১২ রাউন্ড গুলির পর দুবাইয়ে মেসেজ দেওয়া হয় ‘‘ইট ইজ ডান’’

0
141
১২ রাউন্ড গুলির পর দুবাইয়ে মেসেজ দেওয়া হয় ‘‘ইট ইজ ডান’’

সম্প্রতি রাজধানীর শাহজাহানপুরে আওয়ামী লীগ নেতা জাহিদুল ইসলাম টিপুকে হত্যা করতে পরপর ১২ রাউন্ড গুলি করার পরই গ্রেফতার নাসির উদ্দিন আন্ডারওয়ার্ল্ড ডন মুসাকে একটি ভিডিওর মাধ্যমে মেসেজ দেন: ‘ইট ইজ ডান’। অর্থাৎ, টিপু হত্যার মিশন সফল। ওই ঘটনায় সড়কে যানজটে আটকা পড়ে টিপুর গাড়ির পাশে থাকা রিকশা আরোহী কলেজছাত্রী সামিয়া প্রীতিও নিহত হন।

এরপরই জোড়া হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্‌ঘাটনে মাঠে নামে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গ্রেফতার করা হয় মাস্টারমাইন্ডসহ আরও চারজনকে।

তাদের গ্রেফতারের পর শনিবার (২ এপ্রিল) দুপুরে র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানায় লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন ওমর ফারুক (৫২), আবু সালেহ শিকদার (৩৮), নাসির উদ্দিন (৩৮) ও মোরশেদুল আলম (৫১)। শুক্রবার (১ এপ্রিল) রাতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

এর আগে টিপু-প্রীতি হত্যাকাণ্ডের ৪৮ ঘণ্টা পর গত ২৬ মার্চ রাতে বগুড়া থেকে শুটার মাসুম মোহাম্মদ ওরফে আকাশ এবং রাজধানীর কমলাপুর থেকে অস্ত্রসহ আরফান উল্লাহ দামালকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশ। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের মতিঝিল বিভাগ বলছে, মাসুমই ব্যস্ত সড়কে প্রকাশ্যে টিপুকে গুলি করে হত্যা করে।

সংবাদ সম্মেলনে আল মঈন জানান, হত্যাকাণ্ডের দিন নাসির ও পলাশ এজিবি কলোনি থেকে টিপুকে অনুসরণ করেছেন। আর ওমর ফারুকও শাহজাহানপুর এলাকায় ছিলেন। টিপুর গতিবিধি তাৎক্ষণিকভাবে মুসাকে জানিয়েছেন তারা। আর মুসা সেই আপডেট জানিয়েছেন হত্যাকারীদের। টিপুকে গুলির পর মুসাকে মেসেজ দেন নাসির: ‘ইট ইজ ডান’।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ভিকটিম ও হত্যার পরিকল্পনাকারীদের মধ্যে বিরোধ ছিল। মতিঝিল এলাকার চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, স্কুল-কলেজের ভর্তি-বাণিজ্য, বাজার নিয়ন্ত্রণ, আধিপত্য বিস্তার নিয়েও তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব-সংঘাত চলে আসছিল। আর এসব দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করেই টিপুকে হত্যা করা হয়।

আল মঈন আরও বলেন, তিন থেকে চার মাস আগে টিপু হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিকাশ-প্রকাশ গ্রুপের অন্যতম কিলার আন্ডারওয়ার্ল্ড ডন সুমন শিকদার মুসার সঙ্গে ১৫ লাখ টাকার চুক্তি করে ওমর ফারুক। এর মধ্যে প্রথমে মুসাকে ৯ লাখ টাকা দেয় ওমর ফারুক। মার্চের ১২ তারিখে টাকা নিয়ে দুবাই চলে যায় মুসা। সেখানে বসে সে কিলার নিয়োগ করা থেকে শুরু করে হত্যার পরিকল্পনা করে।

র‌্যাব জানায়, রাজধানীর গুলশান শপার্স ওয়ার্ল্ডের সামনে ২০১৩ সালের ২৯ জুলাই রাতে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের তৎকালীন সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াজুল হক খান মিল্কীকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। মিল্কী হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জাহিদুল ইসলাম টিপু জড়িত ছিলেন বলে তার সহযোগীরা সন্দেহ করতেন। ওই হত্যা মামলায় টিপুকে আসামিও করা হয়। এরপর বিচারিক কার্যক্রমে মামলা থেকে টিপুর তার নাম বাদ পড়লে গ্রেফতার ব্যক্তিরা ক্ষুব্ধ হন। সেই থেকে হত্যার পরিকল্পনা শুরু হয় বলে জানায় র‌্যাব।

গত ২৪ মার্চ রাত ১০টার দিকে জাহিদুল ইসলাম টিপু মাইক্রোবাসে শাহজাহানপুর আমতলায় পৌঁছালে দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে কাছ থেকে গুলি করে। এতে জাহিদুল ও তার গাড়িচালক মুন্না গুলিবিদ্ধ হন। এ সময় জাহিদুলের গাড়ির পাশে রিকশায় থাকা বদরুন্নেসা কলেজের ছাত্রী প্রীতিও গুলিবিদ্ধ হন। তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জাহিদুল ও প্রীতিকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় পরদিন শুক্রবার (২৫ মার্চ) দুপুরে নিহত জাহিদুল ইসলাম টিপুর স্ত্রী ফারজানা ইসলাম ডলি বাদী হয়ে শাহজাহানপুর থানায় অজ্ঞাতদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন।

যদিও প্রীতির বাবার বক্তব্য: মেয়ে হত্যার বিচার চাই না। মামলা চালানোর মতো অবস্থাও নেই। আমরা নিরীহ মানুষ। বিচার চাইলে আল্লাহর কাছে চাই। তিনিই বিচার করবেন।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY