শেখ মুজিব সাফারি পার্কে জেব্রার সঙ্গে বাঘও মরেছে

0
168

গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে ২ জানুয়ারি থেকে একের পর একে জেব্রার মৃত্যু হয়। প্রাণীগুলোর মৃত্যুর খবর তাত্ক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। ২৪ জানুয়ারি হঠাৎ ৯টি জেব্রার মৃত্যুর খবর আসে। শনিবার আরো একটি জেব্রার মৃত্যু হয়।

এখন শোনা যাচ্ছে, ১৮ দিন আগে একটি বাঘেরও মৃত্যু হয়েছে।

গতকাল রবিবার দুপুর পর্যন্ত বাঘের মৃত্যুর বিষয়টি গোপন রাখেন সাফারি পার্কের কর্মকর্তারা। জেব্রার মৃত্যুর ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির সামনে দুপুরের পর স্থানীয় সংসদ সদস্য মুহাম্মদ ইকবাল হোসেন সবুজ বাঘের মৃত্যুর বিষয়টি জানতে চাইলে স্বীকার করেন কর্মকর্তারা।

পরে সাফারি পার্ক প্রকল্প পরিচালক মো. জাহিদুল কবির বলেন, গত ১২ জানুয়ারি বাঘটি মারা যায়। মৃত বাঘটি পুরুষ ছিল। তাঁর দাবি, বাঘটি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিল। অসুস্থ অবস্থাতেই মৃত্যু হয়।

সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. তবিবুর রহমান জানান, পার্ক প্রতিষ্ঠার পর বাঘটি দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে আনা হয়েছিল। এর বয়স হয়েছিল ১৪ বছরেরও বেশি।

পুরুষ বাঘটির মৃত্যু হওয়ায় সাফারি পার্কে বাঘের সংখ্যা কমে ৯-এ নামল।

সাফারি পার্কের নির্ভরশীল একটি সূত্র জানায়, বাঘের মৃত্যুর ঘটনাটি সেখানে অনেক কর্মচারীই জানতেন না। বাঘটি মারা যাওয়ার পর গোপনে ময়নাতদন্ত করা হয়। এরপর মৃত বাঘটি সাফারি পার্কের ভেতরে মাটিচাপা দেওয়া হয়। এরই মধ্যে বাঘ মারা যাওয়ার তথ্য পেয়ে এই প্রতিবেদক শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে প্রকল্প পরিচালক মো. জাহিদুল কবিরের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেছিলেন, ‘না, কোনো বাঘ মারা যায়নি। ’

তবিবুর রহমান জানান, প্রায় দুই মাস আগে বাঘটির সামনের বাঁ পায়ে ক্ষত দেখা দিয়েছিল। এর ১৫ দিন পর ওই পায়ে অস্ত্রোপচার করা হয়। পরে বাঘটি সুস্থ হয়ে ওঠে। কিন্তু এর কয়েক দিন পর ফের অসুস্থ হয়ে পড়ে। ওই সময় খাওয়া ছেড়ে দেয়। এতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদলের পরামর্শে খাবার পরিবর্তন করে গরুর মাংসের বদলে মুরগি দেওয়া হয়। দুই দিন দুটি মুরগি খায়। এরপর আবার খাবার খাওয়া ছেড়ে দেয়। ওই অবস্থায় গত ১২ জানুয়ারি মারা যায় বাঘটি।

এর আগে ২০১৪ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি সুন্দরবন থেকে আহত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া একটি বাঘিনী চিকিৎসাধীন অবস্থায় গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে মারা যায়। ২০১৮ সালের ১ এপ্রিল সাফারি পার্কের বন্য প্রাণী চিকিৎসালয়ে মারা যায় তিন পা ওয়ালা একটি বাঘিনী। এটি উদ্ধার হয়েছিল সুন্দরবনসংলগ্ন খুলনার কয়রা উপজেলার দক্ষিণ বেতকাশি গ্রাম থেকে। ২০১৯ সালের ১৩ আগস্ট মারা যায় আরো একটি বাঘিনী। বাঘিনীটির জন্ম হয়েছিল এই সাফারি পার্কেই। জেব্রা মারা গেল ১১টি

সাফারি পার্কে গত ২৮ দিনের ব্যবধানে ১১টি জেব্রার মৃত্যু হয়েছে। সর্বশেষ শনিবার দুপুরে ও সন্ধ্যায় দুটি জেব্রা মারা যায়। পার্কের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী সেখানে মোট জেব্রা ছিল ৩২টি।

সাফারি পার্ক প্রকল্প পরিচালক মো. জাহিদুল কবির গতকাল বিকেলে জানিয়েছেন, অন্য পশুদের সঙ্গে মারামারিতে শাবকসহ দুটি জেব্রা অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। চিকিৎসায় দুটি জেব্রাই সুস্থ হয়ে উঠেছে।

জেব্রা মরেনি, মারা হয়েছে

গতকাল দুপুরে সাফারি পার্কে যান গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুহাম্মদ ইকবাল হোসেন সবুজ। ওই সময় তদন্তদলসহ সাফারি পার্কের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও কথা বলেন তিনি। ওই সময় তদন্তদলকে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করছি, জেব্রাগুলো মরেনি, মারা হয়েছে। দুটি জেব্রার পেটে একটি করে আঘাতের আলামত ছিল। আগ্রাসী কোনো প্রাণীর শিংয়ের আঘাত হলে দুটি আঘাতের আলামত থাকত। যেহেতু প্রাণীর শিং দুটি। ’ তিনি বলেন, ‘জাতির পিতার নামে এই সাফারি পার্ক। এটা আমাদের আবেগ-ভালোবাসার জায়গা। জেব্রার মৃত্যুর ঘটনায় আমি নিজে বাদী হয়ে থানায় অভিযোগ করব। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন হোক। ’

রিপোর্ট গেল দক্ষিণ আফ্রিকায়

জেব্রার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফল দক্ষিণ আফ্রিকায় পাঠানো হয়েছে। গতকাল পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এ ছাড়া জেব্রার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে দায়িত্বে অবহেলাকারীদের শনাক্তকরণ এবং করণীয় বিষয়ে মতামত প্রদানের লক্ষ্যে গঠিত মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি গতকাল সাফারি পার্ক পরিদর্শন করেছে।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY