সিলেটে চিকিৎসক দম্পতির বিরুদ্ধে মামলা নেয়ার নির্দেশ

0
284
সিলেটে চিকিৎসক দম্পতির বিরুদ্ধে মামলা নেয়ার নির্দেশ

সিলেট নগরীর আখালিয়া সুরমা আবাসিক এলাকায় চিকিৎসক দম্পতির বাসায় কিশোরী জান্নাত আক্তার রিনার (১৫) মৃত্যুর ঘটনায় মামলা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

সিলেটের অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. জিয়াদুর রহমান মঙ্গলবার কোতোয়ালি থানার ওসিকে ওই নির্দেশ দেন।

কিশোরীর বাবা আব্দুল মালিক তার মেয়েকে নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগে আদালতে ৬ জনকে অভিযুক্ত করে এজাহার দাখিল করলে শুনানি শেষে আদালত ওই নির্দেশ দেন।আদালতের মঙ্গলবারের নিদের্শ বৃহস্পতিবার বিকাল পর্যন্ত হাতে পাননি সিলেট মহানগর পুলিশের কোতোয়ালি থানার ওসি সেলিম মিঞা।

তিনি বলেন, আদালতের আদেশ হাতে পেলে সেই অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বাদীপক্ষের আইনজীবী সৈয়দ মহসীন আহমদ জানিয়েছেন, আদালতের বিচারক বাদীকে নানা বিষয়ে প্রশ্ন করার পাশাপাশি তার জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করেন। সে সঙ্গে বাদীর দাখিল করা বিভিন্ন কাগজপত্র পর্যালোচনা ও জবানবন্দিতে ঘটনার সত্যতা পাওয়ার পর ৩ দিনের মধ্যে থানার ওসিকে এজাহার হিসেবে মামলা নথিভুক্ত করতে আদেশ দেন আদালত।

অভিযুক্তরা হলেন- বাসার মালিক সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. ওয়েছ আহমদ চৌধুরী, তার স্ত্রী জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনি বিভাগের প্রধান ডা. জামিলা খাতুন, ছেলে তাহসান, মেয়ে মেডিকেল শিক্ষার্থী তাসকিয়া ও গোয়াইনঘাটের আঙ্গারজুর লামাপাড়া গ্রামের হাসনা বেগম। এছাড়াও মামলায় ১১ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।

গত ৩১ অক্টোবর সুরমা আবাসিক এলাকার বাসায় ফাঁস লাগিয়ে কিশোরী রিনা আত্মহত্যা করে বলে দাবি চিকিৎসক দম্পতির। ওই দিন পুলিশ তার লাশ সিঁড়ির ওপর থেকে উদ্ধার করে। গলায় ছিল আঘাতের চিহ্ন।

কিন্তু কিশোরীর স্বজনরা তাকে নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগ করেন শুরু থেকেই। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে- শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করার পাশাপাশি কিশোরী জান্নাত আক্তার রিনার শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিতেন চিকিৎসক দম্পতির ছেলে তাহসান। রিনার প্রতি তার কুদৃষ্টি ছিল।

অভিযুক্তরা তাদের বাসায় নেই বলে একটি সূত্র জানিয়েছে। ডা. ওয়েছ ও তার স্ত্রী ডা. জামিলা খাতুনও কর্মস্থলেও যাচ্ছেন না বলে জানা গেছে।এ ব্যাপারে জানতে ডা. জামিলা খাতুনের মোবাইলে একাধিকবার কল করেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এমনকি মেসেজ পাঠিয়েও কোনো সাড়া মেলেনি।

রিনার পিতা আব্দুল মালিক জানান, অভাবের সংসার হওয়ায় বাসায় টুকটাক কাজ করার পাশাপাশি পড়ালেখা করানোর শর্ত দিয়ে ডা. ওয়েছ ও ডা. জামিলা খাতুনের বাসায় পাঠান রিনাকে। কিন্তু ডা. জামিলার পরিবারের সদস্যরা রিনাকে নানাভাবে অত্যাচার করত।

কাজে সামান্য ভুল হলেই রিনাকে মানসিক ও শারীরিকভাবে অত্যাচার করত সবাই। প্রায়ই রিনা তার ওপর নির্যাতনের কথা জানালেও বাবা অভাবগ্রস্ত হওয়ায় মেয়েকে বুঝিয়ে আবারও ডা. জামিলার বাসায় পাঠাতেন।

গত ৩১ অক্টোবর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আসামি হাসনা বেগম রিনার ভাই আল আমিনের মোবাইলে ফোন করে জানানো হয়, তার বোন আত্মহত্যা করেছে। খবর পেয়ে আখালিয়া সুরমা আবাসিক এলাকার ৪ নম্বর সড়কের ৪৩ নম্বর বাসায় গিয়ে স্বজনরা দেখেন রিনার লাশ সিঁড়ির নিচে পড়ে আছে।

আব্দুল মালিক আরও বলেন, ডা. জামিলার ছেলে তাহসানের কুদৃষ্টি ছিল রিনার প্রতি। মামলার ১১ নম্বর সাক্ষী শিরিনা বেগম আব্দুল মালিককে জানিয়েছেন, রিনা জীবিত অবস্থায় তাহসান তার শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিয়ে প্রায়ই নির্যাতন করত।

উল্লেখ্য, ডা. জামিলার ফোনের ভিত্তিতে গত ৩১ অক্টোবর দুপুর ১টার দিকে আখালিয়া সুরমা আবাসিক এলাকার ৪নং গলির ৪৩নং (ডা. জামিলার) বাসা থেকে পুলিশ রিনার লাশ উদ্ধার করে। ওই দিনই ময়নাতদন্ত শেষে বিকাল সাড়ে ৫টায় রিনার লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ।

পরে রাত সাড়ে ১০টায় সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বতুমারা (নোওয়াগাও) গ্রামে পারিবারিক গোরস্থানে রিনার মরদেহ দাফন করা হয়। মৃত্যুর দুই দিন পর মঙ্গলবার আদালতে অভিযোগ দায়ের করেন পিতা আব্দুল মালিক।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY