জনজীবনে মাঘের বৃষ্টিতে অস্বস্তি

0
151

বৃষ্টি দেখে বর্ষাকাল মনে হলেও ঋতুতে এখন শীতকাল। মাঘের শেষে বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। শুক্রবার (৪ জানুয়ারি) ভোর থেকে দেশের বিভিন্ন জেলায় শুরু হয়েছে বৃষ্টি। কোথাও তা মুষলধারে আবার কোথাও গুঁড়ি গুঁড়ি। এতে শীতের তীব্রতা যেমন বেড়েছে তেমনি জনজীবনে নেমেছে অস্বস্তি। জেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো রিপোর্ট।

নওগাঁ: সকাল ৬টা পর্যন্ত ১১ দশমিক ৭ মিলিমিটার এবং বিকেল ৩টার পর ১৯ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া সকাল ৬টা পর্যন্ত সর্বনিম্ন ১৪ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত টানা ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হয়েছে। দুপুর পর থেকে থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে।

বদলগাছী কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, আকাশ মেঘাচ্ছন্ন রয়েছে। কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ী দমকা/ঝড়ো হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হয়েছে। শনিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

নীলফামারী: ভোর থেকে শুরু হয় গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি। এক সময় তা মুষলধারে শুরু হয়। বৃষ্টির কারণে সকাল থেকেই জেলার বেশিরভাগ উপজেলায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। কৃষি অফিস জানিয়েছে, মাঘের বৃষ্টিতে ফসলের কোনো ক্ষতি হবে না। এ বৃষ্টিতে ধান ও গমের জন্য আর্শীবাদ। তবে বৃষ্টিতে জনজীবনে অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে। বেড়েছে শীতের প্রকোপ।

ডিমলা আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ মো. জামাল উদ্দিন জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ১২ দশমিক ২ ও সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত ১১ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় আরও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।

কুড়িগ্রাম: একদিকে ঠান্ডা অন্যদিকে বৃষ্টি। ফলে জেলাজুড়ে জনজীবনে নেমেছে স্থবিরতা। প্রায় আট ঘণ্টা ধরে চলা হালকা বৃষ্টিপাত শনিবার (৫ জানুয়ারি) পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। এরপর জেলাজুড়ে মৃদু শৈত্য প্রবাহ বয়ে যেতে পারে বলে রাজারহাট আবহাওয়া অফিস পূর্বাভাসে জানিয়েছে।

শুক্রবার সকাল ৯টার কুড়িগ্রামের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সকাল ৯টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টায় ১১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

জামালপুর: জামালপুরের সদর, বকশিগঞ্জ, দেওয়ানগঞ্জ, ইসলামপুর, মাদারগঞ্জ, মেলান্দহ ও সরিষাবাড়ী উপজেলায় ভোররাত থেকেই গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। আবার কোথাও কোথাও ভারি বর্ষণও হয়েছে।

বরগুনা: দুপুর থেকে থেমে থেমে দমকা হাওয়া ও বৃষ্টি শুরু হয়। বিকেল গড়ালেও বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। মাঘের এ বৃষ্টিতে বিপাকে পড়েছেন শ্রমিক, কৃষক ও সাধারণ মানুষ। বৃষ্টির কারণে বরগুনায় কমতে শুরু করেছে তাপমাত্রা।

বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ড কার্যালয়ের পানি পরিমাপক মো. মাহতাব হোসেন বলেন, বৃষ্টির পরিমাণ রেকর্ড করা হয়নি। তবে শীত অনুভূত হচ্ছে। বৃষ্টিপাতের পর তাপমাত্রা আরও হ্রাস পেতে পারে।

বরগুনা কৃষি অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) এস এম বদরুল আলম বলেন, একদিনের বৃষ্টিপাতে তেমন কোনো ক্ষতির আশংকা নেই। তবে বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে ফসলের ক্ষতি হতে পারে।

লক্ষ্মীপুর: দুপুর থেকে দমকা ও ঝড়ো হাওয়া শুরু হয়েছে। বিকাল নাগাদ টানা গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির সঙ্গে ঠান্ডা বেড়েছে। ফলে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘর থেকে বের হয়নি। বৃষ্টি আর শীতের কারণে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন চরের বৃদ্ধ ও শিশুরা।

রায়পুর উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আলী আকবর বলেন, বৃষ্টির কারণে সয়াবিন চাষিরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। টানা বৃষ্টি হলে চারা গজানোর আগেই বীজ পচে যাবে।

সিরাজগঞ্জ: সকাল থেকে হাল্কা ও মাঝারি বৃষ্টিপাতের কারণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জেলার জনজীবন। বৃষ্টির কারণে বেড়েছে শীত। তাড়াশ আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষণ (ভারপ্রাপ্ত) কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, সকাল থেকে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন। মাঝারি ও হালকা বৃষ্টি হচ্ছে। সকাল ৬টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৬ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসে ঘণ্টায় ১০ থেকে ১২ কিলোমিটার গতিবেগ। বৃষ্টির সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ২৮ মিলিমিটার রেকর্ড করা হয়ছে।

বরিশাল: সকাল থেকেই আকাশ মেঘাচ্ছন্ন। দুপুর পৌনে ২টা থেকে বরিশালের বিভিন্নস্থানে বৃষ্টিপাত শুরু হয়। বৃষ্টির কারণে নগরীতে যানবাহনের সংখ্যাও অনেক কম ছিল। সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কখনো হালকা আবার কখনো ভারি বৃষ্টি হয়েছে।

বরিশাল আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র পর্যবেক্ষণ করমকর্তা মো. আনিসুর রহমান জানান, পশ্চিমা লঘুচাপের বর্ধিতাংশ দেশের পশ্চিম অঞ্চল ও তৎসংলগ্ন উত্তর বঙ্গোপসাগেরে অবস্থান করছে। লঘুচাপের প্রভাবে বৃষ্টি হচ্ছে। হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি রাত পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। রাতের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি কমতে পারে। শনিবারের (০৫ ফেব্রুয়ারি) মধ্যে আবহাওয়া স্বাভাবিক হতে পারে। তবে বৃষ্টির কারণে শীতের তীব্রতা কিছুটা বাড়বে।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY