প্রথমে উত্ত্যক্ত করে ঝগড়া বাধায়, পরে তুলে নিয়ে সেই ছাত্রীকে দলবেঁধে ধর্ষণ

0
146
প্রথমে উত্ত্যক্ত করে ঝগড়া বাধায়, পরে তুলে নিয়ে সেই ছাত্রীকে দলবেঁধে ধর্ষণ

গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) এক ছাত্রীকে দলবেঁধে ধর্ষণ ও তার বন্ধুকে মারধরের ঘটনায় জড়িতরা সবাই মাদকসেবী এবং বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িত বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

র‌্যাব জানায়, ওই ছাত্রী তার এক বন্ধুকে নিয়ে গোপালগঞ্জ সদর থেকে কেনাকাটা শেষে মেসে ফিরছিলেন। শহর থেকে একটু দূরে হেলিপ্যাড এলাকায় তারা পৌঁছলে তাদের গতিরোধ করে পাঁচ যুবক। এরপর ওই ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করে অশালীন কথাবার্তা বলতে থাকে তারা। এ সময় প্রতিবাদ করায় বন্ধুকে মারধর করে ওই ছাত্রীকে তুলে নিয়ে দলবেঁধে ধর্ষণ করা হয়।

এ ঘটনায় গতকাল (শুক্রবার) দিবাগত রাতে ছয়জনকে গোপালগঞ্জ জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব। তারা হলো- রাকিব মিয়া ওরফে ইমন (২২), পিয়াস ফকির (২৬), প্রদীপ বিশ্বাস (২৪), নাহিদ রায়হান (২৪), মো. হেলাল (২৪) ও তূর্য মোহন্ত (২৬)।

তাদের গ্রেফতারের পর শনিবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেখানে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন র‌্যাব সদর দপ্তরের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইং পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

খন্দকার আল মঈন বলেন, সম্প্রতি গোপালগঞ্জে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী গণধর্ষণের শিকার হন। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি রাতে ভুক্তভোগীসহ দুই শিক্ষার্থী গোপালগঞ্জ সদরের নবীনবাগ হেলিপ্যাডের সামনে থেকে হেঁটে মেসে যাওয়ার সময় কতিপয় দুর্বৃত্ত নাম ঠিকানা জিজ্ঞাসা করে বাদানুবাদে লিপ্ত হয়। একপর্যায়ে ভিকটিমকে জোরপূর্বক স্থানীয় একটি ভবনে নিয়ে দলবেঁধে ধর্ষণ করে।

এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে গোপালগঞ্জ সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। চাঞ্চল্যকর ও আলোচিত এঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে র‌্যাব গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে। এরই ধারাবাহিকতায় র‌্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখা ও র‌্যাব-৮ এর অভিযানে শুক্রবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) গোপালগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে গণধর্ষণের ঘটনায় জড়িত ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়।

তিনি বলেন, ধর্ষণে জড়িত ব্যক্তিরা পেশাদার অপরাধী। তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা দলবদ্ধ ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।

র‌্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, গ্রেফতার ব্যক্তিরা মূলত রাকিবের নেতৃত্বে স্থানীয় একটি অপরাধী চক্রের সদস্য। তারা গোপালগঞ্জ ও আশপাশের এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা। তাদের মধ্যে তূর্য মোহন্ত ছাড়া এই চক্রের অন্য সবাই ৮-১০ বছর ধরে নবীনবাগ এলাকার বিভিন্ন স্থানে মাদকসেবন, আড্ডা, জুয়া, চুরি-ছিনতাইসহ বিভিন্ন ধরনের অপকর্মে লিপ্ত ছিল। ঘটনার দিনও তারা হেলিপ্যাড এলাকায় মদের আসর বসিয়েছিল। তারা বিভিন্ন সময় রাস্তাঘাটে স্কুল-কলেজের ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করত বলে জানা গেছে। তাদের বিরুদ্ধে থানায় মামলাও রয়েছে।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY