮ জনের মুক্তি এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবিতে এই কর্মসূচি দেওয়া হয়েছিল।

দেড় শতাধিক নেতা-কর্মী সহকারে মিছিলটি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও দোয়েল চত্বর হয়ে শিক্ষা ভবনের সামনে এলে পুলিশের একটি দল তাদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে। পুলিশের সঙ্গে কিছুক্ষণ ধস্তাধস্তির পর বাধা উপেক্ষা করেই বাম সংগঠনের নেতা-কর্মীরা মিছিল নিয়ে সচিবালয়ের দিকে যেতে থাকেন। সচিবালয় সংলগ্ন ডিপিডিসি ভবনের সামনে পুলিশের রমনা জোনের অতিরিক্ত উপকমিশনার হারুন অর রশীদের নেতৃত্বে একদল পুলিশ আগে থেকেই অবস্থান করছিল।

সেখানে পুলিশের বাধায় মিছিলটি আর এগোতে পারেনি। ডিপিডিসি ভবনের সামনে পুলিশের মুখোমুখি অবস্থানে থেকেই বিক্ষোভ সমাবেশ করেন বামপন্থী ছাত্রসংগঠনগুলোর জোট প্রগতিশীল ছাত্রজোট। এ সময় শিক্ষা ভবন থেকে সচিবালয় অভিমুখী সড়কটিতে যান চলাচল বন্ধ ছিল।

সমাবেশে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক দীপক শীল, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর কেন্দ্রীয় সভাপতি ইকবাল কবীর, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের (বাসদ) কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের (মার্ক্সবাদী) কেন্দ্রীয় সভাপতি মাসুদ রানা, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের (গণসংহতি আন্দোলন) কেন্দ্রীয় সভাপতি গোলাম মোস্তফা, গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আরিফ মঈনুদ্দীন, ছাত্র ইউনিয়নের ঢাকা মহানগর শাখার নেতা তাসিন মল্লিক প্রমুখ বক্তব্য দেন।

সমাবেশের সমাপনী বক্তব্যে ইকবাল কবীর বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন সংগঠন এখানে একত্র হয়েছি। ইতিমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে আমরা কথা বলা শুরু করেছি। তাদের সঙ্গে নিয়ে পরবর্তী সময়ে এই মিছিলকে ফ্যাসিবাদবিরোধী প্রতিবাদে রূপান্তরিত করব। পরবর্তী কর্মসূচি আমরা পরে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জানাব।’

তার বক্তব্যের পর বেলা সোয়া একটার দিকে নেতা-কর্মীরা রাস্তা ছেড়ে দিলে এই সড়কে ফের যান চলাচল শুরু হয়।

কর্মসূচি শেষে পুলিশের রমনা জোনের অতিরিক্ত উপকমিশনার হারুন অর রশীদ সাংবাদিকদের বলেন, প্রগতিশীল ছাত্রজোটের উদ্যোগে মন্ত্রণালয় অভিমুখে পদযাত্রা শুরু হয়েছিল। আমরা তাদের এখানে (ডিপিডিসি ভবনের সামনে) থামার জন্য অনুরোধ করেছি। তারা আমাদের অনুরোধ রেখেছেন খুব শান্তিপূর্ণভাবে তারা তাদের দাবি দাওয়াগুলো কর্তৃপক্ষের কাছে পেশ করেছেন। শান্তিপূর্ণভাবে তাদের কর্মসূচি শেষ হয়েছে। কোনো ধরনের কোনো সংঘর্ষ ছিল না।

হারুন অর রশীদ বলেন, ‘পথিমধ্যে প্রগতিশীল ছাত্রজোটের নেতা-কর্মীদের সচিবালয় অভিমুখে না গিয়ে অন্য কোনো দিকে তারা সমাবেশ করতে পারেন কি না, তা বলা হয়েছিল। অত্যন্ত আন্তরিকতাপূর্ণ ও বন্ধুভাবাপন্ন পরিবেশে তাদের প্রতি এই অনুরোধ করা হয়েছিল। কোথাও তাদের কোনো বাধা দেওয়া হয়নি। আমাদের অনুরোধ রেখে তারা শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ শেষ করে গেছেন। তাদের আমরা ধন্যবাদ জানাই।’

লেখক মুশতাকের কারাগারে মৃত্যুর তদন্ত ও বিচার এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবিতে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় মশাল মিছিল করতে গেলে শাহবাগে পুলিশের সঙ্গে বামপন্থী ছাত্রসংগঠনগুলোর নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষ হয়৷ ওই ঘটনায় হওয়া মামলায় জোটের ৭ নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন। এ ছাড়া খুলনা থেকে একইদিন রাতে গ্রেপ্তার হন শ্রমিকনেতা রুহুল আমিন। তারা সবাই এখন কারাগারে আছেন।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY