নিউইয়র্কে তিন দফা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙার প্রতিবাদে

0
172

কুষ্টিয়ায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য ভাঙার প্রতিবাদে নিউইয়র্কে বিক্ষোভ সমাবেশ হয়েছে। রবিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় জ্যাকসন হাইটসের ডাইভারসিটি প্লাজায় এই সমাবেশের আয়োজন করে সচেতন বাঙালি নাগরিক সমাজ। মূল অপরাধীদের গ্রেপ্তারসহ তিন দফা জানানো হয় সমাবেশ থেকে।

সমাবেশের সমন্বয়ক সাংবাদিক ও নাট্যকার তোফাজ্জল লিটন সমাবেশের পক্ষে সরকারের কাছে দাবি জানান, ১৯৭২ সালের সংবিধানে ফিরে যেতে হবে। বিজ্ঞানভত্তিক একমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করতে হবে। ধর্মভিত্তিক সাম্প্রদায়িক রাজনীতি নিষিদ্ধ ঘোষণা করা ও ধর্মীয় উসকানিদাতাদের কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

সমাবেশে মুক্তিযোদ্ধা ও শেখ রাসেল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. আব্দুল বাতেন বলেন,  অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের স্বপ্ন নিয়ে আমরা যুদ্ধ করেছিলাম। যারা অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ চায় না, তারা সাম্প্রদায়িক কোনো রাষ্ট্রে চলে যাক।

মানবাধিকার কর্মী ও কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট মুজাহিদ আনসারী বলেন, যে মানুষটি আমাদেরকে স্বাধীন একটি দেশ ও একটি পতাকা দিয়েছেন, সেই মানুষটির অপমান কোনোভাবেই আমরা সহ্য করবো না। জাতির পিতা, বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য যারা ভেঙেছে, তাদেরকে কঠোর শাস্তি দিতে হবে। আমি প্রধানমন্ত্রীকে জিজ্ঞাসা করতে চাই, আর কার অপমান দেখার অপেক্ষা করছেন আপনি। আর কার অপমান হলে আপনি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন এই মৌলবাদী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে।

বাংলাদেশ গণজাগরণ মঞ্চের সংগঠক সৈয়দ জাকির আহমেদ রনি বলেন, লালনের ভাস্কর্য ভাঙা, থেমিসের ভাস্কর্য অপসারণ এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মূর্তি ভাঙার পর আমরা প্রতিবাদ করেছিলাম। সরকার নীরব ভূমিকা পালন করেছে। আজ এই ধর্মীয় উগ্রবাদীরা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙার আস্ফালন দেখিয়েছে। কাল তারা আপনার ঘরে গিয়ে আপনার বাবার ছবি ছিড়ে ফেলবে। মায়ের বোরকা পড়া না পড়া নিয়ে প্রশ্ন তুলবে। এখনো যদি আপনারা প্রতিবাদ না করেন, তাহলে বাংলাদেশের জন্য খুবই খারাপ সময় অপেক্ষা করছে।

চলচ্চিত্রনির্মাতা রওশন আরা নীপা বলেন, মূর্তি হোক কিংবা ভাস্কর্য; এর পার্থক্য অথবা বিভেদ নিয়ে আলোচনার সুযোগ নেই। রাষ্ট্র হবে অসাম্প্রদায়িক। ব্যক্তিগত জীবনের যে যার ধর্ম পালন করবে। রাষ্ট্রের কোনো ধর্ম থাকতে পারে না।

সাপ্তাহিক সন্ধান পত্রিকার সম্পাদক সঞ্জীবন সরকার বলেন,  ধর্মান্ধ মৌলবাদীদের এখনই না থামালে বাংলাদেশ বসবাসের অযোগ্য হয়ে যাবে।

যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে আসা মনীষা দত্ত তৃষা বলেন, এখানে পড়ালেখা শেষ করে বাংলাদেশে ফিরে যাব এই প্রত্যাশা নিয়ে এখানে এসেছি। কিন্তু যেখানে বাংলাদেশের স্থপতিকে অপমান করা হয় সেখানে আমার মতো মানুষ দেশে ফিরে গিয়ে কত নির্বিঘ্নে জীবন যাপন করতে পারবে প্রশ্ন জাগে।

সাংবাদিক আবদুল হামিদ বলেন, আমাদের কুষ্টিয়া শহরে এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনা আমাদেরকে লজ্জিত করেছে। মৌলবাদীদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে দেশব্যাপী সংস্কৃতিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

স্বাধীন মজুমদার বলেন, বাংলাদেশ তার সংবিধান অনুযায়ী চলছে। যারা সংবিধানের বিরোধিতা করবে, তাদেরকে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি দিতে হবে।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY