মাদক উদ্ধারে গিয়ে রোষানলে পুলিশ, আহত ১৫

0
162
মাদক উদ্ধারে গিয়ে রোষানলে পুলিশ, আহত ১৫

বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলায় মাদক উদ্ধার করতে গিয়ে রোষানলে পড়েছেন পুলিশ সদস্যরা। এ সময় হামলা ও দুপক্ষে সংঘর্ষে আট পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার রাতে উপজেলার বুড়ইল ইউনিয়নের দাসগ্রাম বৃন্দাবনপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।

আহত এক পুলিশ কর্মকর্তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। এ ব্যাপারে এসআই রেজাউল করিম বুধবার সকালে ৯ জনের নাম উল্লেখ করে ৬৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।

নন্দীগ্রাম থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ জানান, হামলাকারীরা স্থানীয় সন্ত্রাসী। মাদক ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় পৃথক মামলা হয়েছে। শুধু মাদক মামলায় তাদের আসামি করা হয়েছে। বুধবার দুপুর পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।

আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন-নন্দীগ্রাম থানার এসআই রেজাউল করিম-১, এসআই রেজাউল করিম-২, এসআই এটিএম রফিকুল ইসলাম, এসআই আমিনুল ইসলাম, এএসআই আল-আমিন, এএসআই আবুল কালাম, কনস্টেবল আশরাফ ও কনস্টেবল সজল।

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার রাতে উপজেলার বুড়ইল ইউনিয়নের দাসগ্রাম বৃন্দাবনপাড়ায় আদিবাসীপল্লীতে বিপুল পরিমাণ চোলাই মদ মজুদ ও কেনাবেচা চলছিল। গোপনে এমন খবর পেয়ে সেখানে অভিযান চালানো হয়। এ সময় তাদের হেফাজত থেকে চোলাই মদ উদ্ধার করতে গেলে সন্ত্রাসীরা হামলা চালায়। এতে আট পুলিশ সদস্য আহত হন। এর পরও ১৮ লিটার চোলাই মদক উদ্ধার করা হয়েছে।

আহত পুলিশ সদস্যদের মধ্যে গুরুতর এসআই রেজাউল করিম-২কে প্রথমে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে রাতেই তাকে বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

বুধবার সকালে পুলিশের পক্ষে মাদক ও সরকারি কাজে বাধা এবং হামলার ঘটনায় ৯ জনের নাম উল্লেখ করে আরও অজ্ঞাত ৫০-৬০ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

নন্দীগ্রাম দাসগ্রামের ওই পল্লীর জাম্বু মাহাতো জানান, আগামী শনিবার তার দুই মেয়ে পাতা মাহাতো ও লতা মাহাতোর বিয়ে। বিয়েতে তাদের সামাজিক রীতি অনুসারে বরপক্ষের জন্য বাড়িতে চোলাই মদ তৈরি করে রাখা হয়।

তিনি অভিযোগ করেন, মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে নন্দীগ্রাম থানা পুলিশের একটি দল তার বাড়িতে হানা দেয়। তারা ঘরে ঘরে তল্লাশির সময় নারী ও পুরুষদের লাঠিপেটা করতে থাকে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তার পুলিশের ওপর চড়াও হন এবং তাদের ঘেরাও করেন। পরে থানা থেকে অতিরিক্ত ফোর্স এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় তার বাড়ি থেকে কিছু চোলাই মদ উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের মারপিটে হরিদাস মাহাতো, ভক্তি রানী মাহাতো, অন্তরা মাহাতোসহ ৭-৮ জন আদিবাসী আহত হন। ঘটনার পর আদিবাসীপল্লীর বিপুলসংখ্যক নারী-পুরুষ স্থানীয় দাসগ্রাম বাজারে গিয়ে পুলিশি হামলার প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

নন্দীগ্রাম থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ জানান, দাসগ্রাম পল্লীতে চোলাই মদ উদ্ধারে গেলে পুলিশের ওপর হামলা করা হয়। এতে তাদের আট সদস্য আহত হন। তাদের হেফাজত থেকে ১৮ লিটার চোলাই মদ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় পৃথক মামলা হলেও বুধবার দুপুর পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY