হাতিরঝিল ও চন্দ্রিমা উদ্যানে মানুষের ঢল

0
80

মহামারি করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে রাজধানীর বিনোদনকেন্দ্রগুলো গত বছরের মতো এবারও বন্ধ রয়েছে। এজন্য নগরবাসীকে পরিবার-পরিজন নিয়ে উন্মুক্ত স্থানে ঘুরতে দেখা গেছে।

স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে শুক্রবার (১৪ মে) পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন রাজধানীর হাতিরঝিল ও চন্দ্রিমা উদ্যানে জড়ো হয়েছে নগরবাসী। হাতিরঝিল এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কোথাও সামাজিক দূরত্ব মানা হয়নি। এমন কী কারও মুখে ছিলো না মাস্ক।

হাতিরঝিল এলাকায় দুপুরের পর থেকে মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। রাজধানীর বিভিন্ন স্থান ও আশপাশ এলাকা থেকে থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়িতে করে মানুষ বেড়াতে এসেছেন। আগতদের অর্ধেকই ছিলেন তরুণ-তরুণী। বাকিরা এসেছেন স্ত্রী-সন্তান নিয়ে। তবে তরুণ-তরুণীদের মধ্যে অনেককেই মাস্ক ছাড়াই ঘুরতে দেখা গেছে।

রাজধানীর ভাটারা এলাকা থেকে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে হাতিরঝিলে ঘুরতে এসেছেন আজিজুল ইসলাম। সরকারের বিধিনিষেধের মধ্যে হাতিরঝিলে আসার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অনেক দিন ধরে ঘরবন্দি পরিবারের সদস্যরা। সন্তানকে কোনোভাবেই বাসায় আটকে রাখা যাচ্ছিলো না। তাই বাধ্য হয়েই ঈদের শেষ বিকেলে হাতিরঝিলে এসেছি।’

হাতিরঝিল এলাকায় দায়িত্বরত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘মানুষকে জোর করে কিছু বোঝানো যায় না। করোনায় এত মারা যাচ্ছে। করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দিনে দিনে বাড়ছে তবুও করোনার ভয় মানুষের মধ্যে কাজ করছে না।’

এদিকে রাজধানীর চন্দ্রিমা উদ্যানেও ঈদের দিন বিকালে অসংখ্য মানুষের ভিড় দেখা গেছে। পরিবার-পরিজনের সঙ্গে বাসায় ঈদের আনন্দ পালনের আহ্বান জানানো হলেও বেড়াতে আসেন রাজধানীবাসী।

রাজধানীর চন্দ্রিমা উদ্যানে আজ বিকালে গিয়ে দেখা যায়, মানুষের ভিড়। শিশু থেকে বৃদ্ধ কেউই বাদ যাননি। কমবেশি সবার সঙ্গে মাস্ক থাকলেও সেটির সঠিক ব্যবহার দেখা যায়নি। পরিবার ও বন্ধুরা মিলে ঘুরতে এসেছে অনেকেই। লেকের দুই পাড়ে, মাঠের মধ্যে, ব্রিজের ওপরে মানুষের ভিড় দেখা গেছে।

দুপুরের পর থেকে বাড়তে থাকে ভিড়। মূলত বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্রে গিয়ে প্রবেশ করতে না পেরে এখানে এসেছেন অনেকে। মোহাম্মদপুর থেকে আসা শাহনাজ বলেন, ‘দুপুরে খেয়ে আমরা সবাই ঘুরতে বেরিয়েছিলাম। কোথাও তেমন কোনও জায়গা না পেয়ে এখানে এসেছি। সন্ধ্যার মধ্যেই ফিরে যাবো।’

গত ২৯ মার্চ করোনা ভাইরাসের উর্ধ্বগতি ঠেকাতে সব ধরনের জনসমাগম সীমিত করা হয়। উচ্চ সংক্রমণ আছে এমন এলাকায় সব ধরনের জনসমাগম নিষিদ্ধ করে ১৮ দফা নির্দেশনা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

 

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY