৩৭ বছর আগে পাহাড়ে গণহত্যার বিচার দাবি

0
30
৩৭ বছর আগে পাহাড়ে গণহত্যার বিচার দাবি

গত ৩৭ বছর ধরে রাঙামাটির ভূষণচড়ের বাসিন্দা বাঙালিরা চাপা ক্ষোভ নিয়ে অনেকটা লোকচক্ষুর অন্তরালে ৩১ মে গণহত্যা দিবস হিসাবেই পালন করে আসছেন। এদিন তারা নিহতের স্বজনেরা কবর জিয়ারতের পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের দাবি জানিয়ে আসছেন।

স্থানীয়দের দাবি, ১৯৮৪ সালের ৩১ মে গভীর রাতে ১২০ সদস্যের শান্তিবাহিনীর চারটি গ্রুপ বিভক্ত হয়ে ভূষণচড়া গ্রামে হামলা চালায়। শান্তিবাহিনীর আক্রমণে সাড়ে চারশ’র বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। জটিলতা এড়াতে তৎকালীন সামরিক সরকার বিষয়টি ধামাচাপা দিলেও স্থানীয় বাসিন্দারা এখনো সেই দুঃসহ স্মৃতি ভুলতে পারেননি।

স্বজনহারা এক ব্যক্তি বলেন, যাকে যেখানে পেয়েছে, সেখানেই গুলি করে, কুপিয়ে হত্যা করেছে। কাউকে আগুনে পুড়িয়ে মেরেছে। এটা ভুলে যাবার নয়।

ভুক্তভোগীর পরিবারের এক সদস্য বলেন, আমার মা, আমার বোন, আমার মেঝ ভাই ও তার স্ত্রীকে শান্তি বাহিনীর লোকজন গুলি করে হত্যা করেছে।

রাঙামাটি সদর থেকে ৭৫ কিলোমিটার দূরে ভূষণচড়ায় নৌপথে যেতে ৭ ঘণ্টার বেশি লাগে। আর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়েছিল শান্তিবাহিনী। এই হামলার জন্য তৎকালীন শান্তিবাহিনীর কথিত মেজর ও বর্তমানে বিএনপি নেতা মনি স্বপন দেওয়ানকে দায়ী করছেন বাঙালিরা।

ভুক্তভোগী পরিবারের এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, আমরা যাকে এখন মনি স্বপন দেওয়ান নামে চিনি, সে আসলে সেদিনকার গণহত্যার নায়ক মেজর রাজেশ।

তবে গণহত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিএনপি সরকারের সাবেক উপমন্ত্রী ও সাবেক সংসদ সদস্য মনি স্বপন দেওয়ান।

তিনি বলেন, আমি তো ওই সময় পার্টিতে ছিলামও না। পার্টি ভাগ হওয়ার পর আমি ভারতে চলে গিয়েছিলাম।

এদিকে এই গণহত্যার বিচারের দাবিতে সোচ্চার হতে শুরু করেছেন স্থানীয় বাঙালিরা। তবে স্থানীয়দের দাবি সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে পৌঁছানোর আশ্বাস দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

এ বিষয়ে বরকল উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জুয়েল রানা, বিষয়টি সরকারের উচ্চ পর্যায়ে জানানো হবে। আমাদের অবস্থান সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে। বিষয়টি পাহাড়ি বা বাঙালিদের বিরুদ্ধে নয়। সতর্ক থাকতে হবে যেন সম্প্রীতির বন্ধন নষ্ট না হয়।

স্থানীয়দের দাবী, শান্তি বাহিনীর এই হামলায় ১০০টি পরিবার সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। এছাড়া ৩৭০ জন মরদেহ শনাক্তের পর দু’টি গণকবরে তাদের দাফন করা হয়েছিল।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY