গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো আফরিন ফাতেমার বাড়ি

0
187
সংগৃহীত

ভারতের ছাত্র আন্দোলনের নেতা আফরিন ফাতেমা ও তার বাবা জাভেদ মোহাম্মদের বাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। নবী মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে বিজেপি নেতার কটূক্তির প্রতিবাদে উত্তরপ্রদেশে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। এতে অংশ নেওয়ায় রোববার (১২ জুন) বুলডোজার দিয়ে এলাহাবাদ কর্তৃপক্ষ তার বাড়ি মাটিতে মিশিয়ে দিয়েছে।   খবর দ্য উইয়ারের

২২ বছর বয়সী তরুণী আফরিনের বাবা ভারতের ওয়েলফেয়ার পার্টির একজন নেতা। শুক্রবারের বিক্ষোভে সহিংসতার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে এই বাবা-মেয়ের বিরুদ্ধে। শনিবার উত্তরপ্রদেশের এলাহাবাদ পৌর কর্তৃপক্ষ তাদের বাড়িতে একটি নোটিস ঝুলিয়ে পরিবারকে ঘর খালি করে দিতে বলেছে।

পরেরদিন রোববার সকালে সরকারি বুলডোজার এসে বাড়িটি মাটিতে মিশিয়ে দিয়ে যায়। সমালোচকেরা বলছেন, বিজেপিশাসিত উত্তরপ্রদেশে ‘বুলডোজার রাজনীতির’ শিকার আফরিন ফাতেমা ও জাভেদ মোহাম্মদ।

ওয়েলফেয়ার পার্টির ছাত্রশাখা ফ্রাটারনিটি মুভমেন্টের সেক্রেটারি আফরিন ফাতেমা। ২০২১ সালে জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয় (জিএনইউ) থেকে তিনি মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। সেখানকার স্টুডেন্টস ইউনিয়নের একজন কাউন্সিলরের দায়িত্ব পালন করেন আফরিন। এছাড়া আলিগর মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের ওমেন কলেজ স্টুডেন্টস ইউনিয়নেরও সাবেক সভাপতি ছিলেন এই তরুণী।

কর্নাটকে হিজাব নিষিদ্ধ, মুসলিম নারীবিদ্বেষী বুল্লি বাই অ্যাপ ও নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে তার ভূমিকা ছিল অগ্রগণ্য। এলাহাবাদের মুসলিম তরুণীদের নিয়ে একটি কমিউনিটি গঠন করেন আফরিন ও তার বোন সুমাইয়া। মুসলিম মেয়েদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে তারা এমন উদ্যোগ নেন।

গেল অক্টোবরে ‘মুসলিমাহ এলাহাবাদ’ নামের একটি পাঠচক্রের আয়োজন করেন আফরিন ফাতেমা। এতে ৭০ জনের বেশি সদস্য রয়েছেন। ২০২০ সালে এলাহাবাদের খুলদাবাদের মনসুর আলী পার্কে একটি বিক্ষোভে বক্তৃতা করেন এই তরুণী। মুসলমানদের ভারত থেকে তাড়িয়ে দিতে করা নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে ওই বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়েছিল।

স্থানীয় সিনিয়র এসপি অজয় কুমার বলেন, পুলিশি জেরায় জাভেদ মোহাম্মদ স্বীকার করেন যে মেয়ে আফরিন ফাতেমা তাকে বিভিন্ন সময় পরামর্শ দিতেন।

শুক্রবার রাতে আফরিনের বাবাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া তার মা পারভিন ফাতেমা ও বোনকেও পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। পুলিশে দেওয়া এক অভিযোগে আফরিন ফাতেমা বলেন, আমার বাবা জাভেদ মোহাম্মদ, মা পারভিন ফাতেমা ও বোন সুমাইয়া ফাতেমার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছি। এলাহাবাদ পুলিশ তাদের তুলে নিয়ে গেছে।

দ্য উইয়্যারের খবর বলছে, ভারী পুলিশ প্রহরায় পৌর কর্তৃপক্ষের দুটি বুলডোজার রোববার জাভেদ মোহাম্মদের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। ঘরের সামনের ও পেছনের দরজা ভেঙে ভেতর থেকে জিনিসপত্র বাইরে ছুঁড়ে দেওয়া হয়। এরপর বাড়িটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY