এবার বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর তোড়জোড়

0
109
এবার বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর তোড়জোড়

গ্যাসের পর এবার শুরু হলো বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর আনুষ্ঠানিক তোড়জোড়। ৩০ হাজার কোটি টাকা ঘাটতি দাবি করে পাইকারি পর্যায়ে ৬৬ শতাংশ দাম বাড়ানোর প্রস্তাব বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড-পিডিবির। আর এ আবেদনের ওপর আগামী মাসে গণশুনানি করতে যাচ্ছে বিইআরসি। তবে দাম বাড়ানোর উদ্যোগের প্রশ্ন তুলে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অযৌক্তিক ব্যয়বৃদ্ধি, ভুল নীতি, দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা দূর করতে পারলে উল্টো দাম কমানো সম্ভব হত।

নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাসের মধ্যেই গত মাসে হয়ে গেল গ্যাসের দাম বাড়ানোর বিষয়ে গণশুনানি। যেখানে বিতরণ কোম্পানিগুলোর প্রস্তাব ছিল গ্রাহক পর্যায়ে গড়ে ১১৭ শতাংশ দাম বাড়ানোর।

এমন নাকাল পরিস্থিতিতে এবার দুই বছরের মাথায় আবারো বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর আনুষ্ঠানিক তোড়জোড়। এরই মধ্যে আগামী ১৮মে বিদ্যুতের পাইকারি বাড়ানোর আবেদনের ওপর গণশুনানির দিন ঠিক করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন-বিইআরসি।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড-পিডিবির আবেদনে দাবি করা হয় দাম সমন্বয় না হলে বছরে লোকসান গুনতে হবে ৩০ হাজার কোটি টাকা। ঘাটতি মেটাতে প্রস্তাব করা হয় পাইকারি পর্যায়ে ৬৬ শতাংশ দাম বাড়ানোর। আবার গ্যাসের দাম বাড়লে সে হারে বিদ্যুতের দামও সমন্বয়ের আবেদন পিডিবির।

বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, আমাদের বিদ্যুতের দাম এখনো বলা যেতে পারে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে নিম্ন। আমাদের ইনফ্রাস্টাকচারে বিনিয়োগ হচ্ছে সেটা তো তুলতে হবে। আরেকটা বিষয় হলো বিশ্ব বাজারে বিদ্যুতের দাম বেড়ে যাওয়া। এ বিষয়গুলোকে মাথায় রেখে সামনে আগানো এটা আমদের জন্য বড় একটা চ্যালেঞ্জ।

পাইকারি হারে দাম বাড়লে সমান প্রভাব পড়বে গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দামেও। এরই মধ্যে গত ১১ বছরে ভোক্তা পর্যায়ে দাম বেড়েছে ৯ দফা, আর পাইকারি পর্যায়ে ৬ দফা।

দাম বাড়ানোর উদ্যোগ সরকারের বিদ্যুৎ মহাপরিকল্পনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক উল্লেখ করে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অলস বিদ্যুৎকেন্দ্র বসিয়ে রেখে ক্যাপাসিটি চার্জ পরিশোধ, সিস্টেম লস, জ্বালানি সাশ্রয়ে ব্যর্থতাসহ অযৌক্তিক ব্যয়বৃদ্ধি, বিভিন্ন ভুল নীতি আর দুর্নীতি-অব্যবস্থাপনার দায় চাপানো হচ্ছে সাধারণ মানুষের ওপর।

পাওয়ার সেলের সাবেক মহাপরিচালক প্রকৌশলী বি. ডি রহমতুল্লাহ বলেন, আমাদের ক্যাপাসিটি হচ্ছে ২৪০০ হাজার মেগাওয়াট, এভারেজে আমাদের পিক ডিমান্ড কিন্তু সাড়ে নয় থেকে সাড়ে দশ। আমাদের তো ১০০ শতাংশ স্পেলিং রিজার্ভ দেওয়ার তো কোনো নিয়ম নেই। এটি দিলে ক্যাপাসিটি চার্জ দিচ্ছেন, তেল নষ্ট করছি, লোকজনের বেতন দিচ্ছি। এর মাধ্যমে আমি সব কিছুর ক্ষতি করছি।

এর আগে সবশেষ ২০২০ সালের মার্চ থেকে গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয় ৫ দশমিক ৩ শতাংশ।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY