সাফারি পার্কে প্রাণী মৃত্যুর বিষয়টি গোপন রাখে কর্তৃপক্ষ?

0
144
সাফারি পার্কে প্রাণী মৃত্যুর বিষয়টি গোপন রাখে কর্তৃপক্ষ?

গাজীপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে একের পর এক প্রাণী মারা যাচ্ছে। মাত্র এক মাসের ব্যবধানে মারা গেছে ১১টি জেব্রা ও একটি বাঘ। এর আগেও বাঘ, সিংহ, ক্যাঙ্গারু, জেব্রাসহ নানা প্রাণী মারা গেলেও বিষয়টি গোপন রাখে কর্তৃপক্ষ। প্রাণী মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যাও মিলছে না। আন্তর্জাতিক মানের পার্ক হলেও পরিবেশসহ সার্বিক বিষয় নিয়ে হতাশ দর্শনার্থীরা।

২০১১ সালের ২ ফেব্রুয়ারি গাজীপুর সদরের পিরুজালী এবং শ্রীপুরের বড় রাথুরা মৌজায় প্রায় ৬৪ কোটি টাকা ব্যয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কের নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০১৩ সাল যাত্রা শুরু হয় এ পার্কের।

পার্কটিতে বাঘ, সিংহ, ভাল্লুক, হাতি, জেব্রা, জিরাফ, হরিণ, সাপ ও কুমিরসহ প্রায় ৭০ প্রজাতির দেশি-বিদেশি পশু-পাখি রয়েছে।

সম্প্রতি একে একে ১১টি জেব্রা, একটি বাঘ ও সিংহীর মৃত্যুর ঘটনায় আলোচনায় আসে পার্কটি। এর আগেও মারা গেছে এখানকার অনেক পশু-পাখি। করোনা সংক্রমণের আগে লেকে ঘুরে বেড়াতো ২০০ বেশি বিদেশি হাঁস। এখন একটি হাঁসও নেই। একসময় ক্যাঙ্গারু থাকলেও অস্তিত্ব নেই একটিরও। মৃত্যুর কোনো সুনির্দিষ্ট কারণও জানাতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।

পারুল আক্তার নামে এক গৃহিণী বলেন, করোনার আগে এসেছিলাম, আবার এবার আসলাম। নাম অনুযায়ী পার্কের প্রতি মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি উচ্চমানের। সে অনুযায়ী ঢাকা চিড়িয়াখানার মতো অনেকগুলো প্রাণী থাকলে ভালো হতো। প্রাণীর সংখ্যা কম, আয়তন বাড়ানো প্রয়োজন।

ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী তন্ময় বলেন, সাফারি পার্কে টিকিটের মূল্য ৫০ টাকা বাড়িয়ে ১৫০ টাকা করা হয়েছে। কিন্তু সেই অনুযায়ী সেবা বাড়েনি।

আরও অনেকে অভিযোগ করে বলেন, টিকিটের দাম বাড়ালেও পার্কের ভেতরের পরিবেশের কোনো উন্নয়ন হয়নি। পশু-পাখিদের যত্ন ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতায় আছে অবহেলার ছাপ।

গাজীপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কের নতুন প্রকল্প পরিচালক মোল্লা রেজাউল করিম বলেন, এতগুলো প্রাণীর মৃত্যুতে পার্কের আগের ব্যবস্থাপনায় রদবদল এসেছে। সবার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ শুরু করতে হবে।

সাফারি পার্কের মান উন্নয়ণ এবং প্রাণীদের রক্ষণাবেক্ষণে কর্মকর্তা-কর্মচারীদর আরও আন্তরিক হওয়ার তাগিদ দিয়েছে, দর্শণার্থী ও সচেতন মহল।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY