২০০ আইসিইউসহ দুই হাজারের বেশি শয্যা

0
107

করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতির মুখে বিদ্যমান কভিড বিশেষায়িত হাসপাতালে রোগীর ঠাঁই না হওয়ায় সরকার জরুরি ভিত্তিতে ঢাকার আরো ১০টি বড় হাসপাতালকে করোনা চিকিৎসার জন্য প্রস্তুত করছে। সব মিলিয়ে বাড়ছে ২২২টি আইসিইউ-এইচডিইউ শয্যা এবং দুই হাজারের বেশি সাধারণ শয্যা। দ্রুত সময়ের মধ্যে হাসপাতালগুলো প্রস্তুত হলে রোগী ভর্তি শুরু হবে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর হাসপাতালগুলো প্রস্তুত করার জন্য সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে এরই মধ্যে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছে।

এ ছাড়া আগেই মহাখালী সিটি করপোরেশনের মার্কেট ভবনে শুরু হয় ১৫০০ শয্যার একটি কভিড সেন্টার স্থাপনের কাজ। এই কাজও অনেকটাই এগিয়ে গেছে। আগামী ১৫ এপ্রিল ওই হাসপাতালটি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সাবেক পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম নাসির উদ্দিনকে ওই হাসপাতালটি পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

মহাখালী বাসস্ট্যান্ডের পাশে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতায় পাইকারি বাজারের জন্য নির্মিত বহুতল ভবনটিতে গত বছরই করোনা পরীক্ষা ও আইসোলেশন সেন্টার করা হয়েছিল। বিশেষ করে বিদেশগামীদের করোনা পরীক্ষা করা হয় ওই সেন্টারে। ভবনটির নিচতলায় এখনো করোনা পরীক্ষা হলেও ওপরের পাঁচটি তলাজুড়ে সাজানো হচ্ছে হাসপাতাল। যেখানে থাকবে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতিসংবলিত করোনার সব ধরনের চিকিৎসার ব্যবস্থা।

ওই হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম নাসির উদ্দিন বলেন, এটা দেশের সবচেয়ে বড় কভিড বিশেষায়িত হাসপাতাল হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। এখানে পরিপূর্ণ ১০০ শয্যার নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্র (আইসিইউ) ও প্রায় সমমানের হাই ডিপেনডেনসি ইউনিট (এইচডিইউ) শয্যা থাকছে ১২২টি। এ ছাড়া সাধারণ শয্যা থাকছে প্রায় এক হাজার।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাসির উদ্দিন বলেন, ‘১৫ এপ্রিল নাগাদ অন্তত ৫০টি আইসিইউ ও ২৫০টি সাধারণ শয্যায় রোগী ভর্তি শুরু করা যাবে। বাকিগুলোর কাজ চলতে থাকবে।’ তিনি বলেন, ‘আশা করছি চলতি মাসের শেষ দিকে পুরো হাসপাতালটি প্রস্তুত হয়ে যাবে পূর্ণাঙ্গ কভিড বিশেষায়িত সেবার জন্য।’ তিনি জানান, এই হাসপাতালের সেন্ট্রাল অক্সিজেন সিস্টেম স্থাপনের কাজ প্রায় শেষ। বসানো হচ্ছে অক্সিজেন প্লান্টও।

পরিচালক জানান, এই হাসপাতাল ভবনটি সিটি করপোরেশনের। হাসপাতালটির যন্ত্রপাতি জনবলসহ অন্য সরঞ্জাম দিচ্ছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। অবকাঠামোগত প্রস্তুতির কাজ বাস্তবায়ন করে দিচ্ছে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। আর পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনায় থাকছে আর্মস ফোর্সেস মেডিক্যাল ডিভিশন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল) ডা. ফরিদ উদ্দিন মিয়া জানান, কেবল মহাখালীর হাসপাতালই নয়, এর সঙ্গে আরো ১০টি হাসপাতালকে করোনা রোগীদের সেবায় বিশেষভাবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে গত বছর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে কভিড রোগীদের চিকিৎসা কার্যক্রম চালু করা হলেও সংক্রমণ কমে যাওয়ায় তা বন্ধ রাখা হয়েছিল। তবে গত সপ্তাহ থেকে ওই হাসপাতালে আবার আগের মতোই ২০০ শয্যার কভিড ইউনিট চালু হয়েছে। এর মধ্যে সেখানে ১০টি কভিড আইসিইউ শয্যাও চালু হয়েছে। পাশাপাশি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের কভিড ইউনিটকে ১৫০০ শয্যায় উন্নীত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে এরই মধ্যে আরো ১০০ শয্যা বাড়ানো হয়েছে।

 

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY