সুনামগঞ্জে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

0
57
সুনামগঞ্জে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণও সীমান্তের ওপাড় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জের ষোলঘর পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি বিপদ সীমার ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। পানি বৃদ্ধির ফলে তাহিরপুর বিশ্বম্ভরপুর সড়কের শক্তিয়ারখলা ১০০ মিটার ডুবন্ত সড়ক ডুবে যাওয়ায় তাহিরপুরের সঙ্গে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. শফিকুল হক বলেন, জেলার কোথাও মানুষের বাড়ি ঘরে পানি উঠেনি। সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের লালপুর গ্রামের জামাল উদ্দিন বলেন হাওরের পানি বাড়ছে। এখনো বাড়ি ঘরে পানি ওঠেনি। তবে গ্রামের নিচু এলাকার রাস্তাঘাট পানিতে নিমজ্জিত হয়ে আছে। রাধানগর গ্রামের জসীম উদ্দিন বলেন, সদর উপজেলার বিশ্বম্ভরপুর কাচিরগতি সড়কের দুই পাশে পানি বাড়ছে। আরও পানি বাড়লে পানির গড়ান ছুটবে। দক্ষিণ বাদাঘাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. এরশাদ মিয়া বলেন, দক্ষিণ বাদাঘাট ইউনিয়নের নিচু এলাকার ঘরবাড়ির আঙ্গিনায় ঢলের পানি প্রবেশ করেছে। যদি বৃষ্টি না হয় তাহলে নেমে যাবে।

তিনি বলেন, নিচু এলাকার বেশ কিছু ঘরবাড়িতে পানি ওঠে গেছে। বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ফতেহপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রনজিত চৌধুরী রাজন বলেন, ফতেহপুর ইউনিয়ন বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার সবচেয়ে নিম্নাঞ্চল এখানে মানুষের ঘরবাড়িতে এখনো পানি ওঠেনি। তবে পানি আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান করুণা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল বলেন, বালিজুরি, দক্ষিণ শ্রীপুর, উত্তর শ্রীপুর তাহিরপুর ও দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলের অন্তত শতাধিক বাড়িঘরের উঠানে পানি উঠেছে।

বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাদি উর রহিম জাদিদ বলেন, বিশ্বম্ভরপুর তাহিরপুরের ডুবন্ত সড়ক পানিতে নিমজ্জিত হওয়ায় সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। তবে বিকল্প উপায়ে সড়কে যানবাহন চলাচল করছে। তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রায়হান কবীর বলেন, বৃষ্টিপাতের কারণে পানি বেড়েছে মানুষের ঘরবাড়িতে পানি ওঠার কোন খবর পাওয়া যায়নি। উপজেলা প্রশাসনের সব প্রস্তুতি রয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শামসুদোহা বলেন, গত ২৪ ঘন্টায় সুনামগঞ্জে ৪৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রের্কড করা হয়েছে এবং ৪৮ ঘণ্টায় ১৮৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। সুরমা নদী ছাড়া যাদুকাটা,পুরতন সুরমা,চলতি নদী খাসিয়ামারা নদী চেলাই নদীর পানি বিপদ সীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী ৪৮ দেশের ঘণ্টায় উত্তর পূর্বাঞ্চল ও ভারীতয় অংশে ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে এতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বন্যার সম্ভাবনা নেই।

জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, এখন পর্যন্ত মানুষের বাড়ি ঘরে পানি ওঠার কোন খবর পাওয়া যায়নি। সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার ৫০ সেন্টিমিটার অতিক্রম করলে সুনামগঞ্জ শহরে পানি ওঠতে পারে। এখন পর্যন্ত বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া আছে।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY