বিদায় বেলায় প্রধান বিচারপতির একগুচ্ছ পরামর্শ

0
210
বিদায় বেলায় প্রধান বিচারপতির একগুচ্ছ পরামর্শ

উচ্চ আদালতের বিচারক নিয়োগ প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও দ্রুততর করতে আইন প্রণয়নের তাগিদ দিয়ে গেলেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন।

বুধবার (১৫ ডিসেম্বর) অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির দেওয়া বিদায় সংবর্ধনায় এ তাগিদ দেন প্রধান বিচারপতি।

অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আগে বিচারপতি মাহমুদ হোসেন আপিল বেঞ্চে বিচারিক কাজে অংশ নেন। বিদায় সংবর্ধনার পর বুধবার আর আপিল বিভাগ আর বসেনি। এ সময় আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি, আইনজীবীরা সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

তিনি বলেন, ‘সংবিধানের আলোকে বিচারপতি নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রণয়ন করা ‘বাস্তবতার নিরিখে অপরিহার্য’। এতে বিচারপতি নিয়োগের কাজটি ‘আরও স্বচ্ছ ও দ্রুততর’ হবে এবং জনগণের মধ্যে বিচারপতি নিয়োগের স্বচ্ছতা সম্পর্কে ভিত্তিহীন ধারণা দূর হবে।’

দেশের বিচারকের সংখ্যা দ্বিগুণ করার পরামর্শ দিয়ে মামলার জট নিয়েও বিদায় অনুষ্ঠানে কথা বলেন বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন।

তিনি বলেন, ‘এ কথা অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই যে, এখনও বাংলাদেশের আইন ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ জনগণের প্রবল আস্থা রয়েছে। কিন্তু মামলার সংখ্যা বিবেচনায় বিচারকের সংখ্যা অপ্রতুল। মামলার জট নিরসনে দেশের অধঃস্তন আদালত থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত বিচারকের সংখ্যা পর্যায়ক্রমে দ্বিগুণ করা প্রয়োজন।’

বিচার বিভাগের কাঠামোগত উন্নয়ন নিয়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘বিচারকদের কাজের পরিবেশ সৃষ্টির জন্য ভৌত অবকাঠামোগত উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা ‘বাঞ্ছনীয়’।’

শারীরিক উপস্থিতির আদালতের পাশাপাশি ভার্চুয়াল আদালত চালু রাখার আহ্বান জানিয়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘যুগপতভাবে বিচারকার্য পরিচালনা করলে বিচার নিষ্পত্তি আরও দ্রুততর হবে বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।’

মামলাজট কমাতে দ্বিগুণ বিচারক নিয়োগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বিদায়ী প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘দেশে বিদ্যমান মামলার পরিসংখ্যান থেকে এটা প্রতীয়মান হয় যে, বিচারের অভিগম্যতা অনেক বেড়েছে। এ কথা অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই যে, এখনও বাংলাদেশের আইন ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ জনগণের প্রবল আস্থা রয়েছে। সাধারণ মানুষ মনে করে বিচার বিভাগ তাদের অধিকার ও স্বাধীনতা রক্ষার চূড়ান্ত অভিভাবক। বিচারের সমতার নীতি প্রয়োগের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জনে নিরন্তর কাজ করতে হবে। এ কথা অনস্বীকার্য যে, মামলার সংখ্যা বিবেচনায় আমাদের বিচারকের সংখ্যা অপ্রতুল।

তিনি বলেন, মামলা জট নিরসনে দেশের অধস্তন আদালত থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত বিচারকের সংখ্যা পর্যায়ক্রমে দ্বিগুণ করা প্রয়োজন। জেনে খুশি হয়েছি যে, উচ্চ আদালতে বিচারপতি নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রণয়নের লক্ষ্যে সরকার কাজ শুরু করেছে। সংবিধানের আলোকে বিচারপতি নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রণয়ন করা বাস্তবতার নিরিখে অপরিহার্য। এতে বিচারপতি নিয়োগের কাজটি আরও স্বচ্ছ ও দ্রুত হবে এবং জনগণের মধ্যে বিচারপতি নিয়োগের স্বচ্ছতা সম্পর্কে ভিত্তিহীন ধারণা দূরীভূত হবে।

দেশের আদালতগুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়নে গুরুত্বারোপ করে ২২তম প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘বিচার বিভাগের অবকাঠামোগত উন্নয়নে সরকার নিরন্তর কাজ করলেও অনেক জেলায় এখনো জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেসি বিল্ডিং নির্মাণ কাজ সমাপ্ত হয়নি। ফলে একই এজলাসে একাধিক বিচারককে কাজ করতে হয়। এতে সময়ের অপচয় হয়। সংগত কারণে বিচারকদের কাজের পরিবেশ সৃষ্টির জন্য ভৌত অবকাঠামোগত উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা বাঞ্ছনীয়। ভার্চুয়াল কোর্টের মাধ্যমে বিচারকার্য পরিচালনার জন্য ফিজিক্যাল কোর্টের মতো তেমন অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধার প্রয়োজন নেই। এক্ষেত্রে ফিজিক্যাল এবং ভার্চুয়াল কোর্ট যুগোপতভাবে বিচারকার্য পরিচালনা করলে বিচার নিষ্পত্তি আরও দ্রুততর হবে বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।’

আগামী ৩১ ডিসেম্বর অবসরে যাচ্ছেন দেশের ২২তম প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। এর আগে বুধবারই ছিল তার শেষ কর্মদিবস।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY