সানন্দবাড়ী বাজারের ধর্মঘট প্রত্যাহার, খুলে গেল তিন শতাধিক দোকান

0
32

জামালপুর জেলার সবচেয়ে বড় হাট এক কোটি টাকা ইজারা মুল্যের হাট সানন্দবাড়ী বাজারের ৩০০ শতাধিক দোকান ১২ ঘন্টা পর  অবশেষে গতকাল মঙ্গলবার (২৬ জানুয়ারি) বিকেল ৫.৩০ মিনিটের দিকে খুলেছে দোকান মালিক সমিতি। দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং বণিক সমিতির মধ্যকার ফলপ্রসু আলোচনার পর দোকান খুলে দেওয়া হয়।

দোকানের সরকারি লাইসেন্স নেওয়াকে কেন্দ্র করে কয়েক মাস ধরে স্থানীয় দোকান মালিক, ব্যাবসায়ী এবং প্রশাসনের সাথে মতবিরোধ চলে আসছিল। যার ধারাবাহিকতায় গত  ২৫ জানুয়ারি বিকেলে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ কে এম আব্দুল্লাহ বিন রশিদ আকস্মিক সানন্দবাড়ী বাজার পরিদর্শনে গেলে সেখানকার দোকান মালিকসহ স্থানীয় কিছু দোকানি তাঁর সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। পরে এনিয়ে কিছু তিক্ততার সৃষ্টি হলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কিছু দোকান বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ নিয়ে দোকান মালিক সমিতি সন্ধার পরে বিক্ষোভ সমাবেশ করে এবং সমাবেশে তারা অনিদৃষ্টকালের জন্য বাজারের প্রায় তিন শতাধিক দোকানপাট বন্ধের ঘোষণা দেয়। গতকাল সারা দিন বন্ধ থাকে বাজারের সব দোকান, ফলে চরম দুর্ভোগে পড়ে সাধারণ মানুষ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন দোকান মালিক অভিযোগ করেন-  তাদের কাছে কয়েক মাস পূর্বে এক ইউনিয়ন ভূমি সহকারি লাইসেন্সের  কথা বলে মোটা অংকের টাকা নিয়েছে এর বিনিময়ে কোন কাগজপত্র রশিদ দেয়নি। সরকারি ঘরে দেওয়ার নামে কূপন ছাড়াই নেওয়া হয়েছে টাকা, যার জন্য সেই ভূমি সহকারিকে অন্যত্র বদলিও করা হয়েছে। দোকান মালিকদের অভিযোগ, দীর্ঘ দিন থেকে তারা নিজেদের মত ব্যাবসা করে আসলেও কয়েক মাস থেকে লাইসেন্সের নামে তাদের কাছ থেকে চাঁদা নেওয়া হচ্ছে, কিছু দোকান উচ্ছেদও করা হয়েছে।

তবে সানন্দবাড়ী হাটের ইজারাদার রেজাউল করিম লাভলু জানান, স্থানীয় কিছু দোকান মালিক এবং মধ্যস্বত্বভোগীরা সরকারকে ট্যাক্স দেওয়া থেকে বিরত থেকে আন্দোলনের পাঁয়তারা করছে। সাধারণ মদোকান মালিক এবং ব্যবসায়ীরা এসবের ভেতর নেই তারা শান্তিতে ব্যবসা করে খেতে চান। আজ ইউএনও সাহেবের সাথে দীর্ঘ আলোচনার পর আমরা সমঝোতায় উপনীত হয়ে  বিকেলে সব দোকানপাট খুলে দিয়েছি।

দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ কে এম আব্দুল্লাহ বিন রশিদ জানান, এই বাজারের ৩০০  দোকানের ভেতর মাত্র ১০০ টির লাইসেন্স আছে বাকি সব দোকান সরকারি খাস জমির উপর। সরকারের পক্ষ থেকে তাদেরকে বারবার লাইসেন্স করার জন্য বলা হলেও তারা আমলে নেয়নি। এ নিয়ে কিছু ভুলবোঝাবুঝি ছিল আজ সেটা উভয় পক্ষের আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হয়েছে। তারা মুচলেকা দিয়েছে যে আগামী এক মাসের ভেতর সবাই দোকানের লাইসেন্স নিবে। আমরাও সাধ্যমতো সব সহায়তা দেব।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY