সাবমেরিন ক্যাবলে চাঁদপুরে দুর্গম চরে বিদ্যুতের আলো

0
140
সাবমেরিন ক্যাবলে চাঁদপুরে দুর্গম চরে বিদ্যুতের আলো
সাবমেরিন ক্যাবলে চাঁদপুরে দুর্গম চরে বিদ্যুতের আলো

সাবমেরিন কেবলের মাধ্যমে চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার নদীবেষ্টিত চরাঞ্চল মধ্যচরের প্রায় ৫০ হাজার মানুষের বিদ্যুতের আলো পাওয়ার স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিয়েছে।

মঙ্গলবার শরীয়তপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি মধ্যচরে এ বিদ্যুৎ সরবরহের পরীক্ষামূলক সঞ্চালন কাজটি সম্পন্ন করেছে। এ বিদ্যুৎ সংযোগ এ চরের অর্ধলক্ষাধিক বাসিন্দার কৃষি, শিক্ষা, শিল্প কলকারখানা, ব্যবসাবাণিজ্যসহ সবক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তন ঘটাবে বলে প্রত্যাশা করছেন চরবাসীসহ সংশ্লিষ্টরা।

জানা যায়, নীলকমল ইউনিয়নের দুর্গম ওই চরে বসবাসকারীদের জন্য বিশাল নদীর তলদেশ দিয়ে ৬২ কোটি টাকা ব্যয়ে তিনটি সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার শরীয়তপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি মধ্যচরে এ বিদ্যুৎ সরবরহের পরীক্ষামূলক সঞ্চালন কাজটি সম্পন্ন করেছে।

চাঁদপুরের ওই বিশাল চরাঞ্চলটির অনেকটা নিকটে শরীয়তপুরে সখিপুর এলাকা ও সংশ্লিষ্ট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কার্যক্রম।

মধ্যচরে নবনির্মিত চেয়ারম্যান বাজারে গিয়ে দেখা যায়, সব দোকানে সাজ সাজ রব। চরের নারী-পুরুষ, শিশুরা বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার স্থাপন দেখতে ভিড় করছে। স্বপ্নের বিদ্যুৎ এ যেনো চরাঞ্চলবাসীর মধ্যে ভিন্ন এক আনন্দ যোগ হয়েছে।

মুজিববর্ষ উপলক্ষে চাঁদপুর সদর-হাইমচরের এমপি শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি চলতি মাসেই আনুষ্ঠানিকভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ উদ্বোধন করবেন। ইতিমধ্যে বিদ্যুতের খুঁটি স্থাপন, তারটানাসহ ঘরে ঘরে মিটার স্থাপন করাসহ সব কাজ সম্পন্নও হয়েছে।

চরের অধিবাসী হালিমার কাছে বিদ্যুতের আলো যেন কল্পনার মতো মনে হচ্ছে। সেই কল্পনা বাস্তবে রূপ নিচ্ছে, তাই তো তিনি মহাখুশি। তিনি বলেন, আমরা চরে বিদ্যুতের আলো পাব, আমাদের এলাকা আরও উন্নত হবে, সে জন্য আমরা ধন্যবাদ জানাই ডা. দীপু মনি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে।

স্থানীয় নূর মোহাম্মদ জানান, আমি ২৫ বছর ধরে এখানে বসবাস করে আসছি। আজ এই দুর্গম চরাঞ্চলে আমাদের ছেলেমেয়েরা বিদ্যুতের আলোয় পড়ালেখা করবে, আমাদের ঘরে টিভি চলবে, হাজার হাজার হেক্টর জমি সেচসহ নানা সুবিধার আওতায় আসবে। স্বাধীন দেশে মনে হয় আমরা চরের মানুষেরা নতুন করে স্বাধীনতা পেয়েছি।

নীলকমল ইউপি চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন সরদার জানান, সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে মধ্যচরে বিদ্যুতের সব কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এই চরের ১০ হাজার মিটারের মাধ্যমে ৫০ হাজার লোক বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত হবে। এ বিদ্যুতের উদ্বোধন হলে চরাঞ্চলের মানুষের জীবনমানের ব্যাপক উন্নয়ন হবে।

শরীয়তপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার জুলফিকার রহমান জানান, শরীয়তপুরের নিকটে চাঁদপুরের মধ্যচরে ৩২৫ কিলোমিটার এলাকায় বর্তমানে পাঁচ হাজার মিটারের মাধ্যমে ৫০ হাজার মানুষ উপকৃত হবে। পর্যায়ক্রমে শতভাগ বিদ্যুতের আওতায় পুরো অঞ্চলটি চলে আসবে বলে জানান তিনি।

এদিকে অন্যান্য চরের বিষয়ে চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ২-এর জেনারেল ম্যানেজার দেব কুমার মালো জানান, হাইমচরের মধ্যচরের মতো বিশেষ করে চাঁদপুর সদর ও হাইমচরে আরও যেসব চর রয়েছে এবং সেসব চরে বসতি আছে কিনা এবং বিদ্যুতের সম্ভাব্যতা দেখে আমরা স্টাডি করব।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY